মৌলভীবাজারে চা বাগানে গলা কেটে হত্যা: লোভের বলি জাকির, আলামতসহ দুই আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

মৌলভীবাজারে চা বাগানে গলা কেটে হত্যা: লোভের বলি জাকির, আলামতসহ দুই আসামি গ্রেফতার

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একটি চা বাগানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই যুবককে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা, রক্তমাখা পোশাক ও লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগানের বাংলো টিলার ঢালে গলা কাটা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় জাকির হোসেন (৫০) নামে এক দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনজিলা বেগম বাদী হয়ে ৬ জানুয়ারি মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সদর থানার মামলা নং–৬ (তারিখ–৬/০১/২০২৬), ধারা–৩০২/৩৪ পেনাল কোডে রুজু করা হয়।

Manual3 Ad Code

তদন্তে নামে বিশেষ পুলিশ টিম

ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্ত দলে ছিলেন এসআই উৎপল সাহা, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই হিরণ বিশ্বাস, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান ও কনস্টেবল পিন্টু শীলসহ অন্যান্য সদস্যরা। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার দুই আসামি

Manual7 Ad Code

তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি ভোরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—স্বাধীন আহমেদ ও আকাশ রবি দাশ।
গ্রেফতারের পর ৮ জানুয়ারি সকালে আসামিদের নিয়ে মৌলভী চা বাগান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তাদের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে ঝোপের ভেতর লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীন আহমেদের ব্যবহৃত রক্তমাখা হুডি উদ্ধার করা হয়।

অর্থের লোভেই নৃশংস হত্যা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত জাকির হোসেন পেশায় দিনমজুর ছিলেন। কাজের সূত্রে প্রায় এক বছর আগে আসামি স্বাধীন আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং আর্থিক লেনদেনও শুরু হয়।

জাকির হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা থাকার বিষয়টি জানার পর আসামি স্বাধীন আহমেদ তার বন্ধু আকাশ রবি দাশকে নিয়ে তাকে হত্যা করে টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তারা জাকিরকে কৌশলে মৌলভী চা বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো দা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর জাকিরের কাছে থাকা নগদ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা অর্থ নিয়ে আসামিরা কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যায়।

উদ্ধারকৃত মালামাল

Manual2 Ad Code

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা মালামালগুলো হলো—
১. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা দা
২. আসামি স্বাধীন আহমেদের ব্যবহৃত রক্তমাখা হুডি
৩. ভিকটিমের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা নগদ ৭৬০ টাকা
৪. ভিকটিমের বিকাশের টাকা দিয়ে কেনা একটি নতুন হুডি

পুলিশি বক্তব্য

Manual7 Ad Code

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি অপরাধ দমনে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ