নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৯ আগস্ট ২০২৩ : নিম্নতম মজুরী বোর্ড কর্তৃক চা শ্রমিকদের জন্য মজুরী সংক্রান্ত সুপারিশ প্রত্যাহার দাবী করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট ২০২৩) দুপুরে শ্রীমঙ্গলসস্থ লেবার হাউজের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়।
এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, ধনা বাউরী ও বশিষ্ট তাঁতী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা ও অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের মূল বাগান ও ফাঁড়ি বাগানসহ মোট ২৩০টি চা বাগান বিদ্যমান। অভ্যন্তরীন বাজারে চা চাহিদা বিপুল পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তরাঞ্চালে চা বাগান বিস্তৃত হচ্ছে। চা উৎপাদন পাকিস্তান আমলে আভ্যন্তরীণ বাজার ও বিদেশে রপ্তানী করলেও মাত্র ৩ (তিন) কোটি কেজি চা উৎপাদীত হতো। বর্তমানে প্রায় ৯/৯.৫০ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ৩ গুণ চা উৎপাদিত হলেও কর্মরত স্থায়ী ও ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি, বর্তমান মজুরী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি হয়নি। চা শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে শ্রম আইনে পৃথক তফসিল-শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান লেবার লাইনে যাতায়াত, বিশুদ্ধ পানীয় জল, সৌচাগার, কর্মস্থলে সৌচাগার ইত্যাদি দেওয়ার কথা থাকলেও এগুলির শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশও কার্যকর হয় না। বা মালিকরা তা দিতে প্রচন্ডভাবে অনিচ্ছুক।
মজুরী বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তফসিল (খ) এর ৩নং উপধারায় বর্নিত স্থায়ী/সাময়িক ক্যাজুয়্যাল শ্রমিকদের জন্য এ.বি.সি. এই তিন শ্রেনীতে বিভক্ত করে যথাক্রমে ১৭০.০০, ১৬৯.০০, ১৬৮.০০ টাকা এলাকাভেদে মজুরী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১৭০.০০ (একশত সত্তর) টাকা মজুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ঘোষানার ফলে হয়েছে। এটা বাংলাদেশের সকল চা শ্রমিক মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। এজন্য সকল চা শ্রমিকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর প্রতি সর্বসময় কৃতজ্ঞ থাকে। কিন্তু মজুরী বোর্ডের সুপারিশে কেন এটা কমিয়ে ১৬৯.০০-১৬৮.০০ টাকা করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র ইউনিয়ন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নে এর কাছেও ১৭০.০০ টাকা মজুরী কাম্য ছিল। মজুরী র্বোড সবসময় নিম্নতম মজুরী ও বোনাসসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করে। চা শ্রমিকদের মজুরী নিধার্রিত হয়, বৃটিশ আমলের পর থেকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে। দাবীনামা উত্থাপন ও আলোচনা শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরী যত বকেয়া পাওনা হয়, তাহা ২/৩ কিস্তিতে সমভাবে শ্রমিকদের পরিশোধ করা হতো। অত্যন্ত দূঃখের বিষয় যে শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তফসিল (খ) বর্নিত মজুরী বোর্ডের সুপারিশে ৫নং উপধারায় উৎসব ভাতা ৪৭ দিনের সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি শ্রম বিধিমালা ১১১(৫) ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মূল মজুরী সমান ২ উৎসবে দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের মূল মজুরী হলো ১৭০.০০টাকা, সেই হিসেবে বিধিমালায় বর্নিত ৬০দিনের মজুরীর চা শ্রমিক উৎসব ভাতা হিসেবে পাবে। তাও আবার কাজের দিন হিসাব করে বেশ কম করা হয়। এখানে মজুরী বোর্ডের সুপারিশে, এই বিষয়ে শ্রম আইনের বিধিমালা ১১১(৫) উল্লেখ না করে ১৩ দিনের কম হয়েছে (৬০-৪৭=১৩)। বিগত মজুরী বোর্ডের শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পর পর দুইজন সদস্য ছিলেন। মজুরী বোর্ডের এই সব আলোচনায় শ্রমিকপক্ষের কোন কথা শুনতে না চাইলে পরপর দুই জন সদস্য পদত্যাগ করেন। বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকতে অপরাগতা জানিয়ে মজুরী বোর্ডকে চিঠি দেন। প্রথম জন ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব রামভজন কৈরী। তিনি পদত্যাগ করলে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জনাব পংকজ এ কন্দ (সহসভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি-বাচাশ্রই)-কে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনিও মজুরী বোর্ডের অনমনীয়তার কারনে মজুরী বোর্ড শ্রমিকপক্ষের কোন সুপারিশ না মেনে মালিকপক্ষ যা সুপারিশ করে তাকে গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ প্রণয়নের চেষ্টা করলে পংকজ এ কন্দও ইউনিয়নের সিন্ধান্ত অনুযায়ী মজুরী বোর্ড হতে নিজের নাম পত্যাহার করে নেন।
শুধু তাই নয় মজুরী নির্ধারণে দীর্ঘ দুই বছরের বেশী সময় ধরে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার পরও মালিকপক্ষ কোন ক্রমেই পূর্বের ১২০.০০ (একশত কুড়ি) টাকা থেকে মাত্র ২০ (কুড়ি) টাকা বাড়িয়ে ১৪০.০০ (একশত চল্লিশ) টাকার বেশি দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমতাবস্থায় শ্রমিকপক্ষ তা মানতে রাজি না হওয়ায় শ্রমিকদের নিকট দায়বদ্ধতা হিসেবে সাধারণ শ্রমিকদের জানিয়ে দিলে চা শিল্পেও একধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পর্যায়ে শ্রম অধিদপ্তর প্রথামাফিক হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ আরও পাচঁটাকা বাড়িয়ে মাত্র ১৪৫.০০ টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু চা শিল্পের অচলাবস্থা তাতেও নিরসন হয়নি। এই প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১৭০.০০ টাকা মজুরী নির্ধারনের ঘোষণা দেন। এছাড়াও সাধারণ শ্রমিকদের সাথে ০৭ ভ্যালীতে (ভার্চুয়্যাল মিটিং) করে তিনি শ্রম আইনে বর্নিত ও বিধিমালায় ঘোষিত চা শ্রমিকদের প্রদত্ত সকল বকেয়া প্রদানের নিদের্শনা যথা: বাসস্থান, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিশ্বদ্ধ পানিয়জল, ঔষধপত্র ইত্যাদি প্রদান কার্যকর করার ঘোষনা দিলে তা শ্রমিকরা হৃষ্টচিত্তে গ্রহন করে। ৩ সপ্তাহ ধরে চা শিল্পের অচলাবস্থার অবসন হয়। অথচ এই সমস্ত সুযোগ সুবিধা শ্রম আইনে ও বিধিমালায় বিদ্যমান, যেই গুলো মালিক পক্ষ এখনও পর্যন্ত বাস্থবায়ন করে নাই। এইসব আইন ও বিধিমালায় বিদ্যমান এইসব সুযোগ সুবিধা শ্রমিক প্রতিনিধিবিহীন সুপারিশ করা ইউনিয়ন মনে করে। এছাড়াও সুপারিশের তফসিল- (ঘ) সুযোগ সুবিধা শিরোনামে, বর্নিত ০৬নং উপধারায় অধিকাল ভাতা সম্পর্কে ১০৮ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চা বাগানে অধিকাংশ কাজ ফূরণ বা নিরিখ প্রথায় করানো হয়। এই প্রথা চা বাগানে আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। কিন্তু মালিকদের নিজেদের সুবিধার জন্য এখন ০৮ ঘন্টা কাজের কথা বলা হচ্ছে। বাগানে যথেষ্ট পাতা না থাকলে বা কম থাকলে তখন উপস্থিত শ্রমিকদের গড় হিসাবে কম মজুরী দেওয়া হয়। তখন চা পাতা তোলার শ্রমিকদের ও অন্যান্য নিরিখের কাজের শ্রমিকদের ১৭০.০০ টাকা মূল মজুরীও দেওয়া হয় না। তখন আর ৮ঘন্টার কাজের কথা আসেনা। এছাড়াও বাগানে উইডিসাইড, পেষ্টিসাইড ছিটানো, কারখানার কাজ বা চৌকিদার, ম্যাসেঞ্জার, কমপাউন্ডার, ধাই, ইত্যাদি চিকিৎসা কর্মীরা ৮ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করে। “বন্টনকৃত ধানী জমি হইতে প্রচলিত খাজনা বাবদ রেশন কর্তন করা হইবে” এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মালিকপক্ষ ১৯৭৪ (খগ-৯) লেবার মেন্যুয়েল-৯ নামে একটি সার্কুলার জারী করে। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্টনকৃত ধানী জমির জন্য প্রথম ১ কেয়ার জমি বিনা রেশন কর্তনে শ্রমিকরা ভোগ করবে, যা অনেকটা মজুরীর অংশ। আমাদের দেশের অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিকদের চাইতে চা শ্রমিকদের মজুরী অনেক কম এবং বিশ্বের চা শ্রমিকদের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিবিহীন মজুরী বোর্ডের সুপারিশ করা বাহুল্য বলে ইউনিয়ন মনে করে। বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চা শিল্পে অভিবাষিত শ্রমিকদের ধরে রাখার জন্য জমি বন্টন করা হয়। তখন ধানী জমির জন্য কোন রেশন কর্তন করা হতো না। অথচ ১৯৭৪ সালে মালিকপক্ষ কর্তৃক একতরফা ঘোষিত (খধনড়ঁৎ গধহঁবষ-৯) এর প্রথমবারের মতো ১ কেয়ার জমি বাদ দিয়ে প্রতি কানি/কেয়ার জমি থেকে রেশন কাটার আইন জারী করে রেশন কাটার নির্দেশন প্রদান করে। এখন মজুরী বোর্ডের সুপারিশে বন্টনকৃত সকল ধানী জমি থেকে রেশন কর্তন সুপারিশ করা হলো, যা একতরফা।সুপারিশের ১০নং উপধারায় বলা হয়েছে, “শ্রমিক কর্মচরী ও পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা চলমান থাকিবে” বিদ্যমান চিকিৎসা সর্ম্পকে বলা যায় যে, বাগানের কম্পাউন্ডার বা মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট হাসপাতালের ষ্টোরে যে ঔষধ থাকে তার বাইরে ঔষধ দেওয়ার ক্ষমতা নাই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, চিকিৎসা সম্পর্কিত শ্রম বিধিমালায় যে বাগানে ৭০০ (সাতশত) এর উপরে শ্রমিক, কর্মচারী আছে অবশ্যই সেখানে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ করতে হবে। যা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। অথচ বৃহত্তর সিলেট ও চট্রগ্রামের প্রায় চা বাগানে এমবিবিএস ডাক্তার নেই। কোন কোন শিল্প গোষ্ঠি ৫/৭টা চা বাগান মিলিয়ে যেখানে ৬/৭০০ হাজার শ্রমিক আছে সেখানে মাত্র ১ জন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা ব্যবস্থা দেওয়া হয়, এবং পর্যাপ্ত ঔষধপত্র নেই। স্বল্প মজুরী দরিদ্রপীড়িত চা শ্রমিক যে কোন জটিল রোগের জন্য ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। এছাড়াও ঔষধ পত্র কেনা সম্ভব হয় না।
সুপারিশ-৯ “টি গার্ডেনে শ্রমিকদের উৎপাদন চাহিদার মধ্যে তারতম্য থাকলেও এরমধ্যে সমন্বয় করতে হইবে” বারবার মজুরী বোর্ডে আমাদের প্রতিনিধিগণ বলার চেষ্টা করে – খরা, অতিবৃষ্টি মালিক কর্তৃক সময়মত বা পরিমাণমত চা গাছের রোগ বলাই দূর করার জন্য সার, কীটনাশক সরবরাহ না করা বা মাটির উর্ব্বতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া সম্পূর্ণ মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তাধীন। সময়মত বকেয়া মজুরী পরিশোধ না করা শ্রমিকদের বছরের পর বছর স্থায়ী না করে, রেশন, স্ববেতন ছুটি থেকে বঞ্চিত করা ইত্যাদি কারনেও শ্রমিকরা কাজে হতাস হয়ে পড়ে। তাহলে বিষয়টি দাড়ায় যে, উৎপাদন শুধু শ্রমিকদের শ্রম শক্তির উপর নির্ভর নয়। বরং মালিকদের কর্তৃক শ্রমিকদের মজুরী বোনাস বকেয়া পরিশোধ না করা বা বিলম্ব করা। উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উপকরন সঠিক সময়ে সরবরাহ না করা, চা চাষ এলাকাধীন, সেকশনে ৮/১০দিন অন্তর চা পাতা চয়ন না করা, রাউন্ডের সময় বাড়ানো কিছু কিছু চা চাষ এলাকা, শ্রমিক স্বল্পতার কারনে সময়মতো জঙ্গল পরিষ্কার না করার কারনে স্বাভাবিক উৎপাদনশীলতা কমে। খরার সময় সেচ ব্যবস্থা না থাকা উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার জন্য দায়ী। বৃহত্তর সিলেটে বেশকিছু চা বাগান ও চট্রগ্রামের ৪/৫টি চা বাগানে উন্নত সেচ ব্যবস্থা থাকা, এই সব বাগানে সময় মত রোগ বালায় দমনের ব্যবস্থা করার ফলে উৎপাদনশীলতা অনেক বেশি। এই সব বাগানের সাথে কম সুবিধা প্রাপ্ত বাগানের উৎপাদনশীলতা স্বাভাবিক হারে কম থাকে । যার জন্য শ্রমিকরা মোটেই দায়ী নয়, তাদেরকে বঞ্চিত করাও অসঙ্গত। “সকল সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হইলে তাহার দায়-দায়িত্ব মালিকপক্ষের উপর বর্তাইবে” অথচ বাস্তবে যেসব বাগানে ঠিকাদার কর্তৃক শ্রমিকদের কাজ করানো হয়, এই সব শ্রমিকদের শুধু মজুরী ব্যতিত অন্য কোন সুবিধা বোনাস, স্ববেতন ছুটি, বাসস্থান প্রভৃতি সুবিধাসমূহু কার্যকর হয় না।কোন সময় ঠিকাদার মজুরী পরিশোধ না করে, ঠিকাদারি ছেড়ে দেয়। মালিক কর্তৃপক্ষ হিসাবে দায়-দায়িত্ব গ্রহন করেনা। আইন মানেন না। শুধু তাই নই এসব ঠিকাদার শ্রম আইন অনুযায়ী ঠিকাদারি লাইসেন্স নাই, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর হতে লাইসেন্স গ্রহন করা হয় না। সুপারিশ-১৩ “মজুরী ও ভাতা ছাড়াও যেসকল অধিকার, সুযোগ সুবিধা নিজ ভাতা প্রাপ্য হন উহা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর সংশোধিত ধারা বিধান মোতবেক বলবৎ থাকিবে” অথচ মালিকপক্ষ বারবার বিভিন্ন অজুহাতে একটির পর একটি সুবিধাথেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করে। প্রকৃত পক্ষে এইসব সমস্যা আমাদের প্রতিনিধি মজুরী বোর্ডের সভায় তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে চা শ্রমিকদের মজুরী বোর্ডে পরপর দুইজন প্রতিনিধি মজুরী বোর্ডের সভায় থাকতে অপারগতা প্রকাশ করে মজুরী বোর্ড থেকে লিখিত ভাবে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন থেকে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে চা শ্রমিকদের দাবীদাবা মজুরী সুযোগ সুবিধা শ্রম আইন কার্যকর, বকেয়া মজুরী পরিশোধ করা ইত্যাদি বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি করা আইন সংগত। এবং এটাই পৃথিবীর চা উৎপাদনকারী বিভিন্ন দেশ যথা শ্রীলংকা, ভারতে চালু আছে। মাননীয় গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট ২০১০খ্রি: শর্তাবলি (৪)-এ চা শিল্পের বহু বছরের প্রতিষ্ঠিত রীতি, ঐতিহ্য’কেচা শ্রমিক ও চা শিল্পের মঙ্গর্লাথে গুরুত্ব পেয়েছিল। যা নিম্নরূপ: শর্তাবলী – (৪) ২০১০খ্রি: বাংলাদেশ গেজেট “চা শিল্পের বহু বছরের প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুযায়ী টি গার্ডেন শিল্প সেক্টরের চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ চা সংসদ প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর মজুরী ছাড়া ও উৎপাদনশীলতাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করিয়া সমঝোতার ভিত্তিতে সিন্ধান্ত গ্রহণ করিবেন;” কিন্তু বাংলাদেশ গেজেট আগষ্ট ১০, ২০২৩খ্রি: এর তফসিল (ঙ) শর্তাবলী(৭) এর প্রকাশিত যা চা শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে ও মালিকের স্বার্থ রক্ষার্থে মালিকপক্ষের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যা চা শিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে চা শ্রমিকরা মনে করছে।
শ্রম আইন অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির আইন বলবৎ থাকা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা মনে করে কারন মজুরী বোর্ডে সবসময় চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের অন্যান্য প্রতিনিধিদের চাপের মধ্যে থাকে। চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের অভিমত শুনার প্রয়োজন মনে করে না। তাই বারবার আমাদের পদত্যাগ করতে হয়। উপরোক্ত মতামতের ভিতিতে এই মজুরী বোর্ডের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি। অতএব, এই পক্ষপাতমূলক সুপারিশ কার্যকর না করার জন্য বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে দাবী জানাচ্ছি।
Post Views:
১,২৬৭