কোভিড ভ্যাকসিনের ন্যায্য ও সাশ্রয়ী প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও সংহতি প্রয়োজন: রাবাব ফাতিমা

প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

কোভিড ভ্যাকসিনের ন্যায্য ও সাশ্রয়ী প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও সংহতি প্রয়োজন: রাবাব ফাতিমা

Manual6 Ad Code

নিউ ইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), ২৪ জুলাই ২০২০ : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন যে সকল দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে এর সাশ্রয়ী ও ন্যায্য বন্টন নিশ্চিতের কথা তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এক্ষেত্রে একটি ন্যায্যতাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন দেশে কোভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের অগ্রগতিসমূহকে খুবই উৎসাহব্যঞ্জক আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে ‘গ্লোবাল পাবলিক গুড’ হিসেবে পরিণত করতে নি:সন্দেহে সুদৃঢ় বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

গতকাল ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের গবেষণা, উন্নয়ন, সরবরাহ এবং এর সমতাভিত্তিক বন্টন কাঠামো’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। ইভেন্টটি যৌথভাবে আয়োজন করেন যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড তারিক আহমেদ এবং ইউনাইটেড ন্যাশন্স ফাউন্ডেশন এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও রাষ্ট্রদূত এলিজাবেথ কাউসেনস। অনুষ্ঠানটিতে কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিনসমূহের সার্বজনীন প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে ব্রিফ করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার টিকা, ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্যালস্ এর পরিচালক কেট ও ব্রায়েন এবং গ্যাভী (Gavi) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যারি-অ্যাঞ্জে সারাকা-ইয়াও।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আবারও জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে এই বিশ্বের সকলে এক অপরের সাথে সংযুক্ত। অতএব, বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্কতা ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা যদি পুন:সংক্রমণ রোধ করতে চাই, তাহলে প্রস্তুতি, প্রতিরোধ ও পুনরুদ্ধার বিষয়ে আমাদেরকে একসাথে এবং কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে”। এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভ্যাকসিনের অপরিসীম গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রফেসর সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অক্সফোর্ড জেনার ইনস্টিটিউট টিমের কাজের ভূয়সী প্রসংশা করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। কোভিড-১৯ এর একটি কার্যকর ও নিরাপদ ভ্যাকসিন তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ট্রায়াল সফলকাম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

গতমাসে যুক্তরাজ্য আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল ভ্যাকসিন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভী, এবং অন্যান্য বেসরকারি অংশীদার গৃহীত ‘এসিটি অ্যাক্সিলেটর অ্যান্ড কোভাক্স ফ্যাসিলিটি’ পদক্ষেপটিতে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঔষধ শিল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসকল ঔষধ কোম্পানিগুলো আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে ১৪৫টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরসহ ওইসিডিভুক্ত দেশসমূহ। বাংলাদেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ ভ্যাকসিন উৎপাদনে এসকল ঔষধ কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও সামর্থের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, যদি মেধাসত্ত্বের অধিকার অবলোপন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয় তবে বাংলাদেশি ঔষধ কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক সরবরাহের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে সক্ষম।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ