সিলেট ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ এপ্রিল ২০২৬ : দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী ভারতকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আলোচনায় এসেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কৃতি সন্তান স্যামুয়েল রাকসাম। তার এই অসাধারণ কৃতিত্বে আনন্দ ও গর্বে ভাসছে পুরো শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলা। দেশজুড়েও তিনি পাচ্ছেন ব্যাপক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্যামুয়েল রাকসাম। ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে দলের জয়ে তার নৈপুণ্য ও পরিশ্রম ছিল প্রশংসনীয়। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এই জয়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্রীড়াবিদ ও বিশ্লেষকরা।
এদিকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা এই কৃতি ফুটবলারকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে তার নিজ এলাকার মানুষ। শ্রীমঙ্গলের ভৈরবগঞ্জ ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে তাকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় ভৈরবগঞ্জ বাজারস্থ কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
ভৈরবগঞ্জ ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সালেহ আহমেদ বলেন, “স্যামুয়েল রাকসাম আমাদের এলাকার গর্ব। তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে ফুটবলে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা চাই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়ে তাকে সম্মান জানাবেন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন।”
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, স্যামুয়েল রাকসাম ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং ভৈরবগঞ্জ ফুটবল একাডেমি থেকেই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের পথচলা শুরু। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি আজ জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে দেশের জন্য সাফল্য এনে দিয়েছেন, যা পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্যামুয়েল রাকসামের ফুটবল ক্যারিয়ার, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এছাড়া তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করা হবে।
এদিকে স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা মনে করছেন, স্যামুয়েল রাকসামের এই সাফল্য শ্রীমঙ্গলসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় ফুটবলের প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি করবে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে।
দেশের ফুটবলে এমন সাফল্য অব্যাহত থাকুক এবং স্যামুয়েল রাকসামের মতো আরও খেলোয়াড় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করুক—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এক অভিনন্দনবার্তায় স্যামুয়েল রাকসামকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের গারোলাইন, মাজডিহি ও কালাপুর এলাকার এই প্রতিভাবান ফুটবলার ভৈরবগঞ্জ ফুটবল একাডেমির ছাত্র হিসেবে দেশের জন্য যে সম্মান বয়ে এনেছে, তা পুরো জাতিকে গর্বিত করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্যামুয়েলের এই সাফল্য প্রমাণ করে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে।
তিনি স্যামুয়েলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবেন এবং বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশ্বদরবারে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, “অভিনন্দন স্যামুয়েল রাকসাম—দেশ এগিয়ে যাক, খেলাধুলা এগিয়ে যাক।”
এদিকে, একই সাফল্যে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের মাটি থেকে উঠে আসা স্যামুয়েল রাকসামের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রীমঙ্গলের মাটি জাগে আজ বিজয়ের উল্লাসে,
চা-বাগানের ঢেউ ওঠে রঙিন স্বপ্নের বাতাসে।
পাহাড়ঘেরা জনপদে আজ গর্বের দীপ্তি জ্বলে,
এক তরুণের পদচিহ্ন ইতিহাস গড়ে চলে।
নাম তার স্যামুয়েল—মাটির সন্তান অদম্য,
শৈশব কেটেছে যার সংগ্রামের রোদঝলমল অধ্যায় সম।
খালি পায়ে মাঠে দৌড়, চোখে ছিল স্বপ্নখানি,
ফুটবলের গোলক ঘিরে লিখত জীবনের বাণী।
ভৈরবগঞ্জের সেই মাঠ, সবুজ ঘাসের কোলে,
কত বিকেল কাটিয়েছে বল নিয়ে ছুটে চলে।
শিস বাজত, ঘাম ঝরত, পড়ত কিশোর প্রাণ,
তবু থামেনি স্যামুয়েল—লড়েছে অবিরাম।
আজ সেই ছেলেটিই দেশের জার্সি গায়ে,
দাঁড়িয়েছে গর্ব হয়ে বিশ্বের মহাকায় মঞ্চে।
সাফের রণাঙ্গনে বাজে তার দৃপ্ত পদধ্বনি,
ভারতের বিপক্ষে জয়—ইতিহাসে লিখে ধ্বনি।
বল তার পায়ে যেন আগুনের মতো দহে,
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে যায় মুহূর্তের মহে।
চোখে তার জয়ের আগুন, হৃদয়ে অটল শক্তি,
দেশের পতাকা বুকে নিয়ে ছুটে যায় অনির্বাণ ভক্তি।
যখন শেষ বাঁশি বাজে, স্তব্ধ হয় মাঠখানি,
বাংলার নাম উচ্চারিত—জয়ধ্বনিতে আকাশ টানি।
লাল-সবুজের পতাকা ওঠে বিজয়ের মহিমায়,
স্যামুয়েলের নামটি জ্বলে দেশের প্রতিটি প্রান্তায়।
শ্রীমঙ্গলের পথে পথে আজ মানুষের ঢল নামে,
ভৈরবগঞ্জে বাজে ঢাক, উৎসব জাগে থামে না থামে।
কালাপুরের আঙিনাতে সাজে সংবর্ধনার মঞ্চ,
গ্রাম থেকে শহর—সবাই আসে মিলন-উৎসব গড়তে রঞ্চ।
কেউ নিয়ে ফুল, কেউ গান, কেউ বা শ্রদ্ধার ভাষণ,
স্যামুয়েলকে ঘিরে আজ মানুষের আবেগের আয়োজন।
শিশুর চোখে স্বপ্ন জাগে—“আমিও হবো একদিন,”
এই তো সেই প্রেরণা, এই তো জয়ের সুরভি রঙিন।
সালেহ আহমেদের কণ্ঠে গর্বের উচ্চারণ,
“এই ছেলে আমাদেরই—তার হাতে দেশের সম্মান।”
একাডেমির সেই দিনগুলো, পরিশ্রমের দাগ,
আজকের এই বিজয়ে সবই হলো অনুরাগ।
সংসদ সদস্যের কণ্ঠে ধ্বনিত শুভকামনা,
“তরুণেরা পারে—যদি থাকে দৃঢ় প্রেরণা।”
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর সাধনায়,
বাংলার সন্তান জ্বলে ওঠে বিশ্বমানচিত্রে মহিমায়।
এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়,
এটি জাতির জেগে ওঠা—নতুন শক্তির পরিচয়।
এই জয় বলে—“বাংলা পারে, থেমে থাকে না,”
স্বপ্ন দেখে, লড়াই করে, জয় ছিনিয়ে আনে।
গ্রামের সেই কাঁচা রাস্তা, চায়ের সবুজ ঢেউ,
আজ যেন গেয়ে ওঠে—“স্যামুয়েল, তুমি আমাদের কেউ।”
তোমার ঘামে ভেজা দিন, অশ্রু-ঢাকা রাত,
সব মিলিয়ে গড়েছে আজকের এই উজ্জ্বল প্রভাত।
তুমি শুধু একজন খেলোয়াড় নও, তুমি এক প্রেরণা,
তুমি নতুন দিনের সূচনা, তুমি আগামীর বীজবপন।
তোমার পথ ধরে হাঁটবে আরও হাজার তরুণ,
বাংলার ফুটবল হবে একদিন বিশ্বজয়ের ধ্বজাধারী গুণ।
হে স্যামুয়েল, এগিয়ে চলো, থেমো না কোনোদিন,
তোমার পদচারণায় জাগুক নতুন স্বপ্নরঙিন দিন।
দেশের জার্সি গায়ে তুমি আমাদের অহংকার,
তোমার জয়গাথা গাইবে বাংলা বারবার।
শ্রীমঙ্গলের আকাশ আজ তোমার নামে নীল,
তোমার ছোঁয়ায় ফুটবল পেল নতুন প্রাণের ঢিল।
এই মাটি, এই মানুষ, এই ভালোবাসা সাথি,
তোমার পথচলায় থাকুক চিরকাল শক্তির বাতি।
জয় হোক খেলাধুলার, জয় হোক তরুণ প্রাণ,
বাংলাদেশ এগিয়ে যাক—এই হোক সবার গান।
স্যামুয়েলের জয়গাঁথা ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে,
বাংলার প্রতিটি হৃদয়ে জ্বালো অনন্ত সুরে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি