ধুতুরা ফুলের আলো

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৬

ধুতুরা ফুলের আলো

Manual7 Ad Code

সাদিয়া নাজিব |

প্রেম এক ধূর্ত জ্যোৎস্না
শুধু গৃহছাড়া ডাক!
তবুও, কিছু আলো ধরেছি করপুটে
তীব্র নিশীথে দেখাবে পথ
একলা ছন্নছাড়াকে।

কামগন্ধা সে অপরূপ, হানা দেয় পাঁজরে
পুঞ্জিভূত মেঘের মতো নিকষ।

Manual4 Ad Code

উন্মুল হবো জেনেও,
নিজেকে মেলে দিই কোজাগরী রাতে।

পুরাণের সব শুদ্ধতা, নিষ্ঠা আচার রীতি
কুলুঙ্গীতে তুলে ডুব দিই কালসিন্ধুর অতলে।

ধুতুরা ফুলের আলো যখন রতির চাদরে উন্মাদ
তখন ও পুরোহিত হোমাগ্নি জ্বালছেন প্রজাপতির মন্ত্রে
শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নম:
#
ধুতুরা ফুলের আলো
সাদিয়া নাজিব
#
এই কবিতাটি মূলত প্রেম, কামনা, আত্মসমর্পণ এবং সামাজিক/ধর্মীয় শুদ্ধতার সীমা ভাঙার এক প্রতীকী ও দার্শনিক প্রকাশ। নিচে সহজভাবে সারমর্ম দেওয়া হলো।

Manual7 Ad Code

কবিতার সারমর্ম

Manual8 Ad Code

কবিতায় প্রেমকে তুলনা করা হয়েছে ধূর্ত জ্যোৎস্নার সাথে—অর্থাৎ প্রেম সুন্দর, আকর্ষণীয়, কিন্তু মানুষকে ঘরছাড়া, পথভ্রষ্ট বা অস্থির করে তোলে। তবুও কবি সেই প্রেমের কিছু আলো নিজের হাতে ধরে রাখতে চান, যাতে অন্ধকার রাতে পথ খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে প্রেম একই সঙ্গে পথভ্রষ্টও করে, আবার পথও দেখায়—এই দ্বৈততা দেখানো হয়েছে।

প্রেম ও কামনার আকর্ষণ এত শক্তিশালী যে কবি জানেন এতে তিনি ধ্বংস (উন্মূল) হতে পারেন, তবুও তিনি নিজেকে সেই প্রেমের কাছে সমর্পণ করেন। এখানে কোজাগরী রাত (পূর্ণিমা) প্রেম, সৌন্দর্য ও আত্মসমর্পণের প্রতীক।

Manual5 Ad Code

এরপর কবি বলেন, পুরাণের শুদ্ধতা, ধর্মীয় নিয়ম, সামাজিক আচার—সবকিছু সরিয়ে রেখে তিনি ডুব দেন কালসিন্ধুর অতলে—অর্থাৎ আদিম কামনা, প্রেম, জীবনসত্তা বা অস্তিত্বের গভীরে।

শেষ স্তবকে ধুতুরা ফুল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ধুতুরা ফুল সুন্দর কিন্তু নেশাজাতীয়/বিষাক্ত—এটি মোহময় কিন্তু বিপজ্জনক প্রেম ও কামনার প্রতীক। যখন সেই প্রেম উন্মাদ হয়ে ওঠে, তখনও পুরোহিত প্রজাপতির মন্ত্রে হোমাগ্নি জ্বালছেন—অর্থাৎ সৃষ্টি, প্রজনন, জীবনচক্র—সবই এই প্রেম ও কামনার মধ্য দিয়েই চলছে।

সংক্ষেপে সারমর্ম

এই কবিতায় বলা হয়েছে— প্রেম ও কামনা মানুষকে সামাজিক নিয়ম, ধর্মীয় শুদ্ধতা ও নিরাপত্তার সীমা ভাঙতে বাধ্য করে। এটি যেমন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি সৃষ্টি, জীবন ও অস্তিত্বেরও উৎস। প্রেম তাই একদিকে মোহময় ও বিপজ্জনক, অন্যদিকে সৃষ্টিশীল ও অনিবার্য।