১৪ ফেব্রুয়ারি এরশাদ সামরিক স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

১৪ ফেব্রুয়ারি এরশাদ সামরিক স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৩ সালের এই দিনে বসন্তের পলাশ রক্তাত্ত হয় জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, দীপালি, কাঞ্চন-সহ নাম না জানা আরও অনেকের রক্তে।

Manual3 Ad Code

ঘটনার সূত্রপাত, স্বৈরাচার ও সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের আমলে মজিদ খান শিক্ষা কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত কুখ্যাত শিক্ষানীতি প্রণয়ন নিয়ে। ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে ছাত্রসমাজ এই শিক্ষানীতিকে গণবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি আখ্যা দিয়ে ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেয়। এই ৩ দফা দাবির মধ্যে ছিল মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল, সব ছাত্র ও রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্রসমাজ আন্দোলন চালিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

৮ নভেম্বর পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল আমিনসহ ছাত্ররা। ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়।

Manual4 Ad Code

১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে ১৪টি ছাত্র সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সারা দেশে গণস্বাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করে। একইসঙ্গে চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনমত তৈরির কাজ।

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হলে সরকার হুমকি দেয়। সামরিক শাসক এরশাদ ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলে ছাত্রসমাজতা প্রত্যাখ্যান করে।

১১ জানুয়ারির আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করা হলে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ১১ জানুয়ারি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হন ছাত্ররা। দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে এরশাদ সরকার। ছাত্ররা যেন সচিবালয়ে না যেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করে সামরিক সরকার। ১১ জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণবশত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হাতে নেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি, গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যান। মিছিলটি হাইকোর্ট এলাকায় গিয়ে ব্যারিকেডের কারণে থেমে যায়।

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা যখন তারের উপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন, তখন পুলিশ গরম পানি ছিটাতে শুরু করে। লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপও শুরু করে পুলিশ। ছাত্ররা এ সময় ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল নামের এক শিক্ষার্থী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারতে থাকে পুলিশ। এক পর্যায়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Manual4 Ad Code

গুলির সময় প্রাণ বাঁচাতে ছাত্ররা আশ্রয় নেন পাশের শিশু একাডেমিতে। সেখানে চলছিল শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু তাতেও পুলিশ থামেনি। পুলিশের গুলিতে এ সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শিশু দীপালি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। অন্য শিশু ও অভিভাবকদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে চাইলেও পুলিশ ঢুকতে দেয়নি। এর মধ্যে ছাত্রদের লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ।

এদিকে জয়নালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ফুঁসে উঠেন ছাত্ররা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী জয়নালকে শেষ বিদায় জানাতে ছাত্র-শিক্ষক, জনতার ঢল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়। জানাজায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের উপর ফের হামলা চালানো শুরু করে পুলিশ ও বিডিআরের যৌথ বাহিনী। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশের সমাবেশ থেকে গণহারে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করে তারা। শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করতে গেলে লাঠিচার্জ শুরু করে যৌথবাহিনী। আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কলাভবন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকলে তাদের টেনে বের করে পিটিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জয়নালের লাশের সন্ধানে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছিল চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওপর। কেবল সরকারি হিসেব মতেই এদিন ১ হাজার ৩৩১ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ কলেজের সামনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ২ তরুণকে। তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২ ছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। সদরঘাটে এক শিশুকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করা হয়। এই আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল চট্টগ্রামেও। সেখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন কাঞ্চন নামের একজন। এসবের প্রতিবাদে ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকার নানা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে চলে দিনভর তুমুল সংঘর্ষ। চট্টগ্রামে শহীদ হন মোজাম্মেল নামের এক ছাত্র। এক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি মোট কতজন শহীদ হয়েছিলেন, তা আজও অজানা। তবে জাফর, জয়নাল, দীপালি, আইয়ুব, ফারুক, কাঞ্চনসহ বেশ কয়েকজনের নাম জানা যায়। এদিন সব লাশই গুম করেছিল এরশাদের পেটোয়া বাহিনী।

ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৭ ফেব্রুয়ারি সামরিক প্রশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘জনগণের রায় ছাড়া শিক্ষা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ এক প্রেস নোটে বলা হয়, আটক ১ হাজার ২২১ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানীতি স্থগিত করে এরশাদ সরকার।

সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি লাল সালাম।

এরশাদ স্বৈরাচার প্রতিরোধে ১৯৮৩-এর মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র গণআন্দোলনকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

১৪ ফেব্রুয়ারি : রক্তে লেখা প্রতিরোধ

—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

১৪ ফেব্রুয়ারি—
এদিন গোলাপ নয়,
এদিন কাঁটার গন্ধে ভেজা রাজপথ,
এদিন হৃদয়ের ভেতর বাজে না প্রেমের গান,
বাজে বুটের শব্দ,
বাজে বুলেটের চিৎকার।

এদিন বসন্ত নয়,
এদিন আগুন—
লাল রঙে লেখা সময়ের নাম,
জয়নালের বুকফাটা আর্তনাদ,
দিপালীর নিথর চোখ,
কাঞ্চনের রক্তে ভেজা চট্টগ্রাম।

১৪ ফেব্রুয়ারি—
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে
প্রথম অগ্নিস্নান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—
কলাভবনের দেয়ালে দেয়ালে
লাল-কালো অক্ষরে লেখা ছিল
একটাই শব্দ—
প্রতিরোধ।

চুনে মুছে দিয়েছিল পুলিশ,
রাতের অন্ধকারে
ফিরে এসেছিল অক্ষর,
কারণ ইতিহাস
কখনো চুনে ঢাকা পড়ে না।

সেই দেয়ালে লেখা ছিল—
শিক্ষা পণ্য নয়,
শিক্ষা অধিকার।
শিক্ষা সাম্প্রদায়িক নয়,
শিক্ষা বিজ্ঞানভিত্তিক।
শিক্ষা বাণিজ্য নয়,
শিক্ষা মুক্তির হাতিয়ার।

মজিদ খানের শিক্ষানীতি—
শিশুর কাঁধে বোঝা চাপানো নীতি,
মাতৃভাষার বুকে
ধর্মের খড়্গ বসানো নীতি,
গরিবের দরজায় তালা ঝুলানো নীতি,
ধনীর সন্তানের জন্য
খোলা রাখা সিঁড়ি।

এই নীতির বিরুদ্ধে
জেগে উঠেছিল ছাত্রসমাজ,
মধুর ক্যান্টিনে
গড়ে উঠেছিল সংগ্রাম পরিষদ,
হাত ধরে হাত,
দল ধরে দল—
একটি সর্বাত্মক লড়াই।

১৪ ফেব্রুয়ারি—
সকালটা ছিল উৎসবের মতো,
মেয়েরা মিছিলে বসেছিল সামনে,
তারকাঁটার সামনে
শান্ত প্রতিবাদের দৃঢ়তা।

হঠাৎ—
রঙিন গরম পানি,
তারপর লাঠি,
তারপর গুলি।

জয়নাল পড়ে গেল—
কার্জন হলের উঠোনে,
গুলির পর বেয়নেট,
বেয়নেটের পর নিথর দেহ।

বাংলার পথ ভাসলো রক্তে,
রক্তে লেখা হলো নতুন অধ্যায়।

শুধু জয়নাল নয়,
শিশু দিপালী—
সংস্কৃতির অনুষ্ঠানে আসা এক মুখ,
গুলিতে ঝরে পড়া এক স্বপ্ন,
লাশ গুম হলো,
কিন্তু প্রশ্ন গুম হলো না।

কাঞ্চন পড়লো চট্টগ্রামে,
জাফর, জয়নাল, দীপালী—
দশটি নাম,
হাজারো মুখ।

সেদিন ক্যাম্পাস ছিল যুদ্ধক্ষেত্র,
পুলিশ, বিডিআর, সেনাবাহিনী—
রাষ্ট্র তার সমস্ত দাঁত বের করেছিল
নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে।

হল, ক্লাসরুম,
উপাচার্যের কার্যালয়—
কোথাও ছিল না আশ্রয়।

মেয়েদের চুল ধরে টানা হলো,
শিক্ষকের হাত ভাঙা হলো,
হাজারো ছাত্র
ট্রাকে তুলে নেওয়া হলো।

রাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল—
ভয়ই হবে শাসনের ভাষা।

কিন্তু ভয় পিছু হটেছিল,
কারণ রক্ত ভয় মানে না।

১৪ ফেব্রুয়ারির পর
আর থামেনি আন্দোলন,
ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল
স্বৈরাচার পতনের ডাক।

নয় বছর—
কারাগার, গুম, হত্যা,
তবু পতন অনিবার্য।

১৯৯০—
স্বৈরাচারের পতন,
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল—
মুক্তি কি এটাই?

Manual1 Ad Code

এরপর এলো নতুন আগ্রাসন—
বাজারের শাসন,
শিক্ষার পণ্যায়ন,
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য,
টিউশন ফি, কোচিং,
ইংরেজি মাধ্যমের দম্ভ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অবহেলা,
ছাত্র সংসদ বন্ধ,
সিসি ক্যামেরার চোখে
গণতন্ত্র বন্দি।

এ এক নতুন ফ্যাসিবাদ—
একাডেমিক-প্রশাসনিক।

আর ঠিক তখনই—
রক্তে ভেজা দিনটিকে
মুছে দিতে নামলো কর্পোরেট আগ্রাসন।

১৪ ফেব্রুয়ারি হলো
ভ্যালেন্টাইনের বাজার,
গোলাপ, কার্ড, অফার,
“আমি আর তুমি”র বন্দিত্ব।

জয়নাল হারিয়ে গেল,
দিপালীর নাম ভাসলো না,
ইতিহাস চাপা পড়লো
ডিসকাউন্টের নিচে।

কিন্তু আমরা ভুলবো না।

কারণ
এই দিন প্রেমের নয়,
এই দিন প্রতিরোধের।
এই দিন শরীরের নয়,
এই দিন চেতনার।

এই দিন শিখিয়েছে—
শিক্ষা উপনিবেশ নয়,
দেশ বিক্রির পণ্য নয়,
গণতন্ত্র ভিক্ষা নয়।

আজও ডাক দিচ্ছে ইতিহাস—
তরুণদের দিকে তাকিয়ে।

জাফর, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন—
তোমাদের রক্তের ঋণ
এখনো শোধ হয়নি।

ব্যাংক লুটেরা বেঁচে আছে,
সাম্প্রদায়িকতা দাপট দেখায়,
নারী নিপীড়ন বাড়ে,
দ্রব্যমূল্য আকাশ ছোঁয়।

তাই আজও দরকার—
সংগঠিত লড়াই,
বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা,
সমতা ও ন্যায্যতার বাংলাদেশ।

আসুন,
১৪ ফেব্রুয়ারিতে আবার বলি—

স্বৈরাচার মানি না,
শিক্ষা বাণিজ্য চাই না।
অশ্লীলতার বাজার নয়,
মানবিক সংস্কৃতি চাই।

এই দিন
গোলাপ নয়,
লাল পতাকা তুলুক আকাশে।

১৪ ফেব্রুয়ারি—
স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস,
রক্তে লেখা
অমর প্রতিজ্ঞা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ