যত্রতত্র পার্কিং ও সড়ক আইন অমান্য করার কারণেই যানজটের সৃষ্টি: পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২৫

যত্রতত্র পার্কিং ও সড়ক আইন অমান্য করার কারণেই যানজটের সৃষ্টি: পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার

Manual5 Ad Code

মো. আফজল হোসেইন, বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৮ মে ২০২৫ : মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, “যত্রতত্র পার্কিং এবং সড়ক আইন অমান্য করার কারণেই যানজট তৈরি হয়, যার ফলে সময় ও কর্মঘণ্টার অপচয় হয়।” যানজটমুক্ত শহর গড়তে তিনি পরিবহন শ্রমিকসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

Manual8 Ad Code

যানজট নিরসনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শ্রীমঙ্গল, যা বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। তবে ইদানীং শ্রীমঙ্গলের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সর্বসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।

Manual6 Ad Code

এই সমস্যা নিরসনে বুধবার (২৮ মে ২০২৫) শ্রীমঙ্গল থানা প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক জোন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

Manual6 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খ্যাতি দেশ-বিদেশে রয়েছে। যানজটের কারণে আগত পর্যটকরা যেন ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সড়ক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া, ফুটপাত দখল করে কেউ যেন সড়কে স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক জোনের টিআই নীহার রঞ্জন সিংহ,, টিআই হাসান আল মামুন, টিআই এস. এম. জালাল উদ্দীন, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আব্দুল হাই ডন, ৭১ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আহমদ ফারুক মিল্লাদ, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, নিরাপদ সড়ক চাই শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি আমজাদ হোসেন রনি, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সদস্য ও বাংলাদেশ প্রতিক্ষনের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ঝলক দত্ত, সার্জেন্ট জয়ন্ত কুমার দাশসহ ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

যানজট নিরসনে মতবিনিময় সভা

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ :

এ বিষয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “সম্মানিত পুলিশ সুপারের বক্তব্যে যানজটের সমস্যার কথা আলোচনা করেছেন, তা সড়কে সীমাহীন অব্যবস্থার চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালনার প্রাথমিক শিক্ষা কোর্স (ব্যবহারিক সহ) চালু করাসহ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, সড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করা, সকল সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সড়ক পথের উপর চাপ কমানো, গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাসহ সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা যথাযথ বাস্তবায়নে নতুন নতুন কৌশল ও ডিজিটালাইজড উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বোপরি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাইজড করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনেক আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে, তা বাস্তবায়ন জরুরি।
যাত্রী ও পথচারীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা ও বিধি-বিধান প্রতিপালনে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে আইন ও শৃঙ্খলা মানার সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ আইন প্রয়োগে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ, পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ, মালিক, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে যানজট কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সেল তৈরি করে নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এ সেলকে সর্বদাই সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এভাবেই যানজট হ্রাস করা সম্ভব।”

Manual3 Ad Code