শ্রীমঙ্গলে জলমহাল ও পলো উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা: আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে জলমহাল ও পলো উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা: আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ : শ্রীমঙ্গলে জলমহাল ও পলো উৎসবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে পৌর অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভূনবীর ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।

Manual4 Ad Code

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুহিবিল্লাহ আকন্দ, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম, কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম,এ মতলিব, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন আরাফাত রবিন, মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিছলু আহমেদ, সাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান দেবাশীষ দেব রাখু, ভূনবীর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এহাওর মেম্বার, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ সালাউদ্দিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো.কামরুল ইসলাম, এনসিপি’র সমন্বয়ক নিলয় রশিদ তম্ময়সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

জলমহাল দখল–বাণিজ্য ও নিষিদ্ধ জাল নিয়ে ক্ষোভ

Manual2 Ad Code

সভায় বক্তব্যে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মৎস্যজীবীদের নামে ইজারা নিয়ে ইজারাকৃত জলমহালের বাইরে হাওরের বিশাল এলাকা দখল করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে। ফলে সাধারণ মানুষ পলো উৎসবে অংশ নিতে পারেন না, এমনকি হাওরে মহিষ চরাতেও বাধার সম্মুখীন হন। এসব অবৈধ দখল ও অনিয়মেরই বহিঃপ্রকাশ সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনার কারণ বলে তারা দাবি করেন।

মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষ থেকে একজন বক্তা জানান, তাদের তিনটি সমবায় সমিতি নীতিমালার বাইরে গিয়ে মাছ শিকার করে না। তবে অন্য কিছু সমবায় ও ব্যক্তির কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।

ইউএনওর নির্দেশনা: সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত পলো বাওয়া বন্ধ

ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন সভায় বলেন, ভূনবীর ইউনিয়নের সরকারি ২০টি জলমহালের সীমানা চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত পলো বাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। উপস্থিত সবাই এ নির্দেশনায় সম্মতি জানান।

সঠিক তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ বিষয়ে মামলা প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, নিরপরাধ কেউ আইনের আওতায় আসবে না। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় স্থানীয় জনগণের বক্তব্য ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জলমহালকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

Manual5 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ