সিলেট ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৩
সম্প্রতি সংক্ষিপ্ত এক লেখায় স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায়,
স্থায়ী-অস্থায়ী অভিবাসী বা প্রবাসী সম্পর্কে ঈষৎ
ইশারা দিয়েছিলাম। আর এটাও বলেছিলাম যে
প্রবাসীর সংখ্যা আশাতীত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়াতে
তাঁদের গমনাগমনের শিডিউল সম্পর্কে আমাদের
জানা থাকার কথা নয়। আর জেনেই বা কি লাভ?
হ্যাঁ আমরা দেখবো যে বা যিনি প্রবাসে বিশেষত
স্থায়ী ভাবে ইউরোপ আমেরিকা মহাদেশীয় অঞ্চলে
যান তিনি দেশে থাকতে কেমন ছিলেন। যাঁরা দেশে
থাকতে সামাজিক মানুষ থাকেন তাঁরা বিদেশে
গেলেও শেকড় সন্ধানে স্বভাবতই দেশের মাটি ও
মানুষের খোঁজখবর রাখেন। আর দেশে যিনি একাকী
আর আত্মকেন্দ্রিক থাকেন বিদেশে গেলেও তিনি
শামুকবাসে শুধু শশুরবাড়ীর লোকজন নিয়ে থাকেন।
নানা আনম্যাচিং শর্টড্রেস পরিধান করে নিজের
তথাকথিত সুখের নানা ছবি-ভিডিও খুব ঘন ঘন
ফেসবুকে শেয়ার করলেও কস্মিনকালেও তাঁরা
অন্যদের পোষ্টে নিদেনপক্ষেও একটা লাইক দেন না।
আর এই প্রেক্ষিতে সদ্য পরবাসী আমাদের রজতশুভ্র
একজন আগাগোড়া সামাজিক সদাশয় ব্যক্তিত্ব বৈকি !
সমাজ এবং সামাজিকতার সাথেই যাঁর অষ্টপ্রহরের
অধিবাস। এক সম্ভান্ত্র অভিজাত পরিবারিক পরিমণ্ডলে
পাওয়া নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত এই সুধীজনের চিন্তা ও চেতনা সর্বদাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিমণ্ডলের
উর্দ্ধে সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপ্ত। ফেসবুকে আমি হাতেগোনা
যে ক’জন সুকুমার মনের মানুষের সঙ্গতায় সমৃদ্ধি হচ্ছি,
যাঁদের নন্দনতত্ত্বের নির্যাসে নিয়তই ঋদ্ধ হই শ্রদ্ধেয়
রজতশুভ্র সুজনেষু তাঁদের অন্যতম।
উল্লেখ্য আমাদের সমাজে উচ্চশিক্ষিত আর অর্থবিত্তে
সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ থাকলেও বেশিরভাগ থাকেন খোলসে
নিজ বৃত্তে। জ্যামিতিক জীবনধারায় তাঁরা অভ্যস্ত।
আর এই প্রেক্ষিতেও রজতশুভ্র দাদা অন্যদের চেয়ে
একটু আলাদা। পেশাগত জীবনে অধ্যাপনার মতো
একটি অতি উচ্চমার্গের স্পর্শকাতর পেশায় থাকলেও
তিনি নিজেকে কখনও কোন গন্ডি বা ঘেরাটোপে আবদ্ধ
করে রাখেন না। অত্যন্ত মেধাবী ও মনস্বী এই শিক্ষাবিদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে একযুগ আগে
স্বনামধন্য দ্বারিকাপাল মহাবিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বৈধভাবে
পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেধা যোগ্যতার বরাতে ২০০৭
সালে যোগদান করেন। দ্বারিকাপাল মহাবিদ্যালয়ের
স্বনামখ্যাত শিকক্ষমন্ডলীর এক ঝাঁক তাঁরার মধ্যে
ধ্রুব তাঁরার মতোই তিনি আলোকিত।
রজতশুভ্র দাদার অবর্তমানে শ্রীমঙ্গলের শিল্প, সাহিত্য,
সংস্কৃতিসহ সংবাদ এবং সাংবাদিক অঙ্গনেও শূন্যতার
সৃষ্টি হবে। সংবাদ অঙ্গনে রজতশুভ্র দাদার শূন্যতা
সহসাই পূরণ হবার নয়। কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ
ডিগ্রিধারী একজন সাংবাদিক শ্রীমঙ্গলে কি আমরা
সহসাই তৈরি করতে পারবো ?
রজতশুভ্র দাদার মতো একজন অধ্যাপক, কবি,
লেখক, সাংবাদিক, নন্দিত নাট্যজন, স্নিগ্ধ রুচির
মানুষ, শুদ্ধ সংস্কৃতি জীবন্ত মশাল তথা প্রগতিপথের
অগ্রপথিক ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন অগ্রগামীর সম্পর্কে এই
সন্দর্ভ্য অনেকটাই এলোমেলো ও অগোছালো হয়েছে।
কারন তাঁর মতো একজন বহুপ্রজ প্রাকৃতজন সম্পর্কে
ফেসবুকের পরিমিত পরিসরে কিছু বলা বেশ কষ্টসাধ্য।
এই লেখাটি রজতশুভ্র সমগ্রতার সামান্য রেখায়ন মাত্র।
পরিশেষে
শ্রদ্ধেয় রজতশুভ্র দাদা
আপনার উদ্দেশ্যে বলছি –
অনেক বিষয়ে আপনার সাথে আমার বা কারো কারো
মতানৈক্য ছিলো, জেলাসি ছিলো, খেদ ছিলো ঠিকই।
কিন্তু আপনার অবর্তমানে সকল শুভকর্মে আপনার
শূন্যতা অনুভব করবো। সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে,
একুশের প্রভাত ফেরীতে, বিজয়দিবসের অনুষ্ঠানে,
ম্যারাথন গ্রুপে বা মহসিন অডিটোরিয়ামের সুধী
দর্শক বা বক্তার সারিতে, উপজেলা প্রেসক্লাবের সব
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষত পৌষ সংক্রান্তির নগরকীর্তনে আপনাকে মিস্ করবো।
প্রার্থনা করি
আমেরিকার অভিবাসন অঙ্গনে আপনার
প্রতিটি দিন হোক সুখী, সুন্দর ও সাফল্যে সয়লাব।
আর আপনার অন্তরে নিরন্তর থাকুক স্বদেশ ও স্বজন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি