দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন ভিসানীতি দুরভিসন্ধিমূলক : ১৪ দল

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৩

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন ভিসানীতি দুরভিসন্ধিমূলক : ১৪ দল

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০৪ জুন ২০২৩ : আমেরিকার ভিসানীতিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিবাচকভাবে দেখে আসলেও ১৪ দলীয় জোট নেতারা এটাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ১৪ দলের দাবি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ ভিসানীতি দুরভিসন্ধিমূলক।

Manual2 Ad Code

রবিবার (০৪ জুন ২০২৩) ইস্কাটনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে আলোচনা শেষে জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এ দাবি করেন। তবে জোটের অন্যতম নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বার বার দাবি করেছেন, এটা আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে করা হয়নি।

আপনারা ভিসানীতির সমালোচনা করছেন কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন তাদের টার্গেট করে এটা করা হয়নি এমন এক প্রশ্নের জবাবে আমু বলেন, আমরা ভিসানীতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করি। আরেকটা কথা হল এটাতো ১৪ দল। আওয়ামী লীগের মিটিং না। মনে রাখবেন। আমরাতো রাবার স্ট্যাম্প না। এখানে আরও ১৩টা দল আছে, সবাইতো আওয়ামী লীগ না, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে। এখানে কথাটা হচ্ছে ১৪ দল যেটা ফিল করে, সেটাই বলবে। অন্য দল কে কি বলবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের আলোচনায় যেটা আসবে সেটা আমরা প্রকাশ করব।

জোটের এ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানান জোটের মুখপাত্র আমু। সেখানে মার্কিন ভিসানীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, মার্কিন ভিসানীতি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনাহূতভাবে আসায় তা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক মনে হচ্ছে। এটা কারও কারও পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি সংবিধানের প্রত্যেকটি প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমরা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে অন্য কোন হস্তক্ষেপ আমরা কামনা করি না।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যারা নির্বাচনকে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বানচাল করতে চায়, প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের জন্য এটা (ভিসানীত) সহায়ক হতে পারে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কথাগুলো বলতে চাই।

প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, এখানে যদি অন্য কোন দেশের সন্দেহ থাকে, তাহলে তারা বসে এটা ঠিক করতে পারে যে, সংবিধানের ভেতরে কোথায় কোন ফাঁকফোকর আছে, সেটা তারা বিবেচনা করুক। সেগুলো দেখুক, আলোচনা করুক। কিন্তু সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। দেশে এ ধারাটা অব্যাহত রাখার জন্য। সংবিধানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, অন্যকোন উপায়ে আঘাত আসুক এটা আমরা চাই না।

Manual5 Ad Code

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য ১৪ দলীয় জোট কোন আলোচনার উদ্যোগ নিবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আমু বলেন, আমরা মনে করি এ জাতি সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোন দলই জাতির বাইরে না, জনগণের বাইরে না, দেশের বাইরে না। জনগণের ওপর আস্থা থাকে, সংবিধানভিত্তিক নির্বাচনে আস্থা থাকে সবারই অংশগ্রহণ করা উচিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবদলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই। কোন দলের পক্ষে জনস্রোত থাকলে, এই স্রোতের বাইরে প্রশাসনও যেতে পারে না। সেই দিকেই নির্বাচন ধাবিত হয়।

দ্রব্যমূল্য বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ১৪ দল। জোটের পক্ষ থেকে দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

বাজেট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে জানিয়ে আমু বলেন, আমরা যেহেতু পড়াশোনার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা পয়সায় বই বিতরণ করছেন। সবকিছু ঠিক আছে। সেই ক্ষেত্রে কলম ও কাগজের দাম বৃদ্ধি পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। সংবাদপত্রের ওপর ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমরা মনে করি কাগজ-কলমের দাম কমানো উচিত। আরোপিত কর প্রত্যাহার করা উচিত।

Manual5 Ad Code

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার জন্য ১৪ দলীয় জোট সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জানিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব রকম চেষ্টা করছেন। আমাদের দেখতে হবে সরকার সচেতন কি না, প্রচেষ্টা আছে কিনা। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে থাকলে কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

তিনি বলেন, আগামী ৬ জুন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৪ দল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে একটি জনসভা করবে। সেখানে জাতির উদ্দেশে আমাদের মূল অবস্থান পরিষ্কার করব। ধারাবাহিক কর্মসূচি জোট পরে আলোচনা করে ঠিক করবে।

Manual4 Ad Code

আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি (একাংশ)-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ