ব্যবস্থাবদলের লড়াই ছাড়া মেহনতি মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়: বকুল

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

ব্যবস্থাবদলের লড়াই ছাড়া মেহনতি মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়: বকুল

Manual3 Ad Code
  • কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্র অভিমুখী অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার মতো ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যমান শোষণমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা যাবে না বলে মনে করতেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও জাতীয় কৃষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ।”

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর তোপখানা রোডে শহীদ রাসেল আহমেদ খান স্মৃতি ভবনে কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এমন একটি শোষণমূলক কাঠামো গড়ে উঠেছে, যেখানে লুটেরা পুঁজিপতি, দেশি-বিদেশি করপোরেট স্বার্থ এবং সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ী অলিগার্কদের প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে। এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ক্রমেই কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এমন সব প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বিদ্যমান শোষণমূলক অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন।

সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

নুর আহমদ বকুল বলেন, চলমান বিশ্বব্যবস্থায় নয়া সাম্রাজ্যবাদী অর্থনৈতিক শোষণ এবং তার দেশীয় সহযোগীদের তৎপরতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর অভিযোগ, দেশি-বিদেশি প্রভাবশালী অর্থনৈতিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। সরকার গঠন, ক্ষমতার পালাবদল এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এসব স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবের বিস্তার দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সামরিক চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে এমন এক নির্ভরশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দর, খনি, গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের সম্মতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দ্রব্যমূল্য, দারিদ্র্য ও জনজীবনের সংকট

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, দারিদ্র্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ বহন করতে হচ্ছে শ্রমজীবী, কৃষক, খেতমজুর ও নিম্নবিত্ত মানুষকে। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

Manual4 Ad Code

নুর আহমদ বকুলের মতে, রাষ্ট্রীয় নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে মুনাফার পরিবর্তে মানুষের জীবন, অধিকার ও কল্যাণকে স্থান দিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য, সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ জ্বালানি এবং মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া বৈষম্য কমানো সম্ভব নয়।

কৃষি ও কৃষকের অধিকার রক্ষার লড়াই

কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল কৃষক ও খেতমজুরের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ভূমিসংস্কার, খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন, সেচের পানির অধিকার এবং পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি খাত ক্রমাগত করপোরেট পুঁজি ও বাজারনির্ভর স্বার্থের চাপে পড়ছে। কৃষির উপকরণ সংগ্রহ, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষকের নিয়ন্ত্রণ সীমিত হয়ে পড়ছে। উৎপাদনের ঝুঁকি কৃষক বহন করলেও ফসলের ন্যায্য দাম ও বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং ভূমিহীন খেতমজুরেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, কৃষকের জমি রক্ষা, ভূমিহীন মানুষের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিসংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানির সহজলভ্যতা, পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং কৃষিপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি।

তাঁদের মতে, কৃষিকে শুধু মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা না করে খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখতে হবে। কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া গ্রামীণ দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

সামাজিক অনাচার ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন কমরেড গোলাপ

কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের রাজনৈতিক সংগ্রাম শুধু ভূমি ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক অনাচার, নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

বক্তারা বলেন, একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। সমাজে বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে সামাজিক অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁদের মতে, কমরেড গোলাপের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ক্ষমতার মোহ নয়, আদর্শ ও সংগ্রামই ছিল কমরেড গোলাপের রাজনীতির ভিত্তি

নুর আহমদ বকুল বলেন, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ বিশ্বাস করতেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া মেহনতি মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন বাঁক ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এই বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। ক্ষমতার লোভ তাঁকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।

তিনি বলেন, গাইবান্ধার মাটিতে জন্ম নেওয়া কমরেড গোলাপ কৃষক, খেতমজুর, ভূমিহীন ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠন গড়ে তোলা, কৃষকের দাবি নিয়ে আন্দোলন করা এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নুর আহমদ বকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাপের রাজনীতির মূল শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমাজ পরিবর্তনের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। তিনি মনে করতেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দাবি আদায় করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না; বরং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এমন একটি অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে উৎপাদন, সম্পদ ও উন্নয়নের সুফল ন্যায্যভাবে বণ্টিত হবে।

তিনি আরও বলেন, কমরেড গোলাপের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের শিক্ষা ধারণ করতে হবে। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভূমিহীন মানুষের জমির দাবি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই হবে তাঁর প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন।

Manual1 Ad Code

আলোচনা সভায় আরও যাঁরা বক্তব্য দেন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড কিশোর রায়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন কমরেড শরীফ শমসির, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, কমরেড সাব্বাহ আলী খান কলিন্স এবং কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার প্রমুখ।

Manual3 Ad Code

বক্তারা কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের রাজনৈতিক জীবন, কৃষক আন্দোলনে তাঁর অবদান এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সভায় কমরেড গোলাপের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁর অসমাপ্ত সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে রেখে সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।

কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, কৃষক-খেতমজুরের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে স্মরণ করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, ব্যক্তির মৃত্যু হলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই একজন বিপ্লবী নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করা সম্ভব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ