বাঙালি জাতি ও জনগণের শ্রেষ্ঠ অর্জন এই স্বাধীনতা: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

বাঙালি জাতি ও জনগণের শ্রেষ্ঠ অর্জন এই স্বাধীনতা: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

Manual7 Ad Code
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৫৪ বছরে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সশস্ত্র সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ও জনগণের বড় ও শ্রেষ্ঠ অর্জন এই স্বাধীনতা।
আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। ৯ মাসের জনগণের মহান আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সশ্রদ্ধ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী হিসেবে বীরত্ব প্রকাশের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন ও প্রগতিশীল চিন্তা এবং বিপ্লবী চেতনার একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।”

মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘বিজয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual6 Ad Code

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Manual5 Ad Code

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও বলেন, “১৯৪৮ সাল থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ২১ দফার সংগ্রাম, ৬২’র শিক্ষার আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটির একাংশের নেতৃত্বে পল্টনের বিশাল জনসভা থেকে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’র কর্মসূচি ও ঘোষণা প্রকাশ্যে উত্থাপন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বাঙালির স্বাধীনতা আন্দলন ও বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একাত্মতা ঘোষণা, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও দু’লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তির দিন আজ।
বাঙালির স্বাধীনতা আন্দলন ও বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একাত্মতা ঘোষণার পর জাতিগত নিপীড়ন-শোষণ-বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার মুক্তিপাগল বাঙালি যুদ্ধের জন্য তৈরিই ছিলো বলা যায়।
বাংলাদেশের মানুষ প্রথম থেকেই জাতিগত শাসন-শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে- যার চূড়ান্ত রূপ লাভ করল ’৭১-এর সুমহান সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ভিতর দিয়ে।
জাতির সূর্য সন্তান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদ ও সকল শহীদ বুদ্ধিজীবী, সম্ভ্রম হারানো ২ লক্ষ মা-বোন, নির্যাতিত পনের লাখেরও বেশি মানুষ, সর্বস্ব হারানো ১ কোটি মানুষসহ গোটা জনগণের লড়াই-সংগ্রাম-ত্যাগ তিতিক্ষা আর অবদানের জন্য তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!”

বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কন্ঠের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘বিজয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গকবি মো. লুৎফুর রহমান, বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক এম এ রকিব, বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুহেলুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া, শুভ সংঘের সদস্য আক্তারুজ্জামান দিপু , সদস্য এমরান হোসেন, শেখ আহমদ নাঈম সাকিব, ইমন মিয়া, ইকবাল হোসেন, বর্ষন পাল, জিলান মিয়া, বাবুল মিয়া প্রমুখ।

Manual6 Ad Code

Manual5 Ad Code

বক্তারা বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালনা কালের কণ্ঠসহ প্রতিটি মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে এগিয়ে যাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জেড ফোর্সের প্রধান ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান বিজয়।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ