বঙ্গোপসাগরে মিথেন গ্যাসের সন্ধান পেল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২২

বঙ্গোপসাগরে মিথেন গ্যাসের সন্ধান পেল বাংলাদেশ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি ২০২২ : বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে মিথেন গ্যাসের (গ্যাস হাইড্রেট) অস্তিত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রে এক গবেষণা সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২০ প্রজাতির সি-উইড (Seaweed), ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ৬ প্রজাতির কাঁকড়া ও ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস চিহ্নিত করা হয়েছে।

বুধবার (৫ জানুয়ারি ২০২২) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘গ্যাস হাইড্রেন্ট ও সামুদ্রিক জেনেটিক সম্পদের ওপর গবেষণার ফলাফল’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রতিনিধিসহ নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক গবেষকরা গত দুই বছরে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় গবেষণা কার্যক্রমের ভিত্তিতে এ ফলাফল পেয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস এ গবেষণায় সহায়তা করেছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইস অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) মোহাম্মাদ খুরশেদ আলম।

খুরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আমরা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে যতটুকু এলাকা জরিপ করেছি তাতে আমরা ধারণা করছি, ন্যূনতম ১৭ থেকে ১০৩ টিসিএফ গ্যাস হাইড্রেন্ট মজুত রয়েছে সেখানে।

Manual5 Ad Code

মেরিটাইম সচিব বলেন, অফশোর জ্বালানি, সুনীল বায়োটেকনোলজি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস হাইড্রেট এবং মেরিন জেনেটিক রিসোর্স বিশেষত সি-উইড এর সম্ভাবনা, উপস্থিতি, প্রকৃতি ও মজুদ নির্ণয়ের জন্য দুটি গবেষণা কার্যক্রম যথাক্রমে যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ২২০ প্রজাতির সি-উইড, ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ৬ প্রজাতির কাঁকড়া, ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস চিহ্নিত করা হয়।

Manual4 Ad Code

খুরশেদ আলম বলেন, ২০১১ সালে জাতিসংঘে মহীসোপানের সীমানা নির্ধারণবিষয়ক কমিশনে বাংলাদেশের পেশ করা মহীসোপানের দাবিসংবলিত প্রস্তাব তৈরি হয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮ সালে বঙ্গোপসাগরে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এবং ২০১০ সালে একটি ডাচ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ৩ হাজার লাইন কিলোমিটার সিসমিক ও ব্যাথিম্যাট্রিক জরিপ সম্পন্ন করে। এসব জরিপে ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে মহীসোপানে ৬ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার পর্যন্ত সমুদ্র অঞ্চলে থাকা সম্পদের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বাপেক্স, পেট্রোবাংলা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটে সংরক্ষিত রয়েছে। জরিপের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই ডেস্কটপ সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকৃত জলসীমায় সমুদ্রে ও তলদেশে গ্যাস হাইড্রেটসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গ্যাসের অবস্থান, প্রকৃতি ও মজুতের ব্যাপারেও প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের তলদেশে গ্যাস ও পানির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া স্ফটিককে গ্যাস হাইড্রেটস বলা হয়। এটা দেখতে বরফের মতো হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন থাকে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রতিনিধিসহ নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষকেরা ২০২০ সালে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় মাঠপর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওই গবেষণা থেকে বাংলাদেশে ২২০ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ৬ প্রজাতির কাঁকড়া, ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব প্রজাতির ওপর প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি টেস্ট নেদারল্যান্ডসে করা হয়।

শাহরিয়ার আলম বলেন, এসব শৈবাল খাবারের গুণমান ও সংরক্ষণে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি মাছ ও পশুর খাবারের কাঁচামাল, সাবান, শ্যাম্পু ও নানা ধরনের প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদনেও ব্যবহার হতে পারে এই শৈবাল।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ২৮ হাজার কোটি টাকার কাঁচামাল আমদানি করি। এখানে বিনিয়োগ করলে আমরা শুধু দেশেই উৎপাদন করতে পারব না, প্রয়োজনে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারব।’

প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক গ্যাস হাইড্রেট গভীর সমুদ্রের তলদেশে বা পারফ্রোফট জমিতে থাকে। এটি ‘জ্বলনশীল বরফ’, ‘কঠিন গ্যাস’ কিংবা ‘গ্যাস বরফ’ হিসেবেও পরিচিত।

প্রাকৃতিক গ্যাস হাইড্রেটে ৮০ শতাংশ থেকে ৯৯.৯ শতাংশ মিথেন উপাদান রয়েছে। কয়লা, তেল ও অন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এটির দহন দূষণ অনেক কম ও সমৃদ্ধ। এটি ভবিষ্যতের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এক হাজার বছরের জন্য বিশ্বব্যাপী সংরক্ষিত রয়েছে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ