সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক মিজানুর রহমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক মিজানুর রহমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬ : সাংবাদিকতা, ভাষা আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, ভাষা সৈনিক ও প্রবীণ সাংবাদিক মিজানুর রহমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)।

Manual8 Ad Code

এ উপলক্ষে তাঁর কর্মময় জীবন, সাংবাদিকতায় অবদান এবং দেশপ্রেমকে স্মরণ করে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আজ বাদ আসর জাতীয় প্রেসক্লাবের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ, কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ভাষা আন্দোলনের গবেষক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণ নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মিজানুর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম, পেশাগত সততা এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে তুলে ধরাই এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। আলোচনা সভায় তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ততা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিকাশে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

মিজানুর রহমান ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বাণিজ্যিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ইত্তেফাক-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই)-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Manual4 Ad Code

সাংবাদিকতা পেশায় তিনি ছিলেন নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণে তিনি সহকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন। তাঁর লেখনীতে দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজ ও গণমানুষের নানা প্রত্যাশা-প্রাপ্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যে থেকেও তিনি জাতীয় কল্যাণে অবদান রাখেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন দেশ ও ভাষার প্রশ্নে সক্রিয়। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক জাগরণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় থেকেও তিনি মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং জাতীয় স্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখেন।

সহকর্মীদের মতে, মিজানুর রহমান ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী এবং নীতিবান সাংবাদিক, যিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে কখনও আপস করেননি। তরুণ সাংবাদিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সংবাদ পরিবেশনে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মান রক্ষায় তিনি সবসময় গুরুত্ব দিতেন। তাঁর কর্মদর্শন এখনও অনেক সাংবাদিকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

সাংবাদিক সমাজের বিশিষ্টজনরা মনে করেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমুখী সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মিজানুর রহমানের অবদান নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। তাঁরা বলেন, দেশের সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

Manual1 Ad Code

২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Manual7 Ad Code

মিজানুর রহমানের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মী ও গুণগ্রাহীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ