গৃহকর্মে শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন মানসকিতা আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

গৃহকর্মে শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন মানসকিতা আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ : দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু নির্যাতন। শুধু তা নয়, মানা হচ্ছে না গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু সুরক্ষিত নয়।

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু নির্যাতন বন্ধে মানসকিতা আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু নির্যাতন অনেকটা কমে আসতে পারে।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (এএসডি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘গৃহকর্মে শিশু : কতটা সুরক্ষিত’ শীর্ষক সংলাপে এমন তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক বেল্লাল হোসেন শেখ।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা মুনীরা সুলতানা।

Manual1 Ad Code

এ সময় আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নাসের ইকবাল যাদু, জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের কর্মসূচি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা কেএম শহীদুজ্জামান, এসওএস শিশুপল্লীর পরিচালক একেএম আজিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আল-আমিন, এএসডির কো-অর্ডিনেটর (সিডিআর) এমএ করিম, ম্যানেজার (এমঅ্যান্ডই) লুৎফুন নাহার কান্তা, কো-অর্ডিনেটর (অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন) মো. ইসহাক ফারুকী।

এএসডির ডিসিএইচআর প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা গুল-ই-জান্নাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএসডির কার্যনির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ রসুল। এ সময় গৃহকর্মে নিয়োজিত দুই শিশু জান্নাত ও মিশু তাদের জীবনের কথা তুলে ধরে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা সঠিকভাবে পালন করা এবং গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের মা-বাবাকে ভাতা প্রদান করা যায় কি না, এ বিষয়ে দাবি তোলে তারা।

অধিদপ্তরের পরিচালক বেল্লাল হোসেন শেখ বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের শ্রম বন্ধে সবার মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করলে সব কার্যক্রম সহজভাবে করা যাবে। শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সব ধর্মীয় উপসনালয়ের নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়গুলো প্রচার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা মুনীরা সুলতানা বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো শুধু দরিদ্রতা বা অশিক্ষর অজুহাত নয়, আসলে মানসিকতা। তাই আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। প্যারেন্টিং স্কিল বৃদ্ধি করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নাসের ইকবাল যাদু বলেন, পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারলেই শিশুরা গৃহকর্মে নিযুক্ত হবে না। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জেলা মহিলাবিষয়ক উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের কর্মসূচি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার বলেন, গ্রামের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

Manual4 Ad Code

সমাজসেবা কর্মকর্তা কেএম শহীদুজ্জামান বলেন, বছরে দু’বার দরিদ্র শিশুদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এ তথ্য অনেকে না জানার কারণে সহায়তা পাচ্ছে না।

Manual4 Ad Code

এসওএস শিশুপল্লীর পরিচালক একেএম আজিজুর রহমান বলেন, এসওএস শিশুপল্লীর পরিবার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, সব এনজিওকে একত্র হয়ে সমন্বিতভাবে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে।

এএসডির কার্যনির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ রসুল বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় একত্রে কাজ করলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পাশাপাশি গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে।

Manual4 Ad Code