পারিবারিক কৃষিতে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০ দফা সুপারিশ

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২৫

পারিবারিক কৃষিতে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০ দফা সুপারিশ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৫ মে ২০২৫ : পারিবারিক কৃষি নির্ভর মানুষের জন্য কমপক্ষে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ১০ দফা অগ্রাধিকার সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে ২০২৫) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘জনগণের অংশীদারিত্বে জনমুখী বাজেট চাই’ শীর্ষক সেমিনারে এই সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশে বলা হয়েছে, গ্রামীণ নারীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ৪৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে। যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ৬৭ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে, যার অন্তত ৪০ শতাংশ যুব নারীদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে, যার ৬০ শতাংশ সমতলের এবং ৪০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি-ভূমি-জলাসংস্কারের সাথে সম্পৃক্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ৫৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে। নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে। চা জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ২৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে। নদী-ভাঙা মানুষের জন্য বরাদ্দ কমপক্ষে ২৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

এএলআরডি’র চেয়ারপারসন খুশী কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে উন্নয়ন গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, প্রান্তিকীকরণ বিষয়টি অনেক ধরণের বৈশিষ্ট্যের আদলে দেখার সুযোগ রয়েছে।

Manual4 Ad Code

জীবিকা, ভূমির অভাব, পরিচয় এবং নগর ও পরিবেশ ইত্যাদি নিরীখে প্রান্তিকীকরণের বিষয়টি আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অস্তিত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- পাহাড়ী অঞ্চলে যারা আছে বম, মারমা তারা পরিচয় সংকটে আছেন, হিজড়া জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয় সংকটে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল এই সংকটগুলোকে চিহ্নিত করে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা। মযার্দা ও ন্যায়ের প্রতিফলন বাজেটে থাকতে হবে।

বক্তব্য রাখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খায়রুল চৌধুরী। ছবি – আরপি নিউজ

Manual1 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী বলেন, আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার, সামরিক সরকার ও জনমতের সরকার দেখতে পেয়েছি। বর্তমানে জনমতের সরকারের প্রতিনিধিরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করে আসছেন। এই জনপ্রতিনিধিরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্খা ও চাহিদাকে কিভাবে আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত করে তা অমরা দেখতে আগ্রহী। বিকল্প ভাবনার বাজেট যদি উপস্থাপন করা যেতো তবে বাজেট আলোচনা আরো ফলপ্রসূ হতে পারতো। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচী থাকে। তিনি উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের চিত্র নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার প্রস্তাব দেন।

Manual5 Ad Code

সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, বাজেট প্রণয়ণের ক্ষেত্রে নিয়ম-পদ্ধতি পরিবর্তন হওয়া দরকার। বাজেট প্রণয়ণের আগে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে যাওয়া দরকার, তাদের সাথে আলোচনা করা দরকার এবং বাজেটে সকল শ্রেণির মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন থাকা দরকার। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সুচিন্তিত বরাদ্দ রাখতে হবে, যাতে প্রান্তিক মানুষ স্বল্প ও প্রয়োজনে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে পারে। মানুষের কর্মশক্তি উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার প্রদানের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে, খেলাধুলার সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।

এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাজেটের সুপারিশগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে যেসকল খাতে আসন্ন বাজেটেই বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব।

Manual1 Ad Code

তিনি আরো বলেন, বাজেটে আমরা একটি যৌক্তিক অংশ বরাদ্দ চাই। তবে তা করতে হলে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাজেটের সঠিক চাহিদাপত্র তৈরি করে তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ