জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে সুযোগ আছে: সিপিডি

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে সুযোগ আছে: সিপিডি

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১০ মার্চ ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল এক শ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে দেশের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে কিছু সুযোগ আছে। এ কথা জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষকেরা।

Manual4 Ad Code

সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কতটুকু প্রতিফলিত হবে, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি উপাদান (পলিসি ইনস্ট্রুমেন্ট) রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফার বাইরেও জ্বালানির ওপর দেশে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার এই কর কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়। উদাহরণস্বরূপ, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে যে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

Manual4 Ad Code

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিপিডির পরামর্শ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

Manual3 Ad Code

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ের মিলনায়তনের এই মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সূচনা বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বর্তমানে দেশে ডিজেল, অকটেন ও অন্যান্য জ্বালানির কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে উল্লেখ করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো, জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুত নেই, যা কিনা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রয়েছে। এ ধরনের রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে চাহিদার চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মেটানো যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন। তাই বাজারকে আস্থায় আনা ও নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি।

Manual3 Ad Code

সিপিডির এই সম্মাননীয় ফেলো বলেন, সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পট বায়িং করছে। ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির চুক্তিটি পুনরায় চালু করছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে মূল লক্ষ্য হলো, জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। আবার বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে রিজার্ভের ওপর যেন চাপ না পড়ে, সেদিকেও সরকারকে নজর রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেল কিনতে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো জরুরি। তার কারণ রিজার্ভের ওপর খাদ্যনিরাপত্তা ও সার আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি স্বল্পমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি মধ্য মেয়াদে জ্বালানি তেলের একটি স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা বাজারকে নিশ্চয়তা দেবে। এমনকি ভবিষ্যতে প্যানিক বায়িং থেকে নিষ্কৃতি দেবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের ভেতরে-বাইরে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন। নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার এখন হওয়া উচিত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্বব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ লাগবে।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটটি নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এটা সরকারের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতার ক্ষেত্রে কার্যকর একটা নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলা করার জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিটা শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ