সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া, ১৩ মার্চ ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, সমাজ তৈরি করে জনগণ, সে কারণে রাষ্ট্র এবং সমাজের সব ধরনের তৎপরতাকে আয়নার মতো তুলে ধরাই গণমাধ্যমের কাজ। গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক সভ্যতার জগতে সভ্যতা চর্চা করা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র এবং সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে।
অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকা সমাজ জনগণের কল্যাণে লাগতে পারে না।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন হলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত রাজশাহী বিভাগের ৭ জেলার সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সমাজ’ জনগণের কতটা কল্যাণে লাগবে, তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। সে কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো করুনার বিষয় নয়, বরং আমাদের অনিবার্য একটি দায়িত্ব।
এ কথা সঠিক, আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন দল বারবার গণমাধ্যমকে একটি রাষ্ট্রীয় যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বিএনপি সরকার ৩১ দফায় বলেছে, গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
তিনি আরো বলেন, আগে তথ্য বলতে আমরা যা বুঝতাম, এখন সেই তথ্যের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে, যোজন যোজন পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
যে কারণে অনেক মিডিয়া হাউজ তাদের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। শুরু হয়েছে সিটিজেন জার্নালিজম। তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত হয়েছে নতুন ইকোসিস্টেম। এই ইকোস্টিমের ওপর ভর করেই একজন ইউটিউবার সমৃদ্ধশালী ও শক্তিশালী জায়গা করে নিয়েছে। সে জন্য আমাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে।
সরকার যদি গণমাধ্যম স্বাধীন, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল করতে চায়, তাহলে সরকারকে এই ইকোসিস্টেমের ওপর ভর করেই গণমাধ্যমকে ঢেলে সাজাতে হবে। গণমাধ্যমকে স্বাধীন, অবাধ ও যুগের মঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকরী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছেন। তবে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অপতৎপরতাকে রুখতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি, মজলুম নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতৃভূমি। এখানে সাংবাদিকদের ওপর আর কোনো অত্যাচার হবে না। আমি ওয়াদা করছি, অতীতে এই বগুড়াকে যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা হবে এবং বেশি না হলেও তালিকা করে কমপক্ষে সাংবাদিকদের সেই ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। দেশমাতা বেগম জিয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, অনতিবিলম্বে বগুড়ায় সেই টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের কাজটি করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে, বিতরণের অপেক্ষায় কৃষিকার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি চূড়ান্ত করা হয়েছে, ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আব্দুল বাছিরের (বাছির জাামাল) সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এ বি এম রফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গনেশ দাস, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৭টি জেলার ৫১ জন সাংবাদিক এবং ৪৬ জন সাংবাদিকের মেধাবী সন্তানদের অর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি