ইরানের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলি জায়ানবাদের হামলার তীব্র নিন্দা ওয়ার্কার্স পার্টির

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬

ইরানের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলি জায়ানবাদের হামলার তীব্র নিন্দা ওয়ার্কার্স পার্টির

Manual6 Ad Code
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ; মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রদানকারী দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ মার্চ ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বয়ান ও অজুহাত সৃষ্টি করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলি জায়ানবাদ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ওপর অন্যায় ও আগ্রাসী হামলা চালিয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।”

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, এ হামলার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে নতুন করে দস্যুবৃত্তি ও সামরিক আগ্রাসনের নীতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

Manual8 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা আরও বলেন, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং সামরিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করে আসছে। ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা।”

Manual1 Ad Code

তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি এবং তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথকে প্রশস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম দেশের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তাবেদার কিছু মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়ে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে এই আগ্রাসী দস্যুবৃত্তিকে সহায়তা করছে। তাদের এই স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এসব দেশের জনগণ শান্তিপ্রিয় হলেও শাসকগোষ্ঠীর নীতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করছে।

ওয়ার্কার্স পার্টি দাবি করে, দেশে দেশে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর নামে যে হস্তক্ষেপমূলক নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। সামরিক খবরদারি ও বাহ্যিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে, বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক ও শান্তিপ্রিয় মানুষ এসব আগ্রাসী নীতি মেনে নেবে না এবং ক্রমশই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান শক্তিশালী হবে।

নেতৃদ্বয় এক বিশ্বনীতির ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, “দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাদী নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। বিশ্বশান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

Manual8 Ad Code

বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে ইরানের ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

Manual6 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টি আশা প্রকাশ করে যে, বিশ্ববাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিহত করা সম্ভব হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ