ন্যাপ নেত্রী আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে ওয়ার্কার্স পার্টির শোক প্রকাশ

প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২৬

ন্যাপ নেত্রী আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে ওয়ার্কার্স পার্টির শোক প্রকাশ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ মার্চ ২০২৬ : ভাষা সৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নেত্রী আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল এক শোকবার্তায় বলেন, আমেনা আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব প্রস্তুতির লড়াই থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল রাজনীতির বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমেনা আহমেদ আজীবন অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, নারী অধিকার ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উপদেষ্টা, ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সহধর্মিণী হিসেবে শুধু পারিবারিকভাবেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘদিন তিনি ন্যাপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত হিসেবে কাজ করেছেন।

Manual8 Ad Code

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে দেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। দেশ হারালো একজন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রগতিশীল রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ নেত্রীকে। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

Manual6 Ad Code

এদিকে ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, আমেনা আহমেদ ছিলেন দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির এক সাহসী সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব। তিনি সারাজীবন শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য যে, ভাষা সৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আমেনা আহমেদ ৯০ বছর বয়সে গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

Manual6 Ad Code

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা ও ন্যাপ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আইভি আহমেদ, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

আমেনা আহমেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ন্যাপের প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদের সহধর্মিণী।

আমেনা আহমেদ ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেত্রী এবং ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

ন্যাপ কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন শেষে স্বামী অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ