উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: প্রজ্ঞার ওয়েবিনারে বক্তারা

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২২

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: প্রজ্ঞার ওয়েবিনারে বক্তারা

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০৭ জুন ২০২২ : নিরাপদ খাদ্য, উত্তম স্বাস্থ্য – এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২২।
বাংলাদেশের জন্য দিবসটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে জনগণের মধ্যে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যু ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুন ২০২২) বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহায়তায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ওয়েবিনারে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।

Manual6 Ad Code

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি ৫ জনে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (২১%) উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, যার অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশে বছরে ২ লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অর্ধেক নারী (৫১%) এবং দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ (৬৭%) জানে না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি এর তথ্যমতে বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ।
ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞগণ বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে (এনসিডি) লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ। উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

Manual8 Ad Code

ওয়েবিনারে আরো জানানো হয়, শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাদ্যের সাথে মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করা হলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে “খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১” প্রণয়ন করেছে। তবে এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোমেন রায়হান, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর সেন্টার ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিজ অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ইকবাল, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন সুমন, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাশেদ রাব্বি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। এছাড়াও ওয়েবিনারে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

Manual2 Ad Code


ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞা’র কোঅর্ডিনেটর মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।
ওয়েবিনারে আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), বাংলাদেশ ফুড সেইফটি ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশন এর প্রতিনিধি, ডাক্তার, পুষ্টিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ