সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার উদাহরণ স্থাপন করতে হবে: এম ইদ্রিস আলী

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৪

সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার উদাহরণ স্থাপন করতে হবে: এম ইদ্রিস আলী

Manual1 Ad Code
শ্রীমঙ্গলে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে দুই প্রবাসী সাংবাদিকের মতবিনিময়

 

সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবেই কিন্তু সৎ ও নিষ্ঠাবানরা হারিয়ে যাবেনা: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

 

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ : শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম ইদ্রিস আলী বলেছেন, “সংবাদমাধ্যমে বিভক্তি বা মতবিরোধ সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে। শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিকরা যদি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সত্যিকার অর্থে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া স্থানীয় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়ন, তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। তাই, শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিকদের উচিত ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং একসঙ্গে কাজ করে একটি শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের উদাহরণ স্থাপন করা। এই ঐক্যই শ্রীমঙ্গলের মানুষের আস্থা অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি।”
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৪) রাত ৮টায় শ্রীমঙ্গল শহরের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এ মতবিনিময় সভা করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টো ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী। গণমাধ্যমকর্মীরা এই দুই সাংবাদিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

প্রবাসী এই দুই সাংবাদিকের স্বদেশ আগমন উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় সকল সাংবাদিকদের একসাথে নিয়ে আসার আহবান জানান।

Manual3 Ad Code

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে প্রবাসী সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্রো শ্রীমঙ্গলের ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকদের প্রশংসা করেন এবং সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আব্দুই হাইয়ের সভাপতিত্বে ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান; দৈনিক খোলা কাগজ নির্বাহী সম্পাদক মনির হোসেন, সাংবাদিক পলাশ চৌধুরী, ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি আহমেদ ফারুক মিল্লাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কাওছার ইকবাল, সিনিয়র ইসমাইল মাহমুদ, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি শামিম আক্তার মিন্টু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম–সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, বিশ্বজিৎ ভট্রাচার্য বাপন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি এম এ রকিব, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন জসিম, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এহসান বিন মুজাহির, দৈনিক শুভ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি আবুজার রহমান বাবলা, দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল, এম এ শুকুর, আমজাদ হোসেন বাচ্চু, দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি শামসুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।

Manual4 Ad Code

আয়োজিত এ সভায় অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অপর তিনটি স্তম্ভ হচ্ছে, আইনসভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। বোঝাই যাচ্ছে গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও অবস্থান কোথায়! জনস্বার্থ অভিমুখী মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও প্রশাসনের অসঙ্গতি ধরিয়ে দেওয়াসহ জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবে গণমাধ্যমকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হয়।
আসলে গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা, নীতি-আদর্শের যৌথ প্রচারক ও যৌথ আন্দোলনকারী, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের পাহারাদার। গণমাধ্যমই সঠিক পথ বাতলে দেয় যাতে সরকার, প্রশাসন ও জনগণ সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। গণমাধ্যম সরকার, প্রশাসন ও জনগণের প্রতিপক্ষ নয়; তবে জনস্বার্থে নজরদারী করবে। কাজেই বলিষ্ট ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া জনস্বার্থের রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে না।
রাষ্ট্রের অন্য তিনটি স্তম্ভ নড়বড়ে হয়ে গেলেও চতুর্থ স্তম্ভ শক্ত থাকলে রাষ্ট্রকে গণমুখী রাখা যায়। আর চতুর্থ স্তম্ভ নড়বড়ে হলে রাষ্ট্রব্যবস্থা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, রাষ্ট্র বিপদগ্রস্ত হয়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব আশাবাদী মানুষ। আঁধার কেটে নিশ্চয়ই আলো আসবে। কিন্তু সেটা কি প্রকৃতির নিয়মে হবে? কাউকে না কাউকে ভূমিকা পালন করতে হয়।
সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবেই। সজাগ ও সচেতন থাকলে সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকরা হারিয়ে যাবেনা। সাংবাদিকতার ডিকশনারি থেকে সততা ও পেশাদারিত্ব শব্দ দুটি কখনই বিলীন হবে না। সেখানে অসৎ আর হলুদ সাংবাদিকতার স্থান নেই।”
এছাড়াও সভায় শ্রীমঙ্গলে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকটনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।