প্রসঙ্গ দিলবর নগর

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২৪

প্রসঙ্গ দিলবর নগর

Manual2 Ad Code

শিমুল দেববর্মা | দিলবর নগর (শ্রীমঙ্গল), ২০ মার্চ ২০২৪ : দিলবরনগরের পূর্বের নাম ছিল (নাগহরি)। অত্র এলাকায় ত্রিপুরাদের বসবাস শতবছরের পুরনো। সংগ্রামের সময় অনেকে ভারতে চলে যায়। বর্তমানে কিছু পরিবার রয়েছে। মরহুম দিলবর মিয়া চেয়ারম্যান থাকাকালীন উনার সম্মানে এলাকাবাসী এ গ্রামের নাম দিলবর নগর নামকরণ করেন।

দিলবরনগরে যে রাস্তা নিয়ে বর্তমানে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে রাস্তাটি এলাকার প্রবীণ মুরুব্বিদের নিকট জানতে পারি। মরহুম দিলবর মিয়া যখন উক্ত জায়গাটি বিশ্বম্বর ত্রিপুরার নিকট থেকে খরিদ করার পূর্বেও রাস্তাটির বয়স শত বছরের উপরে ছিল। মরহুম দিলবর মিয়ার বড় ছেলে মরহুম মোস্তাক আহমেদ যখন ঐ বাগান পরিচালনা করতেন, তখনও এলাকার মানুষ ঐ রাস্তা দিয়ে গাড়ি দিয়ে ভিতরে লেবু বাগানের জন্য গোবর, সার ইত্যাদি পরিবহন করা যেত। মরহুম মোস্তাক ভাই সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি চলে যাওয়ার পর আনোয়ার হোসেন তার অংশে বাগান তৈরী করে পরিচালনার পর থেকে রাস্তাটি ছোট করার পরিকল্পনা করে ১ হাত ২ হাত করে সুপারি গাছ লাগিয়ে রাস্তা দখল করা শুরু করেন।

Manual3 Ad Code

(ক্যাপশনে ছবি দেওয়া মোস্তাক আহমদের লাগানো সুপারি গাছ ও আনোয়ার হোসেনের লাগানো সুপাড়ি গাছ দেখলে আপনারা বুজতে পারবেন)

Manual1 Ad Code

এলাকার মানুষ রাস্তা নিয়ে বার বার বলার পরও উনি কারো কথা কর্ণপাত করেন না। ১৯৯০ সালের সেটেল্টমেন্ট ম্যাপে রাস্তাটির মেইন রোড থেকে ৪নং খাসিয়াপুঞ্জি পর্যন্ত প্রায় ১৯ ফুট রাস্তা তুলে দিয়ে যায় (ম্যাপের ছবি সংযুক্ত) এবং মোস্তাক আহমদের পর্চায় ১১ শতক রাস্তার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং মন্তব্যের কলামে স্পষ্ট লেখা আছে নিকটবর্তী দাগগণের ব্যবহার্য (পর্চা ক্যাপশনে সংযুক্ত)।

আর এটিই একমাত্র রাস্তা ভিতরে অনেক জনের প্রায় ২০০ কিয়ার-এর উপরে লেবু, আনারস, কাঠাঁল বাগান রয়েছে এই রাস্তা সরু করার ফলে ভিতরে এখন আর গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে বাগান মালিকদের অনেক দুর্ভোগ হয়। এছাড়াও এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত চা শ্রমিকরা যাতায়াত করে। আনোয়ার হোসেনের পিতা মরহুম দিলবর মিয়া ছিলেন এত্র এলাকার স্বনামধন্য চেয়ারম্যান ও দানশীল ব্যাক্তি। উনার ছেলে হয়ে কিভাবে রাস্তার জায়গা দখল করতে পারেন? রাস্তাতো কারো ব্যক্তিগত না, এটা সার্বজনীন। ম্যাপে ১৯ ফুট রয়েছে গাড়ি প্রবেশ করার জন্য বর্তমানে ৬ ফুট থেকে ১৬ ফুট হলে সর্বোচ্চ উনার ৩ থেকে ৪ শতক রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে, তাও উনি ছাড়বেন না। উল্টো রাস্তার ম্যাপ সংশোধনের মামলা করেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন আলোচনার মাধ্যমে কেন সমাধান করা হল না। এ ব্যাপারে সমাধানের জন্য ওর্য়াড মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নিবার্হী অফিসারসহ শহরে অনেক মুরুব্বিদের নিকট এলাকাবাসী বারবার গিয়েছে। উনার অবস্থান পরিস্কার, উনি রাস্তা ছাড়বে না। কোর্টে মামলা আছে, মামলা জিতছে উনার নাছোড়বান্দা উত্তর। শ্রীমঙ্গল শহরে ঐতিহ্যগত দানশীল পরিবারের ছেলে হয়ে রাস্তার জায়গা এভাবে জোর করে দখল করে রাখা, কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তা আপনারাই বিচার করুন।

Manual4 Ad Code

পরিশেষে আনোয়ার হোসেন ভাইয়ের নিকট বলতে চা্ই, অনেক হয়েছে কারো প্ররোচনা না শুনে আপনার পিতা ও পরিবারের ঐতিহ্যগত দিক বিবেচনা করে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তার জায়গাটি ছেড়ে বড় মনের পরিচেয় দিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে মিলে মিশে চলুন।

Manual5 Ad Code

মনে রাখবেন শ্রীমঙ্গল সম্প্রীতির জায়গা। এই উপজেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মানুষ একসাথে চলাফেরা করে আসছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাই।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ