২০ মে চা শ্রমিক দিবস: রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে আর কত বছর লাগবে!

প্রকাশিত: ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২৪

২০ মে চা শ্রমিক দিবস: রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে আর কত বছর লাগবে!

Manual8 Ad Code

পারভেজ কৈরী |

আজ ২০ মে ‘মুল্লুক চলো’ দিবস। চা শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়ন-নির্যাতন অধিকারহীন ও দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক দিন আজ।

১৯২১ সালের ২০ মে গোলামির শেকল ভেঙে নিজ মুল্লুকে ফিরে যাওয়ার দৃপ্ত পথে সেদিন শত চা শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মেঘনা নদীর জল। রক্ত ঝরে ছিল নিরীহ শ্রমিকদের।

Manual2 Ad Code

১৮৫৪ সালের গোড়ার দিকে দারিদ্র্যপীড়িত ভারতের বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মাদ্রাজসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ধরে নিয়ে আসা হতো কাজের জন্য। এছাড়া দলিত এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণও উন্নত জীবনের লোভে পড়ে পাড়ি জমাতো বঙ্গদেশে। নিম্নবর্ণের এই লোকদের দেখানো হয় সুবর্ণ এক ভূমির ঠিকানা। সেখানে সবুজেঘেরা পাহাড়ের বেদিতে গাছে গাছে সোনার পাতা ধরে, আর সেই স্বর্ণপত্র সংগ্রহ করাই তাদের কাজ।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে এ অঞ্চলে চা বাগান সৃজন শুরু হয়। ব্রিটিশ কোম্পানি একের পর এক চা বাগান প্রতিষ্ঠা করলে প্রয়োজন হয় শ্রমিক সংগ্রহের। ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, বিহার প্রভৃতি অঞ্চলের নিম্নবর্ণের হাজার হাজার মানুষদের মিথ্যা স্বপ্ন ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। এসব দরিদ্র মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সেখানে এসে চিত্রপট দেখে সম্পূর্ণই ভিন্ন। কোম্পানি মালিকরা এসব শ্রমিকদের গহিন জঙ্গল কেটে বাগান তৈরি করার কাজে নিয়োজিত করে।

একদিকে খাবার, বাসস্থানের সংকট, অন্যদিকে বাগান মালিকদের নির্যাতন নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে থাকে চা বাগানে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবন। এমন অসহনীয় পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শোষণ বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এ অঞ্চলের চা শ্রমিকরা।

১৯২১ সালে ৩ মার্চ নিজ মুল্লুকে ফিরে যাওয়ার জন্য সিলেট ও তার আশপাশের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাগান ছেড়ে নিজ মুল্লুকে ফিরে যাওয়ার জন্য শুরু করে ‘মুল্লুকে চলো’ আন্দোলনের। বা নিজ ভূমিতে ফিরে চলো।

কেননা এতদিনে শ্রমিকরা বুঝে গিয়েছিল চা বাগানের ব্রিটিশ মালিকরা তাদের মিথ্যা আশ্বাস ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এক ধরনের বন্দি করে রেখেছে। তাই শ্রমিকরা তাদের নিজ নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আগে পিছে না ভেবেই ১৯২১ সালে তারা কেবল সংগঠিত হয়ে বাগান ছেড়ে দলে দলে বেরিয়ে পড়ে। মুল্লুকে চলো এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন পন্ডিত দেওশরন এবং পন্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত। এ সময় শ্রমিকরা প্রতিজ্ঞা করে বসে বার বার মরার চেয়ে একবারেই মরবো তবুও নিজভূমির দিকে এগিয়ে যাবো।

তারা জানতো চাঁদপুর জাহাজ ঘাটে যেতে পারলেই জাহাজে চড়ে কলকাতায় ফিরে যাবে। কিন্তু তাদের জন্য জাহাজ ঘাটে যাওয়া এতটা সহজ ছিল না। সবাই তখন জড়ো হতে থাকে চাঁদপুরমুখী রেলস্টেশনে। খবর পেয়ে চা মালিকরা শ্রমিকদের রেলযাত্রা নিষিদ্ধ করে। কোনো উপায় না দেখে পরিবার পরিজন নিয়ে রেলপথ ধরে পায়ে হেঁটেই চাঁদপুরের জাহাজ ঘাটে এসে উপস্থিত হয় তারা।

এর আগে শ্রমিকদের পদযাত্রায় শ্রমিকরা হবিগঞ্জ পৌঁছালে হবিগঞ্জের তৎকালীন কংগ্রেস নেতা শিবেন্দ্র বিশ্বাস তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। পথে পথে শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহ ও রাত যাপনের ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় স্বদেশি কর্মীরাও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে শ্রমিকদের মানসিক শক্তি ও সাহস জোগান। এরপরও খাদ্য ও পানির অভাবে পথে পথে মৃত্যু হয় অনেক শ্রমিকের। তবু থেমে থাকেনি তাদের মুল্লুকে যাত্রা।

১৯২১ সালের এদিনে শ্রমিকরা গিয়ে পৌঁছে চাঁদপুর জাহাজ ঘাটে। একই সময়ে ব্রিটিশ বাগান মালিকরা সরকারের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের প্রতিরোধ করতে চাঁদপুর মেঘনা নদীঘাটে আসাম রাইফেলসের গুর্খা সৈন্য মোতায়েন করে। ঘাটে জাহাজ ভিড়লে শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে জাহাজে উঠতে থাকে। এ সময় গুর্খা সৈন্যরা বাধা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা নিরীহ চা শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত শ্রমিকের রক্তে লাল হতে থাকে মেঘনা নদীর জল।

১৯২১ সালের ২০ মে রাতের অন্ধকারে গুর্খা রেজিমেন্টের সৈন্যরা চাঁদপুরের রেলওয়ে ইয়ার্ড ঘিরে ফেলে। সরকারপক্ষ থেকে নিষিদ্ধ এলাকায় কোনো লোকজনকে যেতে নিষেধ করা হয়। সরলপ্রাণ ক্লান্ত শ্রমিকরা গণহত্যার কৌশল বুঝতে পারেননি। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে অচেতন, কমিশনার কে সি দে’র নির্দেশে গুর্খা সৈন্যরা ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলিতে, বেয়নেটে তারা শ্রমিকদের হত্যা শুরু করে নির্বিচারে। আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। রাতের অন্ধকারে অনেক লাশ গুম করে ফেলে গুর্খা বাহিনী। হাজার হাজার চা-শ্রমিককে পেট কেটে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। চা-শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় মেঘনা নদীর পানি। কত মানুষ সে রাতে খুন হন এর কোনো সঠিক হিসাব নেই। মুল্লুকে আর ফেরা হয় না চা-শ্রমিকদের।

এখন চাঁদপুর পৌরসভার মূল হেড বড় স্টেশন এলাকাটি শত বছর ধরে চা-শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের সাক্ষ্য দিচ্ছে। কিন্তু চা-শ্রমিকদের সেই আন্দোলনের কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। জেলা প্রশাসনের কাছে সেই ঘটনার নথিও নেই। ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসনের প্রকাশ করা ‘চাঁদপুর পরিক্রমা: ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইতে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই।

সেদিন গুর্খা সৈন্যরা বাধায় হাজার হাজার চা শ্রমিক মৃত্যবরণ করেন এবং সেদিনের ইতিহাসের জঘন্যতম, অমানবিক ও পাশবিক হত্যাকান্ডের জন্য তারা আর নিজের ভূমিতে ফিরে যেতে পারেন নি। সেই থেকে চা শ্রমিকরা সিলেট ও চট্টগ্রামে দিবসটিকে ‘মুল্লুকে চলো দিবস’ পরে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কয়টি ঘৃন্যতম হত্যাকান্ড ঘটেছে তার মধ্যে বৃটিশ ভারতের ১৯২১ সালের ২০ মে একটি অন্যতম হত্যাকান্ড। এর সঠিক ইতিহাস বহুদিন যাবৎ ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কালের বিবর্তনে চা শ্রমিকদের চেষ্টায় আবারো এই বিষয়টি উন্মুক্ত হয়েছে। এর তাৎপর্য বিশাল।

মূলত বিভিন্ন চা বাগানে ছোট পরিসরে দিবসটি পালন করা হতো। বয়োজ্যেষ্ঠ চা শ্রমিকদের নিকট হতে এই সব তথ্য সংগ্রহ করে চা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত চা বাগানগুলোতে এই দিবসটি পালন করে আসছে। তবে চা বাগানের শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের প্রচেষ্টায় এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (লোবার হাউস)-এর মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের ২৪১টি চা বাগানে একযোগে শ্রমিকরা এই দিনটিকে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (লোবার হাউস) সহ বিভিন্ন চা শ্রমিক এবং সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি এই দিবসটিকে যেন সরকারিভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। যে মেঘনার জল চা শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সেই মেঘনাপাড়ে এর কোনো স্মৃতিচিহ্নই এখন আর নেই। এমনকি সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভও। ২০০৮ সাল থেকে দেশের ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা প্রতিটি বাগানে অস্থায়ী বেদী নির্মাণ করে এই দিনটিকে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। ব্রিটিশ উপনিবেশ চলে গেছে,পাকিস্তান আমলও চলে গেছে। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৫৩ বছর পরও দিবসটিকে যদি সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় তবু বহু চা শ্রমিকের আত্মা শান্তি পাবে। পৃথিবী কোথায় এগিয়ে গেছে ….. বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে ৫৩ বছরে পদার্পন করেছে অথচ আজও চা শ্রমিকরা নিম্নমজুরি আর মানবেতর জীবন পার করছে। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে আমরা সবাই মনে করি …….কিন্তু কি করলে চা শ্রমিকদের জীবনাবস্তার পরিবর্তন হবে তা না ভেবে আমরা চিন্তা করছি এই ডিজিটাল যুগে এসেও কিভাবে দমিয়ে রাখা যায় চা শ্রমিকদের।

আমরা যদি মুল্লুক চলো’ আন্দোলন এবং এর প্রেক্ষাপট চিন্তা করি তাহলে দেখবো মুল্লুক চলো’ আন্দোলন ১৯২১ সালে আসাম অঞ্চলে ব্রিটিশ চা বাগানে কর্মরত চা শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত একটি বৃহত্তর বিদ্রোহ। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল চা শ্রমিকদের শোষণ ও মানবেতর জীবনযাত্রার প্রতিবাদে তাদের নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

এই আন্দোলনের মূল কারন কারণ ছিলো: কঠোর শর্তের চুক্তি: চা শ্রমিকদেরকে অত্যন্ত কঠিন শর্তের চুক্তিতে কাজ করতে বাধ্য করা হত। খারাপ কাজের পরিবেশ: চা বাগানে শ্রমিকদের জন্য কাজের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত কঠোর ও অমানবিক। স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের অভাব: চা শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের অভাব ছিল। দৈনিক জীবনযাত্রার মান: শ্রমিকদের দৈনিক জীবনযাত্রার মান ছিল খুবই খারাপ এবং তারা অত্যন্ত কম মজুরি পেতেন।

আমরা যদি বর্তমান পরিস্থিতি দেখি তাহলে ২০২১ সালের প্রেক্ষিতে, চা শ্রমিকদের জীবনে কিছু উন্নতি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা এখনও বৈষম্য ও শোষণের শিকার হচ্ছেন। জীবনযাত্রার মান কাজের পরিবেশ: চা শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও এখনও তা যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদেরকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থান: বর্তমান সময়ে চা শ্রমিকদের জন্য কিছু স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। মজুরি: চা শ্রমিকদের মজুরি এখনও অনেক ক্ষেত্রেই খুবই কম। তাদের দৈনিক মজুরি এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা প্রায়শই পর্যাপ্ত নয়।

এখন দরকার পরিবর্তন ও স্বীকৃতি

এখন চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি সরকারি, বেসরকারি এবং সমাজের সকল স্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব।

দিবসটি উপলক্ষ্যে কিছু সুপারিশ নিম্নরূপ:

Manual6 Ad Code

১. মজুরি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুবিধাবৃদ্ধি করা

ন্যায্য মজুরি: শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা। মজুরির হার নিয়মিত পর্যালোচনা এবং বৃদ্ধি করা।
অতিরিক্ত সুবিধা: বোনাস, পেনশন, স্বাস্থ্যবীমা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা।

Manual8 Ad Code

২. স্বাস্থ্যসেবাবৃদ্ধি করা

Manual8 Ad Code

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র: চা বাগান এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা।
স্বাস্থ্যবীমা: শ্রমিকদের এবং তাদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করা।
প্রতিষেধক ও চিকিৎসা: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিষেধক প্রদান করা।

৩. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

শিক্ষা ব্যবস্থা: চা বাগান এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা এবং তা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা।
বৃত্তি: শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা।
কারিগরি প্রশিক্ষণ: শ্রমিকদের এবং তাদের সন্তানদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যাতে তারা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

৪. বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা

বাসস্থান উন্নয়ন: শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, যাতে তারা বিপদে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।

৫. কর্মপরিবেশ ও অধিকার

কর্মপরিবেশ উন্নয়ন: কাজের পরিবেশ উন্নত করা, যাতে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারে।
কাজের সময় ও শর্ত: কাজের সময় ও শর্তাবলী উন্নত করা, যাতে শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
অধিকার সচেতনতা: শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শ্রমিক সংগঠনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।

৬. শ্রমিক সংগঠন ও এনজিওর ভূমিকা

শ্রমিক সংগঠন: একমাত্র শ্রমিক সংগঠনটির কার্যকর ভূমিকা বৃদ্ধি করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা।
এনজিও: বিভিন্ন এনজিও এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প চালানো।

৭. সরকারের ভূমিকা

নীতি ও আইন প্রণয়ন: চা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় নতুন নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
নিয়মিত পরিদর্শন: চা বাগান এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন এবং সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৮. জনসচেতনতা ও গবেষণা

জনসচেতনতা: সমাজের বিভিন্ন স্তরে চা শ্রমিকদের সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবেষণা ও উন্নয়ন: চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

সবশেষে আজ ২০ মে চা শ্রমিক দিবসে বলতে চাই চা শ্রমিক ঐতিহাসিক প্রতারণার শিকার এক জনগোষ্ঠী। প্রতিবছর এই দিনটি ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষভাবে ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলন নামেও পরিচিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ঘটনাটি অনেকটাই অগোচরে রয়ে গেছে। আর শত বছর পরেও দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারেননি চা শ্রমিকরা। তাই ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি তুলেছেন সাধারণ চা শ্রমিক সহ বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ । চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকারের, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের, এনজিও এবং সমাজের সকল স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণই হতে পারে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
#

পারভেজ কৈরী
জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়নকর্মী
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
তারিখ: ২০/০৫/২০২৪ ইং

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ