বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৩ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, কেক কাটা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

অনুষ্ঠানে চা শ্রমিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (৩ জুন ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ‘লেবার হাউস’-এর হলরুমে ইউনিয়নের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বাগান পঞ্চায়েত ও ভ্যালির শ্রমিক নেতা, সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Manual6 Ad Code

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ এ. কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ট্য তাঁতি, সহ-সম্পাদিকা রেখা বাক্তি এবং বালিশিরা ভ্যালির সহ-সম্পাদিকা সবিতা গোয়ালাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ৭৮ বছরের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন নয়, বরং দেশের চা শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের সংগ্রামে যৌথ দরকষাকষি করার আইনী ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন ও অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংগঠনটি চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সভায় বক্তারা চা শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন এবং আত্মত্যাগের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তারা বলেন, চা শ্রমিক সমাজের বর্তমান অর্জনের পেছনে রয়েছে অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের ত্যাগ, সাহস এবং আত্মনিবেদন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও রপ্তানি খাতে চা শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি চা শ্রমিকরা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ও বঞ্চনার মুখোমুখি। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরও চা বাগানের বহু শ্রমিক পরিবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

Manual5 Ad Code

তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে চা শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নিরাপদ আবাসন নির্মাণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

Manual3 Ad Code

বক্তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, চা বাগান কর্তৃপক্ষ, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চা শ্রমিকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা আগামী দিনেও চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। তারা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের সব চা শ্রমিক, শ্রমজীবী মানুষ এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ঐক্য, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চা শ্রমিক সমাজ ভবিষ্যতেও তাদের আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।

আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ভ্যালির শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উপস্থিত অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য, চা শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ এবং অধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ভবিষ্যতের লড়াইকে আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংগ্রামী পথচলার ৭৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকা ঐতিহাসিক। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং মানবিক জীবন নিশ্চিত করার সংগ্রামে সংগঠনটির অবদান দেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি চা শ্রমিকদের চলমান ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং তাদের আন্দোলনের সফলতা কামনা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ