সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৫ মে ২০২৫ : “বৈষম্য দুর কর, চা শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ কর, চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলে ধরুন, চা শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে ন্যায্য মজুরি, ভূমি অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠায় ৭ দফার সংগ্রামকে শক্তিশালী করুন।”- এইসব শ্লোগান ও দাবী নিয়ে আজ শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চা শ্রমিক কনভেনশন।
আজ রবিবার (২৫ মে ২০২৫) সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গল শহরস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মঈনুর রহমান মগনু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) হবিগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সিলেট জেলা আহবায়ক আবু জাফর, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবুল হাসান।
এছাড়াও আলোচনা করবেন বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি এবং বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কনভেনশন সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ জানান, কনভেনশনে আপনার অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতা চা জনতার রুটি-রুজির সংগ্রামের পাশাপাশি সার্বিক মুক্তির সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে।
“বৈষম্য দুর কর, চা শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ কর, চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলে ধরুন, চা শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে ন্যায্য মজুরি, ভূমি অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠায় ৭ দফার সংগ্রামকে শক্তিশালী করুন।”- এইসব শ্লোগান ও দাবী নিয়ে শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিতব্য চা শ্রমিক কনভেনশনের সফলতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন উপযোগী যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সামান্য কিছু সুযোগ-সুবিধাসহ দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা মজুরিতে আট ঘন্টা, কখনো-বা আরো অধিক সময় ধরে কাজের বিপরীতে এই সামান্য পারিশ্রমিক শোষণ-বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থি। মজুরী বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবীনামা নিয়ে দরকষাকষি ও আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাগান মালিকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করতে হবে ও সরকারকেও চা-শ্রমিকদের দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করে ন্যায্য ও মানবিক উদ্যোগ নিতে হবে। একইসাথে, চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সম-পর্যায়ের খাতের সর্বনিম্ন মজুরি বিবেচনায় নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবন ধারণের উপযুক্ত ও চা-শ্রমিকদের নিকট গ্রহণযোগ্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নির্ধারণে বাগান মালিক, বাংলাদেশীয় চা সংসদ, শ্রম অধিদপ্তর ও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রতি দুই বছর পরপর চা-শ্রমিক ও বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে মজুরি সংক্রান্ত চুক্তি নবায়নের রীতি রয়েছে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মজুরি নির্ধারণে বাস্তবে একতরফাভাবে বাগান কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তথাপি দীর্ঘদিন ধরে চা-শ্রমিকরা মজুরি চুক্তির বাইরে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির এই সময় চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মাত্র ৮ টাকা ৫০ পয়সা মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব চা-শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি অবজ্ঞা ও নিছক উপহাসমূলক অধিকার লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছু নয় উল্লেখ করে তিনি বলছেন, চা-শ্রমিকদের প্রাপ্ত আবাসনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েও একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, দেশের অন্য যে-কোনো খাতের তুলনায় চা শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন ও শোষণ-বৈষম্যমূলক। অথচ সার্বিক বিবেচনায় এ খাতটি অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, এখন পর্যন্ত কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য-উপাত্ত দিয়েও কেউ বলতে পারেননি যে, চা-বাগানের মালিক পক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা এমন কোনো অবস্থায় আছেন যে, যাদের অবদানের ওপর নির্ভর করে চা-শিল্প বিকাশমান, সেই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানে তারা অক্ষম। বরং এটি একটি লাভজনক বাণিজ্যিক খাত। অন্যদিকে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু মালিকপক্ষের মর্জির ওপর ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। চা শ্রমিকদের দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা অনুধাবনের পাশাপাশি সমতাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের নিকট গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশের “ন্যূনতম মজুরি বোর্ড” অন্যান্য খাতের ন্যূনতম মজুরি যেখানে কয়েক গুণ বেশি নির্ধারণ করেছে, সেখানে কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের “গাইড লাইন” উপেক্ষা করে বারবার চা বাগান মালিক পক্ষের নির্ধারণ করা ন্যূনতম মজুরির হার বহাল রেখে শ্রম মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি