প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার পরিপন্থী: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৫

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার পরিপন্থী: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০৩ জুন ২০২৫ : ফ্যাসিবাদী আমলের অবহেলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিপূরক অর্থ বরাদ্দ প্রস্তাবিত বাজেটে থাকবে এমন প্রত্যাশা ছিল জনগণের। কিন্তু রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার অঙ্গীকার করে আসা অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

Manual5 Ad Code

মঙ্গলবার (৩ জুন ২০২৫) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

Manual6 Ad Code

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের ১২.১০৭ শতাংশ! অথচ দীর্ঘদিন থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ অপরাপর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ২৫ ভাগ অথবা জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ বরাদ্দ করার দাবি জানিয়ে আসছে। ইউনেস্কোর সুপারিশও তদ্রূপ।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, শিক্ষাখাতকে অবহেলায় রেখে রাষ্ট্রের কোন সংস্কার টেকসই হবে না। অথচ এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদাসীনতা স্পষ্ট। ১১টি সংস্কার কমিশন করা হলেও বৈষম্যের অন্যতম বড় ক্ষেত্র শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোন সংস্কার কমিশন করা হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিগত বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় এবার ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিদায়ী অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছিল ৪৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের জন্য এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। যা বিদায়ী অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছিল ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। অংকে টাকার পরিমাণ সামান্য বাড়লেও বাজেটের চরিত্র গতানুগতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য জিইয়ে রাখার বাজেট বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।

Manual4 Ad Code

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ নীতি গ্রহণ করার জন্যই আজ শিক্ষাক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর বিপরীতে সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেক্যুলার একই পদ্ধতির বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা ছাড়া একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আজকের শ্রীলঙ্কা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সে দেশেও গণ-অভ্যুত্থানের পরে বর্তমান সরকার জাতীয় আয়ের ৮.৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাদের এই উদ্যোগ কার্যকরী বলেই প্রমাণিত হচ্ছে। ফলে এই বাজেট পুনরায় সংশোধন করে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ২৫ ভাগ অথবা জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৮ ভাগ বরাদ্দ করার জন্য অর্থ উপদেষ্টাসহ সরকারের প্রতি নেতৃবৃন্দ দাবি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ