হবিগঞ্জের সমাজসেবী ও শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ বেলালের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

হবিগঞ্জের সমাজসেবী ও শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ বেলালের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : হবিগঞ্জ শহরের সর্বজনপ্রিয় মুখ, পুরাণ মুন্সেফী নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ বেলালের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual4 Ad Code

২০২৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, শুভানুধ্যায়ী, প্রাক্তন সহকর্মী ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ বেলাল ছিলেন ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন এক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী। তিনি সুলতানশীর প্রখ্যাত জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ (টেনু মিয়া) সাহেবের নাতি। তাঁর পিতা ছিলেন সাবেক পৌর কমিশনার প্রয়াত সৈয়দ সাদ উল্লাহ (হেলাল মিয়া) সাহেব। পারিবারিকভাবে তিনি প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের সহধর্মিণী সৈয়দা তাহমিনা বেগম (সীমা)-এর মামাতো ভাই।

Manual1 Ad Code

শিক্ষাজীবনে সৈয়দ মোহাম্মদ বেলাল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ১৯৯৪ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করছিলেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা শিক্ষায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, একজন সমাজসেবী হিসেবেও তিনি এলাকায় সমাদৃত ছিলেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। তাঁর বিনয়ী আচরণ, সদালাপী স্বভাব ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তোলে।

Manual5 Ad Code

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ ইশফাক (রাতুল) ২০২০ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। কন্যা সৈয়দা নুসরাত তাবাসসুম অহনা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, “সৈয়দ মোহাম্মদ বেলাল ছিলেন একজন সৎ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ। সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অকাল প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী অংশ নেবেন।

Manual1 Ad Code

তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছেন। সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান হবিগঞ্জবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ