সাংবাদিক মনি আক্তারের ওপর হামলা: উদ্বেগ সাংবাদিক সমাজের

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২৬

সাংবাদিক মনি আক্তারের ওপর হামলা: উদ্বেগ সাংবাদিক সমাজের

Manual2 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার | চট্টগ্রাম, ০৩ মার্চ ২০২৬ : চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডের কালাম কলোনী এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এইচডি’র প্রতিনিধি সাংবাদিক মনি আক্তারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

হামলার পর থেকে তিনি নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual7 Ad Code

হামলার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ মার্চ ২০২৬) চট্টগ্রামের কালাম কলোনী এলাকায় মনি আক্তারের ওপর একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করে, যখন অভিযোগ ওঠে যে হামলাকারীরা তাকে তার নিজ বাসভবনেই অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

একজন নারী সাংবাদিকের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। দায়িত্ব পালনকালে কিংবা ব্যক্তিগত বাসস্থানে একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা সংবাদপেশার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

সাংবাদিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া

চ্যানেল এইচডি’র প্রতিনিধি মনি আক্তারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “একজন নারী সাংবাদিকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

সাংবাদিক সমাজের দাবি

সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে—
১. অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. সাংবাদিক মনি আক্তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে দ্রুত নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার সাহস না পায়।

Manual1 Ad Code

প্রশাসনের ভূমিকা

Manual2 Ad Code

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, “সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। সংবাদপেশার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ