আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস: আনার্কাদের ঋণ, মানবতার দায়

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস: আনার্কাদের ঋণ, মানবতার দায়

Manual6 Ad Code

সালাহ উদ্দিন আহমদ জুয়েল | ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ : মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, টিকা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি সেবা, নারীর প্রজননস্বাস্থ্য—এসব উন্নতি কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। আধুনিক গাইনিকোলজি বা স্ত্রীরোগবিদ্যাও তেমনই এক ক্ষেত্র, যা অসংখ্য নারীর জীবনরক্ষা, মাতৃত্বের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। কিন্তু এই অগ্রগতির পেছনে এমন কিছু ইতিহাস আছে, যা শুধু অস্বস্তিকর নয়, ভয়াবহও বটে। সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে আছেন কিছু নামহীন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদাসী—যাদের শরীর, যন্ত্রণা এবং নীরব কান্নাকে ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিছু ভিত্তি।

এই আলোচনায় বারবার ফিরে আসে এক নাম—জে. ম্যারিয়ন সিমস (J. Marion Sims)। তাকে দীর্ঘদিন ধরে “আধুনিক গাইনিকোলজির জনক” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি নারীর জননাঙ্গ-সংক্রান্ত কিছু অস্ত্রোপচার-পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটান, বিশেষত ভেসিকোভ্যাজাইনাল ফিস্টুলা নামক জটিল রোগের চিকিৎসায়। কিন্তু আজ ইতিহাসের নথি ও গবেষণা স্পষ্টভাবে দেখায়, এই উন্নয়ন অর্জিত হয়েছিল এক নির্মম শোষণ ও বর্ণবাদী নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে।

চিকিৎসার জন্য নিষ্ঠুর পরীক্ষা

সিমস আলাবামায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদাসীদের ওপর বারবার অস্ত্রোপচার চালাতেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন প্রসবজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। তখনকার সময়ে ফিস্টুলা রোগ নারীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, অসুস্থ ও অসহায় করে তুলত। কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজনকে সম্মান না করে, তাদেরকে গবেষণার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইতিহাসে উল্লেখ আছে, তিনি বহু অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়া। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৪৬ সালের পর অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার শুরু হলেও সিমসের পরীক্ষাগুলোতে তা প্রয়োগ করা হয়নি বলে বিস্তর সমালোচনা রয়েছে। সে সময় প্রচলিত বর্ণবাদী ধারণা ছিল—কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ নাকি কম ব্যথা অনুভব করে। এই মিথ্যা ও অমানবিক বিশ্বাস চিকিৎসকদের একাংশের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছিল। সিমসের কর্মকাণ্ডও সেই কাঠামোর বাইরে ছিল না।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম আনার্কা—এক তরুণী আফ্রো-আমেরিকান নারীদাসী। ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা যায়, তার ওপর বহুবার অস্ত্রোপচার চালানো হয়েছিল। গবেষকদের মতে, চার বছরের মধ্যে তার ওপর ৩০ বারেরও বেশি সার্জারি করা হয়। প্রতিবারই ব্যথা, রক্তক্ষরণ, ভয়, অপমান—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। কিন্তু তার নামটি আজও ইতিহাসে থেকে গেছে শুধু একজন “রোগী” হিসেবে নয়; বরং একজন নীরব সহনশীল প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে।

অগ্রগতি কার দামে?

সভ্যতা প্রায়ই নিজের অর্জনের গল্প বলে, কিন্তু মূল্য পরিশোধকারীদের গল্প বলে না। আমরা অস্ত্রোপচারের নতুন পদ্ধতি, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়ন, চিকিৎসকদের অবদান স্মরণ করি; কিন্তু যাদের শরীরের ওপর সেই জ্ঞান দাঁড়িয়েছে, তাদের কথা উপেক্ষা করি।

আনার্কা, লুসি, বেটসি—এমন কয়েকজন নারীর নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের বাইরেও ছিলেন অসংখ্য নামহীন নারী, যাদের যন্ত্রণা কোনো নথিতে নেই। তারা গবেষণাপত্রের লেখক নন, চিকিৎসা-সম্মেলনের বক্তা নন, মূর্তি বা স্মৃতিস্তম্ভের মুখ নন। অথচ তাদের শরীরই ছিল পরীক্ষাগার।

এই প্রশ্ন তাই জরুরি—আমরা কাকে “জনক” বলি, আর কাদের ইতিহাস মুছে দিই?

নৈতিকতা: অতীতের বিচার, বর্তমানের শিক্ষা

ইতিহাসকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ বলেন, উনিশ শতকের চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো নৈতিক ছিল না। কিন্তু এটাও সত্য যে, তখনও ব্যথা, অপমান, জবরদস্তি এবং মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা অন্যায় ছিল। দাসপ্রথা নিজেই ছিল অমানবিক। তাই সেই কাঠামোর মধ্যে সংঘটিত চিকিৎসা-নির্যাতনকে কেবল “সময়কাল” বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

আজকের বিশ্বে চিকিৎসা গবেষণায় ইনফর্মড কনসেন্ট, রোগীর অধিকার, নৈতিক পর্যালোচনা বোর্ড, মানবিক মর্যাদা—এসব ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। নাৎসি চিকিৎসা-পরীক্ষা থেকে শুরু করে টাসকিগি সিফিলিস স্টাডি—বহু ভয়াবহ ঘটনার পর বিশ্ব শিখেছে, জ্ঞান যদি মানবিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে তা অগ্রগতি নয়।

Manual1 Ad Code

স্মৃতি, সংশোধন ও পুনর্মূল্যায়ন

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সিমসকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে তার মূর্তি অপসারণ করা হয়েছে। চিকিৎসা-ইতিহাসবিদরা এখন বলছেন, কেবল একজন ব্যক্তিকে মহিমান্বিত না করে পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরা উচিত। অর্থাৎ, সিমসের চিকিৎসা-অবদান থাকলেও, তার পদ্ধতির নৈতিক ব্যর্থতাও সমানভাবে আলোচনায় আনতে হবে।

এটি কোনো “ইতিহাস মুছে ফেলা” নয়; বরং ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে দেখা।

আমাদের জন্য শিক্ষাটি কী?

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা-গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা—এসব ক্ষেত্রেও নৈতিকতার প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র, নারী, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক মানুষ—যারা সামাজিকভাবে দুর্বল, তারাই প্রায়শই শোষণের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই অতীতের আনার্কাদের স্মরণ করা মানে শুধু শোক প্রকাশ নয়; বর্তমানকে সতর্ক করা।

আমাদের চিকিৎসা-শিক্ষায় শুধু প্রযুক্তি নয়, মেডিক্যাল এথিক্স, মানবাধিকার, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং বর্ণবাদবিরোধী শিক্ষা জরুরি। কারণ দক্ষ চিকিৎসক হওয়া যথেষ্ট নয়; মানবিক চিকিৎসক হওয়াই আসল লক্ষ্য।

শেষকথা

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভাবান বিজ্ঞানী নন, আছেন অসংখ্য অদৃশ্য মানুষও। কেউ গবেষক, কেউ নার্স, কেউ রোগী, কেউ পরীক্ষার শিকার। ইতিহাসের ন্যায়বিচার দাবি করে—আমরা যেন শুধু বিজয়ীদের নয়, ভুক্তভোগীদের নামও স্মরণ করি।

আনার্কা ও তার মতো অসংখ্য নারীর যন্ত্রণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অগ্রগতি যদি মানুষের মর্যাদা ভুলে যায়, তবে তা সভ্যতার জয় নয়, ব্যর্থতা।

তাই আধুনিক গাইনিকোলজির ইতিহাস লিখতে হলে শুধু একজন “জনক”-এর নাম নয়, উচ্চারণ করতে হবে বহু “জননী”-র নীরব আর্তনাদও।
#
Salah Uddin Ahmed Jewel
তথ্যসূত্র: আফ্রিকান ভয়েস

Manual2 Ad Code

আনার্কার অশ্রু ও শল্য-সভ্যতা
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

রাত ছিল ঘন কালো, জ্বলত দাসখামার,
চাবুকে কাঁপত গা, নীরবতার ভার।

শস্যের মাঠ পেরিয়ে, রক্তমাখা পথ,
মানুষেরা বিক্তো তখন পশুর মতো রথ।

হাটে হাটে দাঁড়িয়ে নারী, চোখে ভাঙা লাজ,
দাম কষে কিনত লোক, হাসত নরসমাজ।

শিশিরভেজা ভোরে কেউ ডাকত নাম ধরে,
সেই নাম কাঁদত শুধু বুকের ভেতর ঘরে।

কেউ ছিল আনার্কা, কেউ লুসি, কেউ বেট্‌সি,
তাদের কণ্ঠরোধে সভ্যতারই নেশি।

লোহার মতো হাত, কাঁধে দাসের দাগ,
কেউ দেখে না মানুষ, দেখে শুধু ভাগ।

তারই মাঝে উঠল এক নামি চিকিৎসক,
সাদা কোটে মোড়া, বাহিরে ভদ্রলোক।

ভিতরে তার শল্যলোভ, পরীক্ষারই ক্ষুধা,
মানবতার মুখে সে মেখে দিল ধূধা।

বলল সে— কালো দেহে ব্যথা বলে নাই,
এই মিথ্যার চূড়ায় উঠে দাঁড়াল যেই ঠাঁই।

মিথ্যা যখন শাস্ত্র হয়, কাঁপে পৃথিবীখান,
জ্ঞান যখন হিংস্র হয়, পোড়ে প্রাণে প্রাণ।

তাই তো দাসী নারীর জননাঙ্গ-ক্ষত,
করল সে গবেষণার পাথর-লেখা রথ।

হাত-পা বেঁধে টেনে নিত কাঁদতে কাঁদতে গায়,
চিৎ করে শুইয়ে দিত ঠান্ডা লোহার ঠাঁই।

চার দিকে চার বাঁধন, ওপরে শল্য-ছুরি,
নিভে যেত জানালার শেষ আলোরই সুরী।

না ছিল ঘুমের ঔষধ, না ছিল করুণা,
কাঁপত কেবল কক্ষ, উঠত চিৎকার ধ্বনি।

কেউ বলত— মা গো বাঁচাও, কেউ বলত— জল দাও,
কেউ শুধু দাঁত চেপে বলত— এবার থামাও।

কিন্তু থামেনি কিছু, চলেছে দিনরাত,
ব্যথাকে করেছে তারা বিজ্ঞানেরই হাত।

রক্তমাখা টেবিলে লিখেছে নূতন নাম,
সভ্যতার পাঠশালায় উঠেছে করতাল ধাম।

যে বই আজ পড়ি আমরা জ্ঞানের গর্বভরে,
সেই পাতাতে কান্না শুকায় নীরব অক্ষরে।

চার বছরে আনার্কার দেহে চৌত্রিশ ক্ষত,
কতবার ছিন্ন হলো জীবনমুখী রথ।

চৌত্রিশ বার ছুরি ঢুকল, চৌত্রিশ রাত,
চৌত্রিশ বার ভাঙল বুকের সহ্যের প্রভাত।

Manual4 Ad Code

কে গুনেছে তার চোখে কয় সমুদ্র জল,
কে মেপেছে নিঃশ্বাসে কয় বজ্রের দল।

কে শুনেছে অপমানের লৌহশব্দধ্বনি,
কে দেখেছে লজ্জা কেমন ছাই হয়ে যায় গণি।

Manual7 Ad Code

বিজ্ঞান যদি মানুষহীন, তবে সে অন্ধকার,
সত্য যদি চাপা থাকে, তবে সে অধিকার?

শ্বেত প্রাসাদ উঠল পরে মূর্তি-মাল্য-পুষ্পে,
নীচে চাপা কঙ্কাল রইল লজ্জাহীন রূপে।

রাস্তার মোড়ে ব্রোঞ্জ-মূর্তি, হাতে নাকি জ্ঞান,
মাটির নীচে কান্না শোনে শুধু মৃত প্রাণ।

একদিন সে মূর্তি নামে জনতারই রোষে,
ইতিহাসের মুখোশ খুলে ধরা পড়ে দোষে।

কারণ মানুষ জানতে চায় কাহার দামে জয়,
কোন রক্তে লেখা হলো উন্নতির পরিচয়।

আজ যে মেয়ে হাসপাতালে নিরাপদে যায়,
আজ যে মা সুস্থ হয়ে শিশুকে বুকে চায়,

আজ যে শল্যকক্ষে আলো, ওষুধ, স্নিগ্ধ ঘুম,
তার পেছনে কত কাঁটা, কত লাঞ্ছনার ধুম।

সেই ঋণ কেবল ডাক্তারের নয় একা,
সেই ঋণ আনার্কারও, নাম না-জানা দেখা।

যে নারীরা বাঁধা ছিল দাসশৃঙ্খল-তলে,
তারাই জ্বেলে রেখেছিল মানবতার জ্বলে।

তাই বলি, গাইনিকোলজির জননী যদি খুঁজি,
সাদা কোটের গর্বে নয়, কান্নার ভিতর বুঝি।

যেখানে ব্যথা সহে মা, তবু প্রাণে দীপ,
সেইখানেই জন্ম নেয় শুশ্রূষার সঠিক নীপ।

আনার্কা, তোমার নামে উঠুক নতুন শপথ,
জ্ঞান যেন আর কখনো না হয় নিষ্ঠুর রথ।

শল্যকক্ষে প্রথম লেখা থাক মানবাধিকার,
রোগীর আগে মানুষ— এই হোক অঙ্গীকার।

রঙের নামে মিথ্যা যেন আর না পায় ঠাঁই,
জাতির নামে হিংস্রতা যেন না ওঠে ভাই।

নারীর দেহ গবেষণার লুণ্ঠনভূমি নয়,
সম্মতি ছাড়া স্পর্শও যে অপরাধময়।

চিকিৎসা মানে সেবা আগে, পরে বিদ্যা-মান,
সহানুভূতি ছাড়া সবই মরুভূমি জ্ঞান।

জাতীয় পত্রিকার পাতায় লিখে রাখো আজ,
লুকোনো সত্য ফেরাতে হবে মানুষেরই কাজ।

যে শিশু আজ বই খুলে সভ্যতার গান গায়,
সে যেন জানে, গানের নীচে কত আর্তনাদ রয়।

যে ছাত্র আজ ডাক্তার হবে, নেবে সাদা শপথ,
সে যেন আগে শুনে নেয় ইতিহাসের রথ।

যে গবেষক নূতন পথে ভবিষ্যৎ আঁকে,
সে যেন দেখে অতীত কেমন ক্ষতচিহ্ন রাখে।

কোনো উন্নতি অশ্রুহীন নয়— এ কথা ঠিক নয়,
অশ্রুকে ন্যায় না দিলে উন্নতিও ক্ষয়।

কোনো আবিষ্কার মহৎ নয় যদি মানুষ হারে,
মৃত্যুর সিঁড়ি বেয়ে উঠলে লজ্জা থাকে দ্বারে।

তাই আজ নতশিরে ডাকি নাম অজস্রর,
আনার্কা, লুসি, বেট্‌সি— সকল দাসী নারী।

তোমাদেরই দগ্ধ শরীর, সহ্যের আগুন-ছাপ,
আমাদেরই চিকিৎসাঘরে জ্বালিয়েছে প্রদীপ-তাপ।

ক্ষমা চাই না শুধু মুখে, চাই পরিবর্তন,
ইতিহাসে সত্য ফেরাও— এ হোক আয়োজন।

যতদিন এক জনমে অন্য জনের ক্ষয়,
ততদিন সভ্যতারও পূর্ণ মুক্তি নয়।

রাত ছিল ঘন কালো— তবু ভোর আসে,
আনার্কার নাম তাই জাগে নূতন শ্বাসে।

মানুষ যদি মানুষকে শেষমেশ চেনে,
তবেই সব রক্তধারা মর্যাদাতে বেঁচে রবে।

লিখে রাখো, লুকিও না— এ আমাদের দায়,
অশ্রুর বিনিময়ে পাওয়া জ্ঞানকে সত্য চাই।

নতশিরে বলি শেষে, ইতিহাসের দ্বার—
জননী তোমরাই, হে নামহারা নারী।