একাত্তরের গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে: ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২৬

একাত্তরের গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে: ওয়ার্কার্স পার্টি

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৬ : জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি সকল অপরাধীর বিচার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করা বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Manual5 Ad Code

বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শহীদ রাসেল আহমেদ খান মিলনায়তনে “জাতীয় গণহত্যা দিবস” পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক।

সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড এডভোকেট জোবায়দা পারভীন, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার, নারী নেত্রী কমরেড শিউলী সিকদার এবং ছাত্র নেতা ইমরান নুর নীরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Manual2 Ad Code

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট” নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের এক বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পূর্বমুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। একাত্তরের গণহত্যা ছিল পরিকল্পিত জাতিগত নিধনযজ্ঞ, যা আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে “জাতীয় গণহত্যা দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

Manual5 Ad Code

বক্তারা বলেন, একাত্তরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকলেও এখনও অনেক অপরাধী বিচারের বাইরে রয়ে গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সকল যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে সরকারকে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।

সভায় নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়া সম্ভব।

Manual1 Ad Code

আলোচনা সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ