যৌথ প্রেমের খামার -৪

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

যৌথ প্রেমের খামার -৪

Manual3 Ad Code

আয়শা জাহান নূপুর |

ধরো, আমি পুরোপুরি সেরে উঠলাম। ঝকঝকে রোদ উঠে গেলো শহরে। কোন মেঘ নেই আর কবিতার গায়ে। কেবল অভিমানের শিশিরে লেপ্টে আছে আমার শরীর। তুমি তখন কী করবে?

Manual7 Ad Code

আগে সেরে ওঠো।
ধরো, চিকিৎসাবিদ্যার যে খাতাটা জমা আছে সেখানে আমার অসুখের কোন নাম নেই। এক্সরে মেশিনে ব্লার হয়ে দেখা দিলো বুকের জমিন! কেবল তোমার কথা মনে পড়তেই আবার চলতে থাকলো রক্তস্রোত। তুমি তখন কী করবে?

আগে সেরে তো ওঠো।
ধরো, চোখের কাজল ছলকে ভেসে গেলো তোমার বুক পকেট! তুমি সেই রংয়ে ক্যানভাসে আঁকলে মেঘ। মেঘের ভেতর আমি। এতো কাছে পেয়ে তুলোর মতো ছুঁড়ে দিচ্ছি প্রেম, তোমার বুকে। তুমি তখন কী করবে?

Manual1 Ad Code

আমার শেষ ইচ্ছে, তোমার এ অসুখ যেন না সারে !
#
এই কবিতার সারমর্ম হলো—

Manual8 Ad Code

কবিতাটি মূলত প্রেম, অসুখ ও নিরাময়ের রূপকের ভেতর দিয়ে এক ধরনের আত্মবিরোধী ভালোবাসার কথা বলে। কবি নিজের ভেতরের মানসিক যন্ত্রণা, অভিমান ও প্রেমকে “অসুখ” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা চিকিৎসাবিদ্যার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। প্রিয় মানুষের উপস্থিতিই একমাত্র সেই অসুখকে বাঁচিয়ে রাখে, আবার তার কথাতেই জীবনচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বারবার “তুমি তখন কী করবে?” প্রশ্নের বিপরীতে “আগে সেরে ওঠো” উত্তরটি প্রেমিকের বাস্তববাদী অবস্থানকে তুলে ধরে, যেখানে সে সুস্থতা চায়, কিন্তু কবির শেষ ইচ্ছা তার উল্টো—এই প্রেমজনিত অসুখ যেন কখনো না সারে। অর্থাৎ, কবিতাটি এমন এক প্রেমের কথা বলে যেখানে যন্ত্রণা, অসুস্থতা ও ভালোবাসা আলাদা নয়; বরং ভালোবাসাই সেই মধুর অসুখ, যা চিরকাল বয়ে বেড়াতে চায় কবি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ