শ্রীমঙ্গলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন

Manual4 Ad Code
‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলনে নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার | ১৫ অক্টোবর ২০২৫ : ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

Manual2 Ad Code

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় শ্রীমঙ্গলের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন। তিনি এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী বক্তৃতায় এর সফলতা কামনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোকিত মানবতার বার্তা

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী সঞ্চালনায় আয়োজিত এ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট এবং সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান; শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সঞ্জিত কুমার দাশ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির আহবায়ক খন্দকার জাকির হোসেন, কবি রতন আচার্য্য, ভ্রাম্যমাণ বইমেলার বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সোহেল সরকার, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, আবৃত্তিকার ও লেখক বিকাশ দাশ বাপ্পন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রহমান, মেলার সংগঠক জান্নাতুল নাঈম, ড্রাইভার হানিফ ফরাজী, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল, নিউজ পোর্টাল আমার সিলেট-এর সম্পাদক আনিসুল ইসলাম আশরাফী ও গণমাধ্যমকর্মী দেওয়ান মাসুকুর রহমান।

Manual8 Ad Code

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।

সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় আয়োজন

Manual6 Ad Code

সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা চলবে ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত।
প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাঠ পর্যায়ে মেলা আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ ফাউন্ডেশন।

“ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি”— পাঠের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার এক উদ্যোগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে সহজলভ্যভাবে বিশ্বসেরা বই পৌঁছে দিতে আমরা ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি’ চালু করেছি। এটি আমাদের ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ মূল কর্মযজ্ঞেরই অংশ।”

Manual2 Ad Code

তিনি আরও জানান, মেলায় রয়েছে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক রচনা, অনুবাদ সাহিত্য, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, রূপকথা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বাছাইকৃত বইয়ের সমাহার।
পাঠপ্রেমীদের উৎসাহিত করতে প্রতিটি বইয়ে থাকছে বিশেষ মূল্যছাড়।

“জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার উজ্জ্বল যাত্রা”— কমরেড আমিরুজ্জামান

এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে জানতে চাওয়া হলে এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সত্তরের দশকের শেষভাগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪৬ বছরের এই যাত্রায় কেন্দ্রটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক আলোকিত অঙ্গনে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি অনুসন্ধিৎসু, সৌন্দর্যপ্রবণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার এক কর্মশালা। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ও রুচিশীল সংস্কৃতির বিকাশই এর উদ্দেশ্য।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন— “শ্রীমঙ্গলের এই চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা জ্ঞানপিপাসু মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হোক, আর আলোকিত মানুষ গড়ার আন্দোলন আরও বেগবান হোক।”

শ্রীমঙ্গলে পাঠপ্রেমীদের মিলনমেলা

মেলা ঘিরে শ্রীমঙ্গলজুড়ে বই ও পাঠের এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা দলে দলে মেলায় ভিড় করছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে অংশগ্রহণ করছে পাঠচক্র ও আলোচনায়।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ বাড়াবে, বইয়ের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক তৈরি করবে এবং মননশীল প্রজন্ম গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র : জ্ঞানের আলোকবর্তিকা

১৯৭৮ সালে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে বইপড়ার অভ্যাস, প্রজ্ঞামূলক চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে এর পাঠচক্র, লাইব্রেরি ও মোবাইল লাইব্রেরি কর্মসূচি সারাদেশে বিস্তৃত।

সমাপ্তি ১৮ অক্টোবর

শনিবার (১৮ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বইমেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।
চারদিনব্যাপী এই আয়োজন শুধু বই বিক্রির মেলা নয়; এটি এক আলোকিত সমাজ গড়ার অনুপ্রেরণার উৎসব— যেখানে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন বুনছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।