শ্রমিক অধিকারের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে সংহতি এসএফআইয়ের

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

শ্রমিক অধিকারের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে সংহতি এসএফআইয়ের

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি (ভারত), ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : শ্রমিকদের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের লাগাতার আক্রমণের প্রতিবাদে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI)।

ভারতের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ আহ্বানে এই সাধারণ ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

SFI-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বিজেপি-আরএসএস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমিক, ছাত্র, কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকারের উপর এক বহুমুখী আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। শ্রম আইন সংশোধনের নামে যে নতুন শ্রম কোডগুলি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা শ্রমিক শ্রেণির উপর উদীয়মান পুঁজিবাদী সংকট ও সরকারের ব্যর্থতার বোঝা চাপানোরই একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

শ্রম কোডের প্রভাব ছাত্রসমাজের ভবিষ্যতের উপর পড়বে বলে জানিয়ে SFI বলেছে, আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের চাকরিপ্রার্থী। নতুন শ্রম কোড কার্যকর হলে তাঁদের কর্মজীবনে চরম অনিশ্চয়তা, কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং অধিকারহীন পরিবেশ তৈরি হবে। বিশেষ করে বেসরকারি ও কর্পোরেট ক্ষেত্রে কর্মরত যুবসমাজ এই কোডের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংগঠনের দাবি।

সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ব্যাঙ্কিং, টেকনোলজি-সহ প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা হ্রাস এবং ইউনিয়ন অধিকারের সংকোচন ঘটবে। এর ফলে কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Manual8 Ad Code

সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপর আঘাত

Manual4 Ad Code

SFI অভিযোগ করেছে, নতুন শ্রম কোডগুলি শ্রমিকদের জন্য আগে থেকেই সীমিত যে সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল, তাকেও দুর্বল করে দেবে। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যত ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণাকেই বিপন্ন করবে।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম ভরসা এমজিএনইজিএ (MGNREGA) প্রকল্পকে ধ্বংস করার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টার কারণে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারকে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে শিক্ষাক্ষেত্রেও—স্কুল ও কলেজ থেকে ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে SFI।

শ্রমিক আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের অভিন্ন লড়াই
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিক অধিকারের উপর আক্রমণ আসলে একই নব্যউদারবাদী ও কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ, যার ফলে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়েছে, সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে, ফি বৃদ্ধি পেয়েছে, ক্যাম্পাস গণতন্ত্র সংকুচিত হয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনকে অপরাধীকরণ করা হয়েছে।

SFI জোর দিয়ে জানিয়েছে, শ্রমিক অধিকারের লড়াই ছাত্রসমাজের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এই কারণেই সংগঠনটি ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে ‘পাবলিক স্কুল রক্ষা করো’ এবং ‘HECI বিল বাতিল করো’—এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে অংশ নেবে।

Manual8 Ad Code

ধর্মঘটে অংশগ্রহণের আহ্বান

Manual1 Ad Code

SFI-এর সভাপতি আদর্শ এম সাজি ও সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তাঁরা যেন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে শ্রমিক শ্রেণির ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়ান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ