সরকারের কাজ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, মেধাবী বাছাই করা নয়: ছাত্র ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৬

সরকারের কাজ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, মেধাবী বাছাই করা নয়: ছাত্র ইউনিয়ন

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৯ মার্চ ২০২৬ : প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ‘ভর্তি পরীক্ষা’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এই অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

Manual2 Ad Code

সকলের শিক্ষার অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, যা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ‘মেধাবী’ বাছাই করা সরকারের দায়িত্ব নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহিত করবে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা নামক যুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবতীর্ণ করাটা একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে তাদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবাপন্ন করে গড়ে তোলার পথ উন্মোচিত হবে।

Manual3 Ad Code

এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে কোচিং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঘটাবে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষার অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, এটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি, শিক্ষা অধিকার নয় বরং সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে শিক্ষা, এই নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তান ব্যতীত কৃষক-শ্রমিক-মজুরের সন্তানদের পক্ষে গুণগত শিক্ষালাভ করা সম্ভব হয় নাই। সরকারের কাজ ‘মেধাবী’ বাছাই করা নয়। আমরা মনে করি এই পৃথিবীতে কেউ মেধাহীন হয়ে জন্মায় না, শুধুমাত্র বৈষম্যের কারণে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটে না। প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো শনাক্ত করে সেটিকে আরও কার্যকরভাবে প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আরও কার্যকর পদ্ধতি নিশ্চিত করা যেতে পারে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহিত করা চলবে না। সরকার যদি ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিল না করে তবে আমরা রাজপথে থেকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের দাবি আদায় করে নিব।”

Manual4 Ad Code

নেতৃবৃন্দ আগামী অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৮ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ