শ্রীমঙ্গলে দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৪

শ্রীমঙ্গলে দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৬ জুন ২০২৪ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও ১৯ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন ২০২৪) বিকেলে যায়যায়দিন ফেন্ডস ফোরাম শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের হল রুমে আলোচনাসভা শেষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করা হয়।

Manual8 Ad Code

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও ফ্রেন্ডস ফোরামের উপদেষ্টা মো. শফিকুল ইসলাম রুম্মনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য, যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. একরামুল কবীর, মডেল টেকনিক্যাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল আলম স্বপন, উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি শামীম আক্তার হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মাই টিভির মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সঞ্জয় কুমার দে, যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক কাজী কামরুল ইসলাম বাবুল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর, যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের যুগ্ন আহবায়ক গোলাম রহমান মামুন, রাজ কুমার গৌড়, যুগ্ম সদস্য সচীব মো. জসিম আহমেদ, সদস্য মো: দুলাল মিয়া, কবি সমীরন দাশ, তারেক আহমেদ, সেলিম আহমেদ, তানভীর আহমেদ রিয়াদ, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুর রশিদ হেলাল, দেওয়ান মাসুকুর রহমান প্রমুখ।

Manual7 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব বলেন, আপনারা যারা সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় রয়েছেন আপনারা মানুষের গুজব কথায় সংবাদ প্রকাশ না সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। বর্তমানে পত্রিকায় কাজ করা এক চ্যালেঞ্জিং কাজ যেখানে রয়েছে প্রতিযোগীতা কার আগে কে সংবাদ করবে। কিন্তু এ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে ১৫ হাজার টাকাকে ১৫ লাখ টাকা লিখে সংবাদ প্রকাশ করবেন না; এতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। শ্রীমঙ্গলে অনেক সমস্যা রয়েছে এ সমস্যাগুলো আপনাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে আমার যত রকমের সহযোগীতা লাগবে আমাকে বলবেন আমি সহযোগীতা করে যাব। আমি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সত্য প্রকাশে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাক এ কামনা করি।

Manual4 Ad Code

Manual3 Ad Code

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম যে ভূমিকা রেখেছে তা এক কথায় অতুলনীয়। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের প্রচারিত উজ্জীবনী গান, সংবাদ, কথিকা, সাক্ষাৎকার, আলোচনা অনুষ্ঠান, সংবাদ বিশ্লেষণ মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলার সাধারণ মানুষকে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে। মুক্তিপাগল মানুষের মনে মুক্তিচেতনার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করেছে। দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, সংবাদবিশ্লেষণ, সম্পাদকীয়, উপম্পাদকীয় সাধারণ মানুষকে শুধুই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করে নি, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বাংলার দামাল ছেলেদের অনুপ্রাণিত করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের পথ-নির্দেশনা দিয়েছে, বিদেশিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবল বিশ্বজনমত গঠন করেছে। দেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য স্টেটস ম্যান, ফিন্যানসিয়াল টাইম, বিবিসি, টাইম ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেয় বিশ্বময়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিশ্বজনমতকে বাঙালিদের পক্ষে আনতেও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে দিন দিন বেড়েছে আমাদের বন্ধুদেশের সংখ্যা। এক ঘরে হয়ে পড়েছে হানাদার পাকিস্তান। বিশ^জনমত আগ্রাসী পাকিস্তানের বিপক্ষে যাওয়ায় পাকসেনাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। পক্ষান্তরে বিশ্ব জনমত ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা শক্তি-সাহস পেয়েছে, তাদের নৈতিক মনোবল ছিল ইস্পাতকঠিন। ফলে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন সহজ হয়েছে।
আমরা মনে করি, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও বৈষম্যহীন উন্নত এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন বাংলাদেশকে উন্নতি-সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যেতেও গণমাধ্যম একাত্তরের ন্যায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখতে পারে। দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকাও সেই ভূমিকাই রাখবে বলে, আমরা প্রত্যাশা করি।”

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ