প্রতিবেশী দেশগুলোর গঠনমূলক সম্পর্ক বাড়ানো প্রয়োজন: মাধব কুমার নেপাল

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬

প্রতিবেশী দেশগুলোর গঠনমূলক সম্পর্ক বাড়ানো প্রয়োজন: মাধব কুমার নেপাল

Manual4 Ad Code
  • সার্ককে সক্রিয় করার আহ্বান কমরেড মাধব কুমার নেপালের

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৬ : দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক, পারস্পরিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএন) কো-চেয়ারম্যান এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কমরেড মাধব কুমার নেপাল।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি মানবাধিকার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ অঞ্চলের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের মিলনায়তনে ‘সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন–২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual2 Ad Code

কমরেড মাধব কুমার নেপাল বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) একসময় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আস্থা ও উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে এর কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান বাস্তবতায় সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাই একযোগে কাজ করতে পারলে বিশ্ব দরবারে এ অঞ্চলের ভাবমূর্তি আরও সমুন্নত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা সম্ভব।”

সাবেক এই নেপালি প্রধানমন্ত্রী সার্কের স্থবিরতার পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ব মুহূর্তে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সম্মেলনটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকেই কার্যত সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই সময় থেকেই সার্ক এক ধরনের নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা এখন দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের স্বার্থেই জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংলাপ এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং বিদ্যমান মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যে তিনি সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অগ্রযাত্রাই এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হতে পারে।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কমরেড মাধব কুমার নেপাল।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরোর সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তিব্বত বিষয়ক সাবেক মার্কিন বিশেষ সমন্বয়কারী রবার্ট এ. ডেস্ট্রো; ভারতের জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা জজ এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ভারত শাখার সভাপতি ইমতিয়াজ আলী শাহ; মালদ্বীপ স্টেট শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালদ্বীপ পুলিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ শরীফ; ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডা. বংশীধর মিশ্র; শ্রীলঙ্কার সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক পরিচালক ড. কৈলয়ানাখন রজনীকাহ এবং ভুটানের থিম্পুভিত্তিক সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের বিশেষ প্রতিনিধি ড. গেদেন দোর্জি।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উদ্বোধনী ও স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক মেজর জেনারেল (অব.) আবু নাসের মো. ইলিয়াস।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবেদ আলী, পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, ইকবাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম রাসেল ভূঁইয়া, মেজর (অব.) জাহিদ হোসেন, মুহাম্মদ রাজ, ডন বস্কো স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইন্টারন্যাশনালের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার লস্কর, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এন.এম. মেশকাত উদ্দিন এবং সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ও সাবেক জেলা জজ শেখ জালাল উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের মাধ্যমে একটি কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। তারা সার্ককে কার্যকর ও সক্রিয় করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বিভিন্ন ব্যক্তি ও মানবাধিকারকর্মীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন–২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন কমরেড মাধব কুমার নেপাল।

এ সময় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. ফারুক খাঁন, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রুয়েল খাঁন আশরাফুল এবং সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী ও সুনামগঞ্জ জেলা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসাইন-এর হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

Manual5 Ad Code

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে দেশ-বিদেশের কূটনীতিক, মানবাধিকারকর্মী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবাধিকারের সর্বজনীন মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Manual1 Ad Code

সম্মেলনের সার্বিক আলোচনায় উঠে আসে—দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক সংহতির কোনো বিকল্প নেই। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণই হতে পারে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ