কাজী ফার্মসের তিন পরিচালককে জেলখানায় পাঠানোর ঘটনায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২২

কাজী ফার্মসের তিন পরিচালককে জেলখানায় পাঠানোর ঘটনায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিবাদ

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২২ : ২০১৬ সনে দীপ্ত টেলিভিশন সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে কাজী ফার্মের কর্মীদের মারধর করার একটা রিপোর্ট প্রচারিত হয়। এই রিপোর্টার জের ধরে বহুল বিতর্কিত গনবিরোধী ‘৫৭ ধারায়’ মামলা করেন মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী। ছয় বছর পর গত ১৮ জুলাই, ২০২২ এই মামলার শুনানির পর সাইবার ট্রাইব্যুনাল, জামিন না মঞ্জুর করে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠাবার আদেশ দিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই সিদ্ধান্তকে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত বিবেচনায়, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

Manual4 Ad Code

আইসিটি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যে সরকার এবং তার দোসরদের জুলুম-লুটপাটের সমালোচনা বন্ধের হাতিয়ার সেটা দেশের মানুষের কাছে বিগত একদশকে একদম পরিষ্কার। দিনে দিনে এই সরকারের হাতে দেশের আইন, দেশের মানুষকে রক্ষার পরিবর্তে তাদের ক্ষমতা রক্ষার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Manual2 Ad Code

বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনার কাজী ফার্ম গ্রুপ, দেশের বনেদি ব্যাবসায়ী মহলে একটা সম্মানের নাম। তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ এবং তারা যেহেতু দেশের পোল্ট্রি শিল্পে সর্বোচ্চ ডিম এবং বাচ্চা সরবরাহদাতা, তাই তারা ও তাদের ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ খোরাকি যোগাচ্ছে লাখো পরিবারের। ক্ষমতাসীনদের ঔদ্ধত্য, এই সম্ভাবনাময় ও জনগুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পরিবারের মনে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে তা, দেশের অসংখ্য মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। বড় শিল্পে বিনিয়োগের সময় ব্যাবসায়ীদের এখন ভাবতে হবে যে তারা কি জেলে যাবার মত নিরাপত্তাহীনতা স্বীকার করতে রাজি আছেন কিনা। এই ঘটনা ভিনদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং দেশীয় পুঁজির বিদেশ চলে যাওয়ার প্রবণতাকে আরও বেশি করে উস্কে দেবে।

এই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরদের চারজনই বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। বিশ্বমানের ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে তারা চারজন দেশকেই তাদের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং সফল একেকটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সমাজে তাদের অবদান যাই হোক না কেন, ক্ষমতাসীনদের কাজের প্রতিবাদ করা মাত্রই তাদের জীবনকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় লালিত দুবৃত্তরা, দুর্বিষহ করে তুলেছে। সম্মানীয় মানুষদের সম্মান না দেয়া এবং ক্ষমতার স্বার্থে আদালত ও আইনকে ব্যবহার করার এই রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার না করলে, ভবিষ্যত প্রজন্ম নিরাপত্তাহীনতা ছাড়া যে একটা জীবন সম্ভব, সেটা আশা করতেই ভুলে যাবে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আইনের নামে আঘাত দেশের একদম প্রান্তিক পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমানতালে ঘটে চলেছে। তাই সরকার ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে কথা বলে এখন আর গ্রামের কোনো সাধারণ তরুণও যেমন নিরাপদ নন তেমনি দেশের প্রথম সারির শিল্প মালিকও নিরাপদ নন। এইধরনের গনবিরোধী জুলুমের আইন বাতিল করতে হবে, এইরকম আইন বানানোর ক্ষমতাকাঠামো সংস্কার করে ক্ষমতাসীনদেরকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে হবে।

Manual8 Ad Code

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন দেশের এই জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তনের যাত্রায় ব্যাবসায়ীসহ নিরাপত্তাকামী সকল বাংলাদেশিকে তাদের পথের সাথী হিসাবে চায়। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই জুলুমের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার করার জন্য দেশের মানুষের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ