সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “শহীদ কমরেড পবন তাঁতী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট তিনি। ‘৭১-এর ৫ ডিসেম্বর কমরেড পবন কুমার তাঁতী শহীদ হন। তাঁর এই অসামান্য অবদান ও আত্মদান সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া দুঃখজনক। তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের সৈনিক। তিনি আর্থসামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তাঁকে স্মরণ করলে, তাঁকে ধারণ করতে হবে। আর তাই শোষণ বৈষম্যহীন জনগণের গণতান্ত্রিক আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে শহীদ পবন তাঁতীর আদর্শে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সামগ্রিক মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।”
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, শহীদ পবন তাঁতী স্মরণে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজঘাট চা বাগানের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, চা শ্রমিকবৃন্দ, ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় যুবকদের সার্বিক সহযোগিতায় শহীদ পবন তাঁতী স্মৃতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এ স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাম্পারাই চা বাগানের স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ধনঞ্জয় যাদব, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক দেশ বুলেটিন পত্রিকার প্রতিনিধি কমরেড দেওয়ান মাসুকুর রহমান, বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি পলাশ তাঁতী, ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ।
সাবেক পঞ্চায়েত সভাপতি আশোক ব্যানার্জির সভাপতিত্বে ও রাজঘাট ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা রিপন বুনার্জীর উপস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজঘাট ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা রঞ্জুস তাঁতী, স্মৃতিচারণ করেন রাজঘাট ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা ও শহীদ পবন তাঁতীর নাতি পল্লব কুমার তাঁতী।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, শহীদ পবন তাঁতীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, ‘’তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের। তিরিশ লাখ মানুষের জীবনদানসহ এ দেশের স্বাধীনতার জন্য সরকারি হিসাবে লাখ, বেসরকারি হিসেবে প্রায় পাঁচ লাখ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন, পনের লাখেরও বেশি মানুষ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন ঘাতক বাহিনীর হাতে নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক কোটি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিবেশী ভারতে গিয়ে শরণার্থীর বিড়ম্বিত জীবন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
১৯৭১-এর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ভিত্তিতে এক পক্ষকাল সময়ের ভেতর ’৭১-এর ১০ এপ্রিল প্রণীত হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যা ছিল নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত ভিত্তি।
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিছক একটি ভূখণ্ডে লাভ কিংবা পতাকা বদলের জন্য হয়নি। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধ। দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সার্বিক মুক্তির আশায়। জনগণের এই আকাক্সক্ষা মূর্ত হয়েছিল ’৭২-এর সংবিধানে।
ষাটের দশকে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনে বামপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব সমাজতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয় করেছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি, ন্যাপ (ভাসানী ও মোজাফফর)সহ অংশগ্রহণ ও ভূমিকা বিশাল।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা, বাঙালি জাতিসত্তার বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং বাংলাদেশে গণহত্যার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
সমগ্র জাতির চেতনায় স্বাধীনতা ও শোষণ-পীড়ন মুক্তির যে বোধ সঞ্চারিত করে তা মূর্ত হয়েছে পরবর্তী নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে, যা ছিল সার্বিক অর্থে একটি গণযুদ্ধ।
’৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের এই চার মূলনীতিকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি