দাউদকান্দি মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২৪

দাউদকান্দি মুক্ত দিবস আজ

Manual3 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদক | কুমিল্লা (দক্ষিণ), ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ : কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি মুক্ত দিবস আজ।

Manual3 Ad Code

১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটির একাংশের নেতৃত্বে পল্টনের বিশাল জনসভা থেকে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’র কর্মসূচি প্রকাশ্যে উত্থাপন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বাঙালির স্বাধীনতা আন্দলন ও বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি মজলুম জননেতা মওলানা অাব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একাত্মতা ঘোষণার পর জাতিগত নিপীড়ন-শোষণ-বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার মুক্তিপাগল বাঙালি যুদ্ধের জন্য তৈরিই ছিলো বলা যায়।

Manual7 Ad Code

১৯৭১ সালের ১ ও ২ জুন কলকাতার বেলেঘাটায় যুদ্ধরত কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দল এবং গণসংগঠনসমূহ মিলিত হয়ে গঠন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। এ সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাপত্র তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকার করেই সমন্বয় কমিটি সরকারকে সহযোগিতাও যেমন করবে, তেমনি স্বতন্ত্রভাবেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করবে। এ সমন্বয় কমিটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দল ছিল ন্যাপ (ভাসানী) ও ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’ যার নেতৃত্বে সারাদেশে ১৪টি সশস্ত্র ঘাটি এলাকা ছিল।

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর দাউদকান্দি উপজেলা পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়। লঞ্চযোগে পাক সেনারা ঢাকায় পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা মানসিকভাবে দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ, শহিদনগর ওয়ারল্যাস কেন্দ্রে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাউদকান্দিস্থ ডাক বাংলোতে অবস্থানরত পাকিস্তানী সেনাদের টার্গেট করে উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্ব হতে এক যোগে আক্রমণ শুরু করে। বৃহত্তর দাউদকান্দির মোহাম্মদপুর, ডাকখোলা, গোয়ালমারী, বাতাকান্দি প্রভৃতি এলাকার ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হতে থাকে, পূর্ব দিক হতে মিত্র বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে পাকিস্তানী সেনারা পশ্চিম দিকে হটতে থাকে।
দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম সরকার জানান, ৮ ডিসেম্বর রাত থেকে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত যুদ্ধের পর পাক সেনারা দাউদকান্দিতে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল সড়ক ও জনপথের বাংলোতে উঠে এবং সেখান থেকে লঞ্চযোগে মেঘনা নদী দিয়ে গজারিয়া হয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়। দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা দাউদকান্দি পৌঁছে হানাদারমুক্ত দাউদকান্দিতে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা উড়ায়।

Manual1 Ad Code

আজ দিবসটি পালন উপলক্ষে দাউদকান্দি উপজেলা সদরে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এসবের মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে দুপুর ৩টায় উপজেলা কার্যালয়ে আলোচনাসভা ও স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ