সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এম বি এ বেলালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এম বি এ বেলালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ : বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, শ্রীমঙ্গল থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত ও জননন্দিত দৈনিক খোলাচিঠি এবং সাপ্তাহিক শ্রীমঙ্গলের চিঠি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এম বি এ বেলালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল (মঙ্গলবার)।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় ও আঞ্চলিক সাংবাদিকতাকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে গেছেন। গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি আজীবন অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখনী চালিয়েছেন। শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের জনপদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

Manual5 Ad Code

এম বি এ বেলালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাপ্তাহিক নতুন কথা’র প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এম বি এ বেলাল ছিলেন আপসহীন সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সাহসী কলম আজও আমাদের পথ দেখায়।”

এছাড়াও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আব্দুল হাই ডন এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন পৃথক শ্রদ্ধা বার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তারা বলেন, “শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিকতার যে শক্ত ভিত্তি আজ দৃশ্যমান, তার পেছনে এম বি এ বেলালের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল একজন সংবাদযোদ্ধা।”

মরহুম এম বি এ বেলালের স্মরণে এদিন শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান ইউনিয়নের কয়েকটি এতিমখানায় গরীব ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। মানবিক এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর সমাজসেবামূলক ও মানবিক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজসেবক ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, এম বি এ বেলাল শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন নিরলস কর্মী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত পত্রিকাগুলো স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য, এম বি এ বেলাল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক তৈরি এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকতা জগতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও পূরণ হয়নি বলে মনে করেন সহকর্মীরা।
মহান এই সাংবাদিকের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিক মহলসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

তাঁকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

Manual7 Ad Code

সাংবাদিকতার বাতিঘর এম বি এ বেলাল

— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

শ্রীমঙ্গলের মাটি ছুঁয়ে ওঠা
এক দৃপ্ত কণ্ঠের নাম ছিল তিনি,
সত্যের পক্ষে অবিচল কলম
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনমনীয় ঋণী।
সময় গড়ালেও ম্লান হয়নি
তাঁর সাহসী উচ্চারণের ধ্বনি—
এম বি এ বেলাল, সাংবাদিকতার
এক জীবন্ত ইতিহাস, এক অনন্য স্মৃতি।

Manual2 Ad Code

আগামীকাল মঙ্গলবার
এই জনপদের নির্ভীক সংবাদযোদ্ধার
২০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
যিনি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে
স্থানীয় সাংবাদিকতাকে দিয়েছিলেন
দৃঢ় ভিত, সাহসী ভাষা ও
মানুষের কথা বলার অধিকার।

দৈনিক খোলাচিঠি
আর সাপ্তাহিক শ্রীমঙ্গলের চিঠি—
এই দুই কাগজ ছিল শুধু সংবাদ নয়,
ছিল গণমানুষের মনের দর্পণ।
শোষিতের কান্না, নির্যাতিতের আর্তি,
উপেক্ষিত জনপদের চাপা ক্ষোভ—
সবই উঠে আসত তাঁর কলমে
অক্ষরে অক্ষরে, সাহসে নির্ভীক।

তিনি জানতেন, সাংবাদিকতা
শুধু পেশা নয়, এক ধরনের ব্রত।
সেই ব্রতের শপথ নিয়েই
আজীবন লিখেছেন অন্যায়,
দুর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার রক্তচক্ষু তাঁকে
পথভ্রষ্ট করতে পারেনি কখনো—
কারণ তাঁর শক্তি ছিল জনগণ।

শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের জনপদে
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায়
তাঁর ভূমিকা আজও উচ্চারিত।
রাজনীতির কোলাহলে সত্যকে
যিনি চাপা পড়তে দেননি,
সাংবাদিকতার নামে সুবিধাবাদ
যিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—
তিনি এম বি এ বেলাল।

সহকর্মীরা বলেন,
তিনি ছিলেন আপসহীন সাংবাদিকতার
এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নবীন সাংবাদিকদের কাছে
তিনি ছিলেন অভিভাবক,
ছিলেন নির্ভরতার নাম।
ভুল করলে শাসন করতেন,
কিন্তু কলম ধরতে শিখিয়েছেন
সত্যের দিকেই তাকিয়ে।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ
তাঁর স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন—
আজ যে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে
শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিকতা,
তার পেছনে এম বি এ বেলালের
অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে
অবিচল এক সংবাদযোদ্ধা।

মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে
তাঁর স্মরণে এতিমখানায়
দুপুরের খাবার বিতরণ—
এই কর্মসূচি যেন তাঁর
মানবিক দর্শনেরই প্রতিফলন।
কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন,
সাংবাদিকতার দায়িত্ব শুধু লেখা নয়,
সমাজের পাশে দাঁড়ানোও কর্তব্য।

Manual7 Ad Code

এম বি এ বেলাল ছিলেন
সমাজ পরিবর্তনের এক নিরলস কর্মী।
স্থানীয় সমস্যাকে জাতীয় পরিসরে
তুলে ধরার যে সাহসী চর্চা,
তা তাঁর হাত ধরেই বিস্তৃত।
গ্রামের কথা, চায়ের বাগানের শ্রমিক,
নির্যাতিত মানুষের বেদনা—
সবই পেয়েছে কণ্ঠস্বর।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
তিনি লড়েছেন স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে,
চেষ্টা করেছেন মানোন্নয়নের,
স্বপ্ন দেখেছেন নতুন প্রজন্মের
সৎ ও সাহসী সাংবাদিক গড়ার।
তাঁর সেই স্বপ্ন আজও
পথ দেখায় অনেককে।

বিশ বছর পেরিয়ে গেছে,
কিন্তু শূন্যতা রয়ে গেছে গভীর।
সহকর্মীরা বলেন—
এই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি।
কারণ মানুষ চলে গেলেও
তাঁর আদর্শ থেকে যায়,
তাঁর সাহস থেকে যায়,
তাঁর কলমের আলো থেকে যায়।

২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে
শ্রদ্ধায় নত সাংবাদিক সমাজ।
সর্বস্তরের মানুষ প্রার্থনা জানায়—
মহান এই সংবাদযোদ্ধার
রুহের মাগফিরাত কামনা করে।
ইতিহাসের পাতায় তিনি থাকবেন
এক অনমনীয় নাম হয়ে—
এম বি এ বেলাল,
সাংবাদিকতার বাতিঘর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ