শ্রেণি সংগ্রামের চেতনায় শোষণ মুক্তির সংগ্রাম বেগবান করুন: খালেকুজ্জামান

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২৬

শ্রেণি সংগ্রামের চেতনায় শোষণ মুক্তির সংগ্রাম বেগবান করুন: খালেকুজ্জামান

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া, ০৪ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩ ও ৪ জোনের (খুলনা বিভাগীয়) দুইদিনব্যাপী রাজনৈতিক শিক্ষা শিবির ৩ ও ৪ জুলাই ২০২৬ শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির চতুর্থ তলা মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে শুরু হয়েছে।

বাসদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক কমরেড শফিউর রহমান শফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বাসদ প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জুলফিকার আলি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সম্পা বসু, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য কমরেড দিলরুবা নুরী ও জোনের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

Manual1 Ad Code

শিক্ষা শিবির সঞ্চালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা কমিটির আহবায়ক এ্যাড কমরেড আসাদুল ইসলাম আসাদ দুই দিনের শিক্ষা শিবিরের আলোচ্য বিষয় বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ মহামতি কার্ল মার্ক্স ও ফেডরিক এঙ্গেলস রচিত কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার ও ভ ই লেনিন রচিত কমিউনিস্ট সংগঠনের মূলনীতি সমূহ।

উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনায় কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি সংগ্রামের হাতিয়ার একটি সঠিক শ্রমিক শ্রেণির সংগঠন গড়ে তুলতে কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার ও পার্টি গডনের মূলনীতিতে উল্লেখিত চিন্তা পদ্ধতি ও দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের মাটিতে একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে তুলতে আজও প্রাসঙ্গিক।

Manual6 Ad Code

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকার দুঃশাসন চালিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিদায় বেলায় জাতীয় নির্বাচনের তিনদিন আগে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি বা গোলামী চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করে গেছে। নতুন করে GSOMIA ও ACSA নামে দুটি সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার পায়তারা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়াল্ড নামক বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এই সকল চুক্তি ও ইজারা বাংলাদেশের অর্থনীতি, স্বাধীন বাণিজ্য নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প, কৃষিখাত ধ্বংস হবে, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার সংকুচিত হবে। ঔষধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। গত দুই তিন মাসে ৬০০ শিশু হাম রোগে মারা গেছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা থেকে’ সেবা ‘কথাটা উঠে গেছে। রয়েছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিকীকরণ। এক মাসের মধ্যে সরকার দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে আরো একবার জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। কিন্তু সমতালে বাড়বে কি শ্রমিকের মজুরি, কৃষক পাবে কি তার ফসলের ন্যায্য দাম? গত ৪-৫ মাসে ১১৮ জন কণ্যা শিশু, ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এরমধ্যে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে ১৭ জনকে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই খুন ধর্ষণ নারী নির্যাতনের খবর চোখে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি রোধে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সৃষ্ট মব সন্ত্রাস এখনো বন্ধ হয়নি। মানুষের এই দুর্গতি দুর্ভোগের কারণ হলো পুঁজিবাদী শোষন-মূলক আর্থসামাজিক ব্যবস্থা তথা ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক মুনাফা কেন্দ্রীক উৎপাদন ব্যবস্থা। ফলে শুধু সরকার বদল হলেই জনগণের ভাগ্যের বদল হবে না। প্রয়োজন ব্যবস্থার পরিবর্তন। তাই পুঁজিবাদী শাসন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও লুন্ঠনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইকে শক্তিশালী করতে, সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সংগঠন ও ব্যক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া আজ সময়ের দাবি। তাই আসুন সবাই মিলে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ব্যবস্থা বদলের মাধ্যমে, সমতার সমাজ তথা শোষন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে শক্তিশালী করি।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ