শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরিতে সংযোজিত হলো শিশুতোষ রহস্য উপন্যাস ‘পালংকি রহস্য’

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরিতে সংযোজিত হলো শিশুতোষ রহস্য উপন্যাস ‘পালংকি রহস্য’

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ : শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাঠাভ্যাস উন্নয়ন ও শিশু-কিশোরদের বইমুখী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরি পাঠক কর্নারে সংযোজিত হয়েছে লেখিকা ও কথাসাহিত্যিক সামিহা মাহজাবিন অর্চির জনপ্রিয় রহস্য উপন্যাস ‘পালংকি রহস্য’। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিনের বিশেষ আগ্রহে এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অর্থায়নে স্থাপিত এই পাঠক কর্নারে লেখিকা নিজ হাতে তাঁর লেখা বইটি পাঠকদের জন্য আলমিরাতে সাজিয়ে রাখেন।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে স্থাপিত এই লাইব্রেরি পাঠক কর্নারটি ইতোমধ্যে যাত্রী, স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যাতায়াতের ফাঁকে ফাঁকে বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করায় এটি একটি অনন্য সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
লেখিকা সামিহা মাহজাবিন অর্চি জানান, পাবলিক স্পেসে বিশেষ করে রেলস্টেশনের মতো জায়গায় বই রাখা হলে শিশু ও কিশোরদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তিনি বলেন, “স্টেশনে বসে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে নতুন প্রজন্ম মোবাইল ও গেমের পাশাপাশি বইয়ের জগতে প্রবেশ করবে। আমার লেখা ‘পালংকি রহস্য’ যদি শিশুদের কল্পনাশক্তি ও অনুসন্ধিৎসা বাড়াতে পারে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

Manual8 Ad Code

রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরপুর ‘পালংকি রহস্য’

‘পালংকি রহস্য’ একটি কল্পকাহিনীমূলক শিশুতোষ রহস্য উপন্যাস। গল্পের মূল উপজীব্য পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অমূল্য রত্ন বা অজানা সম্পদ ঘিরে রহস্যের অনুসন্ধান। ধাঁধাঁ, অভিযান ও আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে যায়, যা শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি সকল বয়সের পাঠককে শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতা দেয়।

বইটির থিমে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য ও অনুসন্ধান—যা পাঠকের কৌতূহল জাগিয়ে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সহজ ভাষা, কল্পনাশক্তি ও রোমাঞ্চকর বর্ণনার কারণে এটি শিশুদের উপযোগী করে লেখা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

বইটি বর্তমানে PBS Book Shop, bdbooks.net এবং Boisodai.comসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে পাওয়া যাচ্ছে।

পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রশাসনের উদ্যোগ

Manual3 Ad Code

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “শ্রীমঙ্গলের মানুষ সংস্কৃতিমনা। রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরি পাঠক কর্নার আমাদের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে সফলতার মুখ দেখছে। ভবিষ্যতে এখানে আরও বই সংযোজন করা হবে, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য।”

Manual1 Ad Code

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মেধা ও মননশীলতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় পাঠক ও যাত্রীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, স্টেশনে অপেক্ষার সময় বই পড়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দের এবং এটি নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করবে।
সামগ্রিকভাবে, শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরিতে ‘পালংকি রহস্য’ সংযোজন শুধু একটি বই প্রদর্শন নয়, বরং শিশু-কিশোরদের কল্পনার জগৎ উন্মোচন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার এক ইতিবাচক পদক্ষেপ—যা জাতীয় পর্যায়েও অনুকরণীয় হতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ