বই পড়ার গুরুত্বে জোর, মাদারীপুরে সাংস্কৃতিক সংঘের মাসিক আড্ডা

প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬

বই পড়ার গুরুত্বে জোর, মাদারীপুরে সাংস্কৃতিক সংঘের মাসিক আড্ডা

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মাদারীপুর, ১৬ জুন ২০২৬ : বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে মাদারীপুরে সাংস্কৃতিক সংঘের মাসিক আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি মাদারীপুর ইউনিট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

Manual2 Ad Code

সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) বিকেলে মাদারীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্মপরিচালক এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী উজ্জ্বল হোসেন।

Manual4 Ad Code

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান রেবেকা সুলতানা। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাদারীপুর শাখার শাখা সংগঠক লিখন মাহমুদ তুর্য। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম অ্যান্ড ভেহিক্যাল) রাজন দত্ত মজুদার।

বক্তারা বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে জ্ঞান অর্জনের নানা মাধ্যম থাকলেও বইয়ের বিকল্প নেই। বই মানুষের চিন্তার পরিধি প্রসারিত করে, মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে এবং সৃজনশীল ও মানবিক সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো পাঠাভ্যাস। বই মানুষের মননশীলতা, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করে। তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণদের অবসর সময়ের একটি অংশ নিয়মিত বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই পৌঁছে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস বিস্তারে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বইকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার পাশাপাশি একটি আলোকিত সমাজ গঠনের পথ সুগম হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে রেবেকা সুলতানা বলেন, গণগ্রন্থাগার শুধু বই ধার দেওয়ার স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হয়।

স্বাগত বক্তব্যে লিখন মাহমুদ তুর্য সাংস্কৃতিক সংঘের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত পাঠচক্র, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি এবং সৃজনশীল চর্চা জোরদারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পাঠাভ্যাস বিস্তার, জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের অসংখ্য পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংস্কৃতিক সংঘের সদস্য ও স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, আবৃত্তি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সংঘের সদস্য, শিক্ষার্থী, পাঠক-পাঠিকা, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বইভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক চর্চা সম্প্রসারণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ