শাবিপ্রবির সাংগঠনিক জেলায় নাগরিকত্ব কর্মশালা

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

শাবিপ্রবির সাংগঠনিক জেলায় নাগরিকত্ব কর্মশালা

Manual3 Ad Code
  • অধিকার, দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাংগঠনিক জেলায় তরুণদের মধ্যে সচেতন নাগরিকত্ব, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতার চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে ‘নাগরিকত্ব কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual1 Ad Code

গত রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘Building Youth Leadership, Pluralism and Social Harmony’ (BYLPSH) কর্মসূচির উদ্যোগে এবং শাবিপ্রবি সাংগঠনিক জেলার আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় নাগরিক ও নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণা, সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার, মৌলিক চাহিদা, রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং একজন সচেতন, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তরুণদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

কর্মশালাটি ছিল মূলত অংশগ্রহণমূলক ও মতবিনিময়নির্ভর। এতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আলোচনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং নাগরিক অধিকার, দায়িত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন। আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করা হয়।

Manual7 Ad Code

আয়োজকেরা জানান, একটি গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতিশীল সমাজ গঠনে শুধু নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জানা যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াও জরুরি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে অধিকার সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Manual2 Ad Code

কর্মশালায় নাগরিকত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। সংবিধান একজন নাগরিককে যেসব মৌলিক অধিকার প্রদান করেছে, সেগুলো সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অন্যের অধিকার, মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে। বহুত্ববাদ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ, সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. এহসান মাজিদ সাদি, শাবিপ্রবির সাংগঠনিক সমন্বয়কারী ইমাম তালহা ধ্রুব, যুগ্ম জেলা সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন এবং যুগ্ম জেলা সমন্বয়কারী রুহিল মাদিনী মিম।

কর্মশালায় সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিরা আক্তার ও মাফরুহা আলম মুন। তারা ফোর্ব ইয়ুথ নেটওয়ার্ক, সিলেট জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া বিনতে আরিফ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, তরুণরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাই তাদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চেতনা তৈরি করা জরুরি। একজন সচেতন নাগরিক শুধু নিজের অধিকার সম্পর্কে জানবেন না, বরং অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।

তারা আরও বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, বৈচিত্র্যের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে এসব মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নাগরিকত্ব ও নেতৃত্ববিষয়ক কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, নাগরিকত্ব বিষয়ে তাদের অনেক ধারণা এ কর্মশালার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে সমাজে কী ধরনের ভূমিকা রাখা উচিত—এসব বিষয়ে তারা নতুন করে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন।

তাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া, অন্যের অধিকার ও মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়াও একজন শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আরও জানান, কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান ও চেতনাকে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কাজে লাগাতে চান। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিজেদের ভূমিকা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের সক্ষমতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মানসিকতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাস ও বৃহত্তর সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

Manual3 Ad Code

তরুণদের মধ্যে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বাড়ানো এবং বহুত্ববাদ ও সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মশালাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ