প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার জন্য পত্রস্নান ইকো রিসোর্ট দারুণ এক জায়গা

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২২

প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার জন্য পত্রস্নান ইকো রিসোর্ট দারুণ এক জায়গা

Manual6 Ad Code

পাভেল রহমান | শ্রীমঙ্গল থেকে ফিরে, ০৭ জুলাই ২০২২ : হুট করেই গিয়েছিলাম শ্রীমঙ্গলে। যাওয়ার আগে ভেবেছিলাম শ্রীমঙ্গলের নানা জায়গায় ঘুরবো। কিন্তু পত্রস্নানে গিয়ে ভাবনাটা বদলে গেলো। মনে হলো, শ্রীমঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে এই রিসোর্টের নির্জনতায় বেশি ভালো লাগছে। শুয়ে-বসেই কাটিয়ে দিয়েছি দুই দিনের বেশিরভাগ সময়।

পাহাড়ে লেবুর বাগান, আনারসের বাগান আর জনমানবশূন্য গহীন অরণ্যে রাত্রিযাপন। সব মিলিয়ে দারুণ। সকালে ঘুম থেকে উঠেই Shahnaz বলছিল, এখানে খাতা-পেন্সিল নিয়ে আসা খু্ব দরকার ছিল। ছবি আঁকার জন্য দারুণ জায়গা। আর আমি মিস করছিলাম বন্ধুদের। মনে হচ্ছিল গান-আড্ডা, আর আবৃত্তির আসর বসিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় অগণিত রাত।

Manual1 Ad Code

‘আমার কিচ্ছু করার নেই, কোথাও যাওয়ার নেই’ এমন মুড নিয়ে কেউ যদি নাগরিক কর্মব্যস্ততা থেকে ছুটি নিয়ে সময় কাটাতে চান- তবে পত্রস্নান অবশ্যই দারুণ জায়গা। কেউ সন্ধ্যার নির্জনতা উপভোগ করতে চাইলে পত্রস্নান মুগ্ধ করবে। যদি গিটার, গান-কবিতা কিংবা রঙ-তুলি-ক্যানভাস সঙ্গে থাকে, তবে আমি নিশ্চিত আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক ভুবনে।

অনেক দিন পর বাঁশ দিয়ে নির্মিত ঘরটিতে ঘুমিয়ে মনে পড়ছিল সেই শৈশব। আমার চাচাতো ভাই, মহসিনদের একটা ঘর ছিল, তরজার বেড়া (বাঁশ-বেতের)- টিনের চাল। আমরা আড্ডা দিতাম সেই ঘরটিতে। পত্রস্নানে ঘুমিয়ে সেই ফিলটা পেয়েছি অনেক দিন পর।

Manual7 Ad Code

পাহাড়ের মাঝে চমৎকার রিসোর্টটি বানিয়েছেন জসিম খান রিজভী। আমার ফেসবুকে রিজভী ভাই বন্ধু তালিকায় থাকলেও কখনোই কথা হয় নি আগে। শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার আগে মণিপুরি থিয়েটারের সমরজিতকে বলেছিলাম, থাকার জায়গা ঠিক করে দিতে আর শুভাশিস দা’কে যাওয়ার ব্যাপারটি না জানাতে, হঠাৎ হাজির হয়ে সারপ্রাইজ দেব। (শুভাশিস দা এবং মণিপুরি থিয়েটারে আড্ডার গল্প লিখবো আরেক পর্বে)। সমরজিত পত্রস্নানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আর সেখানে গিয়েই পরিচয় হলো রিজভী ভাই, রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ধীরাজ দা ও রায়হানের সাথে। তারপর যখন জানলাম রিজভী ভাই থিয়েটারের মানুষ। টেলিভিশন নাটকের পরিচালক ছিলেন। তারপর থেকে শুধু আড্ডা আর আড্ডা, যেন থামতেই চায় না। থিয়েটার নিয়ে কত-শত কথা। বিকেলে যখন ঘুরতে বের হলাম, তখন রিজভী ভাই এবং তার ছেলে হৃদাকাশও হলো আমাদের ভ্রমণসঙ্গী। দুই দিনের আনন্দযাত্রার স্মৃতিকে রাঙিয়ে দিয়েছে পত্রস্নান। ফেরার সময় পাহাড়ের লেবু, নাগা মরিচ এবং চা-পাতা উপহার দিয়েছেন রিজভী ভাই। ট্রেনে ফেরার টিকেটও কেটে দিয়েছেন। থিয়েটারকর্মীরা এই রিসোর্টে গেলে রিজভী ভাইয়ের কাছ থেকে একটু বাড়তি আন্তরিকতা পাবেন, এটুকু বলা যায়৷

Manual1 Ad Code

তবে হ্যা, পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে যারা এসি রুম এবং সুইমিংপুল খুঁজেন, পত্রস্নান হয়তো তাদের পিপাসা মেটাতে পারবে না। কিন্তু পাহাড়ে গিয়ে যদি প্রকৃতির সাথে মিশে থাকতে চান, পত্রস্নান হতে পারে তাদের জন্য দারুণ এক জায়গা। শ্রীমঙ্গলে গ্র‍্যান্ড সুলতানের উল্টোদিকে মোহাজিরাবাদ সড়ক ধরে কিছুটা ভেতরে গেলে পাহাড়ের কূল ঘেঁষে এই রিসোর্টটির অবস্থান।

Manual7 Ad Code

ধন্যবাদ Rizvee ভাই এবং Patrasnana Eco Resort পত্রস্নান ইকো রিসোর্ট। আর বিশেষ ধন্যবাদ Somarjit, এমন একটি রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ