ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ‘নগ্ন সাম্রাজ্যবাদ’: বার্নি স্যান্ডার্স

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬

ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ‘নগ্ন সাম্রাজ্যবাদ’: বার্নি স্যান্ডার্স

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ : ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সংবিধান লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মনরো ডকট্রিন ও নগ্ন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তার এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির বৈধতা নিয়ে।

বামপন্থি স্বতন্ত্র এই সিনেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিশ্ব—কোনোটাকেই নিরাপদ রাখবে না। বরং এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং শক্তিধর দেশগুলোর ইচ্ছামতো অন্য দেশের ওপর হামলার পথ সুগম করবে।

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক আইন ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ

স্যান্ডার্স তার পোস্টে লেখেন, “আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যে কোনো দেশকে অন্য কোনো দেশে হামলা চালাতে, তাদের সম্পদ দখল করতে কিংবা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করতে সবুজ সংকেত দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একতরফা সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী।

‘মনরো ডকট্রিন’ ও লাতিন আমেরিকার স্মৃতি

বার্নি স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো ভুল ধারণার সুযোগ নেই—এটাই নগ্ন সাম্রাজ্যবাদ। এটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যার ভয়াবহ উত্তরাধিকার আজও রয়ে গেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, স্যান্ডার্সের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে মনরো ডকট্রিনের আধুনিক প্রয়োগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন—যা দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Manual1 Ad Code

কারাকাসে মার্কিন হামলা ও মাদুরো দম্পতির আটক

এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। অভিযানের সময় ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি এই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, “ভেনিজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য” এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কে আটক মাদুরো

Manual8 Ad Code

বর্তমানে নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্ব প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

বার্নি স্যান্ডার্স সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের সামরিক আগ্রাসন বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

Manual7 Ad Code

“গণতান্ত্রিক বিশ্ব এই কাজের নিন্দা করবে—এবং করা উচিত,” বলেন তিনি।

কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভেনিজুয়েলা সংকট নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-লাতিন আমেরিকা সম্পর্কের মধ্যে গভীর টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ