পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে ৫০ দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৪

পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে ৫০ দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ : কৃষিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ায় পর ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য কৃষকদের সঙ্গে সারাদেশে উঠান বৈঠক করার কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। আজ এর অংশ হিসেবে প্রথম উঠান বৈঠক করলেন তিনি।

Manual3 Ad Code

শনিবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৪) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক ইন্দু ভূষণ পাল নিরুর বাড়ীতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। আমন ধান কাটার এই গ্রামের জমি এখনো কেন পতিত পড়ে আছে- কৃষকদের নিকট সে বিষয়ে বিস্তারিত শুনেন কৃষিমন্ত্রী।

মৌলভীবাজার জেলায় চাষযোগ্য পতিত জমিকে কীভাবে চাষের আওতায় আনা যাবে ও কোন জমিতে কী ফসল ফলানো যাবে- সে বিষয়ে আগামী ৫০ দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য স্থানীয় কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চাষযোগ্য জমি অনেক। এখন বোরোর মৌসুম, অথচ আমন ধান কাটার পর এখানে সব জমি পতিত পড়ে আছে। এসব জমিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়- সে উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
সেচের সমস্যা নিরসনে বিএডিসিকে কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। শ্রমিক সংকট নিরসনে ভর্তুকি মূল্যে আরো বেশি করে কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Manual6 Ad Code

উঠান বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে স্থানীয় পর্যায়ে কি কি সমস্যা আছে, তা জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে লক্ষ্য- ‘এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না’, তা অর্জন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করা হবে।

কৃষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা আরো বেশি করে ফসল ফলান। সরকার আপনাদের পাশে আছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তারা আপনাদের পাশে আছে। আপনাদেরকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। উৎপাদন আরো বাড়াতে পারলে কারো পেটে ক্ষুধা থাকবে না, খাদ্য আমদানি করতে হবে না, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে না।

Manual5 Ad Code

এ বৈঠকে মৌলভীবাজার জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তালেব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় কৃষক আতর আলী, মহিববুর রহমান, ইন্দু ভূষণ পাল, উত্তম দেবনাথ প্রমুখ তাদের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।

Manual2 Ad Code

কৃষকেরা গভীর নলকূপ স্থাপন, খাল খনন, স্লুইসগেট সংস্কার ও নদী-জলাশয় দখলদার মুক্ত করে সেচের ব্যবস্থা, দেশি জাতের বদলে বিএডিসির উন্নত জাতের আলুর বীজ সরবরাহ বৃদ্ধি, সূর্যমুখী, ভুট্টা ও সরিষার পরিবর্তে লাউ, কুমড়া, আলু চাষে প্রণোদনা, ভরা মৌসুমে আনারস ও লেবুর ন্যায্যমূল্য পেতে শ্রীমঙ্গলে জুস ফ্যাক্টরি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানান।

এছাড়া, ভর্তুকি মূল্যে ছোট ছোট কৃষিযন্ত্র দেওয়ার দাবি জানান- যাতে কৃষক নিজেই যন্ত্র চালাতে পারেন ও কৃষকের ঘরেই প্রয়োজনীয় কৃষিযন্ত্রের মজুদ থাকে।

কৃষকদের সাথে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি মহোদয়ের উঠান বৈঠকের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মৌলভীবাজারের জেলা ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেলো। এরমধ্যে কৃষিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও নিরাপদ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি সমবায়ী ইকোনোমিক জোন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থসামাজিক পরিকল্পিত ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন তিনি।”

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ