বীর চট্টলার রাজনীতিক নীলুফার কায়সারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

বীর চট্টলার রাজনীতিক নীলুফার কায়সারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ : চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, বীর চট্টলার প্রখ্যাত রাজনীতিক ও সমাজসেবক নীলুফার কায়সারের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দোয়া-মাহফিল, কোরআন খতম, দুঃস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার ও পোশাক বিতরণ, ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম।

রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি

Manual1 Ad Code

নীলুফার কায়সার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের সহধর্মিণী। তিনি সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান সাবেক এমপি’র মা।

রাজনীতি, সমাজসেবা ও নারী উন্নয়নে তাঁর অবদান চট্টগ্রামসহ জাতীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

নারী উন্নয়ন ও সমাজসেবায় অবদান

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যুদ্ধাহত ও নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য বীরাঙ্গনা পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ওই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারী পুনর্বাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

Manual3 Ad Code

তিনি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে সংগঠনকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনের অবদান

রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, সর্বজনপ্রিয়তা ও পরোপকারিতার জন্য পরিচিত ছিলেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। চট্টগ্রামে মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সহকর্মীরা তাঁকে একজন দূরদর্শী, সৎ ও মানবিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশীলিত রুচিবোধসম্পন্ন, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব।

মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—

কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল,
এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ,
অসহায়দের মাঝে পোশাক বিতরণ,
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প,
স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।

স্মৃতিচারণ

রাজনৈতিক সহকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, নীলুফার কায়সার ছিলেন একজন মানবিক, দূরদর্শী ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক। নারী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলায় তাঁর অবদান চট্টগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁর আদর্শ, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

বীর চট্টলার নীলুফার
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

বীর চট্টলার আকাশ জুড়ে আজও শোকের ঢেউ,
নিভে যাওয়া প্রদীপ যেন আলো ছড়ায় নীরব নৈঃশব্দ্য বেয়ে ঢেউ।
স্মৃতিরা কাঁদে, সময় থামে, হৃদয় জুড়ে ব্যথা—
নীলুফার কায়সার নামটি আজও দীপ্ত ব্যঞ্জনা ব্যথা।

Manual2 Ad Code

যে নারী ছিলেন আলোকধারা, দৃঢ়তায় অবিচল,
মানবতার মমতার শিখা জ্বালিয়েছেন অবিরল।
রাজনীতির কণ্টক পথে হেঁটেছেন নির্ভীক প্রাণে,
সত্যের পক্ষে উচ্চারণ ছিল তাঁর প্রতিটি টানে।

চট্টগ্রামের বুকের ভেতর গেঁথে আছে তাঁর নাম,
সংগ্রামের সে দিনগুলোতে তিনি ছিলেন অবিরাম।
মুক্তিযুদ্ধের আহ্বানে যিনি জেগে উঠেছিলেন,
দেশমাতার মুক্তির তরে নিজেকে বিলিয়েছিলেন।

নারীর মুক্তি, সমাজ গঠন—ছিল তাঁর স্বপ্নচূড়া,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ ছিল অগ্নিশিখার মতো জ্বরা।
বীরাঙ্গনা মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে যিনি দিলেন হাত,
ভগ্ন হৃদয় জোড়া লাগাতে করলেন অক্লান্ত প্রভাত।

১৯৭২—নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতির দিন,
ধ্বংসস্তূপের মাঝে গড়লেন আশার অমলীন বীণ।
পুনর্বাসনের কেন্দ্র গড়ে দিলেন আশ্রয়,
অসহায় নারীর জীবনে জ্বালালেন নতুন আলোয়।

মহিলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অগ্রদূত,
সংগঠনের প্রতিটি স্তরে তাঁর পদচিহ্ন সুদূরসূত।
নেতৃত্বে ছিল দৃঢ়তা, হৃদয়ে ছিল মমতা,
রাজনীতিকে করেছেন মানবতার মহত্ত্বের সমতা।

সততা ছিল তাঁর অলংকার, ন্যায় ছিল তাঁর পথ,
সর্বজন প্রীতির আলোয় তিনি ভরিয়েছেন প্রতিক্ষণ রথ।
একজন আদর্শ নারী, এক নিবেদিত প্রাণ,
দেশ-সমাজ-মানুষের তরে দিয়েছেন জীবন দান।

পারিবারিক জীবনে তিনি স্নেহের অনির্বাণ দীপ,
সুগৃহিণীর সৌন্দর্যে ছিলেন অনুপম, অনুপম রূপসী স্নিগ্ধ সীমানার সীমানা সীমানার নীড়।
মমতার বাঁধনে গড়েছেন সংসার, ভালোবাসার নীড়,
তারই আলোয় আজও জ্বলে সন্তানের অন্তর স্থির।

Manual4 Ad Code

প্রখ্যাত কূটনীতিকের সহধর্মিণী হয়ে পাশে ছিলেন দৃঢ়,
আতাউর রহমান খান কায়সারের জীবনপথে ছিলেন অটুট শৃঙ্খলসূত্র।
রাজনীতি আর পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যে,
তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য প্রজ্ঞার প্রতিমায়।

আজ তাঁর কন্যা এগিয়ে চলেন সেই আলোর পথ ধরে,
মায়ের আদর্শ বুকের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলে ঘরে ঘরে।
উত্তরাধিকার শুধু রক্তে নয়, আদর্শে বেঁচে থাকে,
নীলুফারের নামটি তাই সময় পেরিয়ে আলোয় ডাকে।

২০০৯-এর সেই দিনটি—অন্ধকারে ঢেকে যায় প্রাণ,
ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ শেষে থামে তাঁর জীবনের গান।
৬৫ বছরের জীবনের প্রতিটি ক্ষণ ছিল দান,
দেশের তরে, মানুষের তরে, অবিরাম অবিরাম।

কিন্তু মৃত্যু কি পারে থামাতে আলোর প্রবাহধারা?
যে নারী জ্বালিয়েছেন শিখা, তিনি কি কখনো হারা?
সময় শুধু শরীর নেয়, নেয় না কর্মের দীপ্তি,
তাঁর আদর্শ আজও জাগে—চেতনার অনন্ত সৃষ্টিতে।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে ভরে মন,
দোয়া-মাহফিলের প্রার্থনায় জাগে শ্রদ্ধার স্পন্দন।
দুঃস্থের মুখে অন্ন তুলে, বস্ত্র দিয়ে ঢাকি ক্ষত,
তাঁর শেখানো মানবতার পাঠ আজও অম্লান সত্য।

স্বাস্থ্যসেবার ক্যাম্প বসে, সেবায় ভরে পথ,
অসহায়ের চোখে দেখি তাঁরই মমতার রথ।
প্রতিটি সেবায়, প্রতিটি দানে, প্রতিটি কল্যাণে,
নীলুফারের জীবনকথা বাজে অমর তানে।

হে মহীয়সী নারী, তোমার পথ চলা থামে নাই,
তুমি আছো প্রতিটি ন্যায়ের ডাকে, প্রতিটি সত্যের ঠাঁই।
তোমার নাম উচ্চারণে জাগে সাহস নতুন,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার অঙ্গীকার অনন্ত গুণ।

চট্টগ্রামের মাটি জানে তোমার পদচিহ্ন ভার,
সময়ের গর্ভে থেকেও তুমি আজও অমর।
ইতিহাসের পাতায় লেখা তোমার অবদান দীপ্যমান,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তুমি অনুপ্রেরণার গান।

তুমি ছিলে আলোর দিশা, তুমি ছিলে পথপ্রদর্শক,
অন্ধকারে তুমি জ্বালিয়েছো মুক্তির দীপ অবিরত।
নারীর ক্ষমতায়নের স্বপ্নে তুমি ছিলে অগ্রদূত,
তোমার পথেই এগিয়ে যাবে ভবিষ্যতের নতুন সূত্র।

শ্রদ্ধা জানাই তোমায় আজ, গভীর নতশিরে,
তোমার কর্ম হোক আলোকবর্তিকা এই জাতির তীরে।
যতদিন থাকবে বাংলা, যতদিন এই দেশ,
নীলুফার কায়সারের নাম জ্বলবে অনির্বাণ শেষ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ