টিভি সাংবাদিক মাসুমা আক্তারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

টিভি সাংবাদিক মাসুমা আক্তারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : টেলিভিশন সাংবাদিক মাসুমা আক্তারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual8 Ad Code

পেশাগত নিষ্ঠা, সাহসী সংবাদ সংগ্রহ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণের জন্য পরিচিত এই তরুণ সাংবাদিকের অকালপ্রয়াণে আজও শোকাহত সহকর্মী, পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা।

মাসুমা আক্তার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এখন’ টিভির রাজশাহী ব্যুরোতে প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সোয়া চারটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ত্রিশের কোঠায়।

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) কুমিল্লায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মাসুমা। সেদিন বিকেলে ছুটি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন তিনি। কুমিল্লায় বাস থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে মাসুমা ও তাঁর স্বামী রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন।

Manual6 Ad Code

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। দুর্ঘটনায় মাসুমা আক্তার মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চারদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শোক ও স্মরণ

Manual7 Ad Code

মাসুমার মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীরা তাঁকে একজন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও মানবিক সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করেন। এখন টিভির রাজশাহী অফিসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাকিবুল হাসান বলেন, “মাসুমা ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন সংবাদকর্মী। মাঠে কাজ করার সময় তিনি কখনো দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তাঁর অকালপ্রয়াণ আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজশাহী ও তাঁর গ্রামের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে দোয়া মাহফিল ও মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সহকর্মীরাও নিজ নিজ কর্মস্থলে তাঁকে স্মরণ করছেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

মাসুমা আক্তারের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। তিনি রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

Manual3 Ad Code

২০১৪ সালে স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু। দীর্ঘ সময় রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে কাজ করার পর ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ‘এখন’ টিভির রাজশাহী ব্যুরো অফিসে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।

স্মৃতিতে অম্লান

পরিবারের সদস্যরা বলেন, মাসুমা ছিলেন দায়িত্বশীল কন্যা, স্নেহশীলা স্ত্রী এবং সবার প্রিয় সহকর্মী। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও সম্ভাবনাময় পেশাজীবন আজও পরিবারকে নাড়া দেয়।

সাংবাদিক মহল মনে করছে, মাসুমা আক্তারের মতো তরুণ সংবাদকর্মীর অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, গণমাধ্যম অঙ্গনেরও বড় ক্ষতি। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সহকর্মীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।
মাসুমা আক্তার নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, নিষ্ঠা ও স্মৃতি সহকর্মী ও স্বজনদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ